পরিবেশ কন্ঠ

বিশ্ব নদী দিবস

পশুর নদীতে শিশুদের কাগজের নৌকা


প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পশুর নদীতে শিশুদের কাগজের নৌকা
ছবি: পরিবেশ কন্ঠ

বিশ্ব নদী দিবসে মোংলার পশুর নদী বাঁচাতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে শিশুদের প্রতীকী প্রতিবাদ।

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলার পশুর নদীতে কাগজের প্রতীকী নৌকা ভাসিয়ে ও ফুল ছিটিয়ে নদী সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে শিশুরা। রবিবার সকালে মোংলার নারিকেলতলা এলাকায় নদী রক্ষায় এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও উত্তরণসহ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আয়োজনে কোমলমতি শিশুরা নদীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও জলজ পরিবেশ বাঁচানোর আকুল আরতি প্রকাশ করে।

নদী ও প্রান্তিক জেলেদের জীবনমান সুরক্ষায় এ দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি পেশের পাশাপাশি গণসচেতনতামূলক শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, নদীতে সাঁতার ও ঐতিহ্যবাহী হাঁস ধরা প্রতিযোগিতার মতো বৈচিত্র্যময় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল অরণ্য ও নদীর নিবিড় সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি এবং সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীর প্রবাহ অব্যাহত রাখার লড়াইয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই মূলত এই সার্বিক তৃণমূল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

‘নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখের সভাপতিত্বে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্ভাব্য মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান। বক্তারা উল্লেখ করেন, কেন্দ্রের বিষাক্ত ছাই, নির্গত গরম পানি এবং কয়লা পরিবহন সুন্দরবনের ফুসফুসখ্যাত পশুর নদীর প্রাণবৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানির আগ্রাসী নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ন্যায্য রূপান্তর বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানানো হয়।

উপকূলীয় নদীগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা কেবল প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন নয়, বরং লক্ষ লক্ষ মৎস্যজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, পরিবেশের ক্ষতি রোধে কঠোর নীতি প্রয়োগ এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে সুন্দরবনের প্রাণপ্রবাহ দ্রুত হারিয়ে যাবে। তাই নতুন প্রজন্মের এই প্রতীকী প্রতিবাদ ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারকদের বিবেককে জাগ্রত করবে বলেই পরিবেশকর্মীদের প্রবল প্রত্যাশা।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পশুর নদীতে শিশুদের কাগজের নৌকা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিশ্ব নদী দিবসে মোংলার পশুর নদী বাঁচাতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে শিশুদের প্রতীকী প্রতিবাদ।

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলার পশুর নদীতে কাগজের প্রতীকী নৌকা ভাসিয়ে ও ফুল ছিটিয়ে নদী সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে শিশুরা। রবিবার সকালে মোংলার নারিকেলতলা এলাকায় নদী রক্ষায় এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও উত্তরণসহ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আয়োজনে কোমলমতি শিশুরা নদীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও জলজ পরিবেশ বাঁচানোর আকুল আরতি প্রকাশ করে।

নদী ও প্রান্তিক জেলেদের জীবনমান সুরক্ষায় এ দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি পেশের পাশাপাশি গণসচেতনতামূলক শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, নদীতে সাঁতার ও ঐতিহ্যবাহী হাঁস ধরা প্রতিযোগিতার মতো বৈচিত্র্যময় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল অরণ্য ও নদীর নিবিড় সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি এবং সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীর প্রবাহ অব্যাহত রাখার লড়াইয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই মূলত এই সার্বিক তৃণমূল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

‘নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখের সভাপতিত্বে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্ভাব্য মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান। বক্তারা উল্লেখ করেন, কেন্দ্রের বিষাক্ত ছাই, নির্গত গরম পানি এবং কয়লা পরিবহন সুন্দরবনের ফুসফুসখ্যাত পশুর নদীর প্রাণবৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানির আগ্রাসী নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ন্যায্য রূপান্তর বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানানো হয়।

উপকূলীয় নদীগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা কেবল প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন নয়, বরং লক্ষ লক্ষ মৎস্যজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, পরিবেশের ক্ষতি রোধে কঠোর নীতি প্রয়োগ এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে সুন্দরবনের প্রাণপ্রবাহ দ্রুত হারিয়ে যাবে। তাই নতুন প্রজন্মের এই প্রতীকী প্রতিবাদ ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারকদের বিবেককে জাগ্রত করবে বলেই পরিবেশকর্মীদের প্রবল প্রত্যাশা।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ