২০২৭ সাল থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর; প্রশ্ন বিতরণে গাফিলতি হলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি।দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরাজমান বৈষম্য নিরসন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আগামী ২০২৭ সাল থেকে দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সব আবশ্যিক ও সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে এবং অভিন্ন (একক) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার সকালে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। আসন্ন ‘এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬’ উপলক্ষে চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা কাঠামোর সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, 'একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একই সিলেবাস হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। আমরা ইতিপূর্বেই ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে একটি অভিন্ন সুতায় গেঁথেছি এবং একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সফল সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রেও বাংলা, ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। এটি শিক্ষার্থীদের মাঝে সমতা নিশ্চিত করবে এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন সহজতর করবে।'চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় একক প্রশ্নপত্র চালুর ক্ষেত্রে যে সকল প্রশাসনিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন মন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, প্রশ্নপত্র বিতরণে কোনো ধরণের শৈথিল্য সহ্য করা হবে না। বিজি প্রেস থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্নপত্র সঠিক নিয়মেই পাঠানো হচ্ছে। এখন দায়িত্বশীলদের কর্তব্য হলো কোড অনুযায়ী সঠিক প্রশ্নপত্র নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা কোড বিভ্রাট ঘটলে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দায়িত্বরত কেউ গাফিলতি করলে তাকে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।শিক্ষাব্যবস্থার আরও একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ড. মিলন জানান, ২০২৭ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা প্রথাগত সময়ের বদলে জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সূচী পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। মন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলো দেশের শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ