বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের আয় ও ব্যয়ের আনুষ্ঠানিক হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে দলটির একটি প্রতিনিধি দল এই অডিট রিপোর্ট বা নিরীক্ষিত হিসাব পেশ করে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন তুলে দেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।দলটির জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ পঞ্জিকা বছরে বিএনপির মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা। বিপরীতে একই সময়ে দলটির বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক খাতে মোট ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। অর্থাৎ, ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হওয়ায় বছর শেষে দলটির হাতে নিট উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা। বর্তমানে ব্যাংকে দলটির গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ২৮ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা। সব মিলিয়ে বিএনপির বর্তমান আর্থিক স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৬০ টাকা।হিসাব জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব আজ আমরা কমিশনে জমা দিয়েছি। তিনি জানান, দলের আয়ের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ছিল নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মাসিক চাঁদা, দলীয় প্রকাশনা ও বই-পুস্তক বিক্রি, প্রাথমিক সদস্য ফরম ও মনোনয়ন ফরম বিক্রয়। এছাড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অনুদান এবং ব্যাংক আমানতের সুদ থেকেও একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ তহবিলে যুক্ত হয়েছে।ব্যয়ের খাতগুলো ব্যাখ্যা করে রিজভী জানান, সারা দেশে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ এবং দুর্গত মানুষকে আর্থিক সহায়তা প্রদানে বড় একটি অঙ্ক ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া দলীয় পোস্টার ও লিফলেট ছাপানো, রাজনৈতিক প্রয়োজনে যানবাহন ক্রয়, জনসভা ও আলোচনা সভার আয়োজন, হল ভাড়া এবং রমজান মাসে ইফতার মাহফিলের খরচ এই ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে ক্রোড়পত্র প্রকাশের জন্যও অর্থ ব্যয় করেছে দলটি।রিজভী আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতা বজায় রাখা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং বিএনপি বরাবরই তা যথাযথভাবে পালন করে আসছে। দলের নিজস্ব নিরীক্ষক দিয়ে হিসাব যাচাইয়ের পর কোষাধ্যক্ষের তদারকি এবং দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ