পরিবেশ কণ্ঠ
পানি—অধিকার নাকি অধিকারহীনতার গল্প?

পানি—অধিকার নাকি অধিকারহীনতার গল্প?

পানি—এই পৃথিবীর সবচেয়ে সহজলভ্য অথচ সবচেয়ে অবহেলিত সম্পদ। এর স্বচ্ছতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে মানবজীবনের গভীরতম সত্য—বেঁচে থাকা। জন্মের পর প্রথম যে উপাদান আমাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখে, মৃত্যু পর্যন্ত যার প্রয়োজন ফুরায় না, সেই পানি কখনোই বিলাসিতা হতে পারে না। এটি কোনো ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত সম্পদও নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, প্রকৃতির পক্ষ থেকে পাওয়া এক অনন্য সমানাধিকার।তবুও আমরা এমন এক সময় পার করছি, যখন পানির এই সহজ সত্যটি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, একটি পরিবারের স্বপ্ন থমকে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা—সবকিছুর ভিত্তিই যখন পানি, তখন এর অভাব মানেই জীবনযাত্রার প্রতিটি স্তরে অনিশ্চয়তা। অথচ বৈশ্বিকভাবে বহু আগেই স্বীকৃতি এসেছে—নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু সেই স্বীকৃতি বাস্তবের মাটিতে কতটা প্রতিষ্ঠিত?আমাদের চারপাশেই উত্তর স্পষ্ট।নদী আজ আর নদী নেই—দখল আর দূষণে তারা যেন হারিয়েছে নিজস্ব সত্তা। খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে, জলাভূমি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। অপরিকল্পিত নগরায়ন আর শিল্পায়নের চাপে প্রকৃতির স্বাভাবিক জলচক্র ভেঙে পড়ছে। একদিকে আমরা পানির উৎস ধ্বংস করছি, অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানি নির্বিচারে তুলে নিয়ে ভবিষ্যৎকে ঠেলে দিচ্ছি গভীর সংকটে। এই দ্বৈত আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।আরও উদ্বেগজনক হলো—পানি ধীরে ধীরে পণ্যে রূপ নিচ্ছে।যেখানে অর্থ আছে, সেখানে বিশুদ্ধ পানি সহজলভ্য; যেখানে অর্থ নেই, সেখানে পানিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ। এই বৈষম্য কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। কারণ পানি কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়—এটি জীবনের অপরিহার্য উপাদান, যা সবার জন্য সমানভাবে প্রবাহিত হওয়ার কথা।তাই প্রশ্ন আজ একটাই—আমরা কি পানিকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিতে প্রস্তুত?পানির অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। নদী, খাল, বিল ও জলাভূমিকে শুধু সম্পদ নয়, জীবন্ত সত্তা হিসেবে দেখতে হবে। দখলদারিত্ব ও দূষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। উন্নয়নের প্রতিটি পরিকল্পনায় পরিবেশের ভারসাম্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এবং সর্বোপরি, একটি ন্যায়সঙ্গত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে—কোনো বৈষম্য ছাড়াই।কারণ পানি বাঁচানো মানে শুধু প্রকৃতি রক্ষা নয়—এটি মানবতা রক্ষা, এটি ভবিষ্যৎ রক্ষা।আজ যদি আমরা উদাসীন থাকি, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তারা প্রশ্ন করবে—কেন আমরা তাদের জন্য জীবনধারার এই মৌলিক অধিকারটুকু নিশ্চিত করতে পারিনি?Water is not a privilege — it is a fundamental human right.আসুন, এখনই জেগে উঠি—পানির অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হই। কারণ পানির প্রতিটি ফোঁটা শুধু জীবন নয়, এটি আমাদের আগামীকালের আশা।
৬ ঘন্টা আগে

কোন ভিডিও নেই !

টেনিসের জামালী আর নেই

১৯৭৪ সালে টেনিস ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠা। এরপর থেকেই টেনিসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা মাসুদ জামালীর। টেনিস জনপ্রিয় খেলা না হলেও অবকাঠামোগতভাবে অনেক খেলার চেয়ে এগিয়ে। এর পেছনে জামালীকে অবদান দিলেন ফেডারেশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ কারেন,‘জামালী ভাইয়ের সময় আশির দশকে আমাদের টেনিস কমপ্লেক্স হয়েছে। বাংলাদেশের টেনিসের উন্নয়ন ও আধুনিকতার পেছনে তার অবদান সর্বাধিক। তিনি টেনিস কোর্টের মানের পেছনে কখনোই আপোস করেননি।মাসুদ হাসান জামালীর আরেকটি পরিচয় তিনি দেশের অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড় শোভন জামালীর বাবা। শোভন বাংলাদেশের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বল্ডনের বাছাইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। শোভনের টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার পেছনেও বাবা মাহমুদ জামালীই ছিলেন অগ্রগণ্য,‘ মাহমুদ ভাই অফিস যাওয়ার পথে শোভনকে টেনিস কমপ্লেক্সে নামিয়ে যেতেন। শোভন অনুশীলন করত আবার অফিস শেষে কমপ্লেক্সে আসতেন। শোভন কথা বলতে পারতেন না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও মাহমুদ ভাই ছেলেকে ভালো খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করেছিলেন’-বলেন কারেন।

টেনিসের জামালী আর নেই
২২ মার্চ ২০২৬, ১২:০১ পিএম
এবারের ঈদযাত্রায় আপনি কি যানজট বা অতিরিক্ত ভাড়ার ভোগান্তিতে পড়েছেন?

এবারের ঈদযাত্রায় আপনি কি যানজট বা অতিরিক্ত ভাড়ার ভোগান্তিতে পড়েছেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন