পরিবেশ কন্ঠ

সুন্দরবন রক্ষায় কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী


প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সুন্দরবন রক্ষায় কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ছবি: পরিবেশ কন্ঠ

দস্যুতা ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বন মন্ত্রণালয়।

সুন্দরবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নতুন করে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। শনিবার খুলনায় এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা ও পর্যটন খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তায় কোনো শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জলদস্যুতা ও অবৈধ সম্পদ আহরণ ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে ইতিপূর্বে দস্যুদের বড় অংশ আত্মসমর্পণ করলেও, নতুন করে অপরাধের বিস্তার রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন উন্মুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে অবৈধ কাঠ ও বন্যপ্রাণী পাচার রোধে বন বিভাগকে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি বা বন সম্পদ ধ্বংসকারী যেকোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমের নাজুক ভারসাম্যের জন্য পর্যটন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। সভায় প্লাস্টিক ও সিঙ্গেল ইউজ পলিমারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্বমানের পর্যটন মানদণ্ড নিশ্চিত করতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বন বিভাগকে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে হবে, অন্যথায় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। সামগ্রিক সমন্বিত পদক্ষেপে সুন্দরবন আজ কেবল জাতীয় সম্পদ নয়, বরং বৈশ্বিক জলবায়ু সুরক্ষায় অন্যতম রক্ষাকবচ হিসেবে স্বীকৃত।

ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সুন্দরবন রক্ষায় স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা হবে। সরকারের গৃহীত এই কঠোর অবস্থান সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টেকসই পর্যটন এবং বনসম্পদ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগই আগামীতে বনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে। নিয়মিত মনিটরিং এবং অপরাধ দমনে কঠোরতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুন্দরবন রক্ষায় কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দস্যুতা ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বন মন্ত্রণালয়।

সুন্দরবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নতুন করে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। শনিবার খুলনায় এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা ও পর্যটন খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তায় কোনো শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জলদস্যুতা ও অবৈধ সম্পদ আহরণ ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে ইতিপূর্বে দস্যুদের বড় অংশ আত্মসমর্পণ করলেও, নতুন করে অপরাধের বিস্তার রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন উন্মুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে অবৈধ কাঠ ও বন্যপ্রাণী পাচার রোধে বন বিভাগকে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি বা বন সম্পদ ধ্বংসকারী যেকোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমের নাজুক ভারসাম্যের জন্য পর্যটন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। সভায় প্লাস্টিক ও সিঙ্গেল ইউজ পলিমারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্বমানের পর্যটন মানদণ্ড নিশ্চিত করতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বন বিভাগকে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে হবে, অন্যথায় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। সামগ্রিক সমন্বিত পদক্ষেপে সুন্দরবন আজ কেবল জাতীয় সম্পদ নয়, বরং বৈশ্বিক জলবায়ু সুরক্ষায় অন্যতম রক্ষাকবচ হিসেবে স্বীকৃত।

ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সুন্দরবন রক্ষায় স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা হবে। সরকারের গৃহীত এই কঠোর অবস্থান সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টেকসই পর্যটন এবং বনসম্পদ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগই আগামীতে বনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে। নিয়মিত মনিটরিং এবং অপরাধ দমনে কঠোরতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ