প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণপরিকল্পিত নগরায়ন ও সবার জন্য টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার।পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ঘোষণা দেন। দ্রুত নগরায়ন ও ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার বিপরীতে মানুষের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় আবাসন, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকার বাইরে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে আলাদা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করা হবে বলে সরকারি নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়। ১৯৮৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নিম্ন আয়ের মানুষ ও বস্তিবাসীর জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। শুধু ঘর নির্মাণ নয়, বরং পানি, স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগকে ‘বাসস্থান’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও এনজিও প্রতিনিধিদের মতে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই নগরায়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।আগামী দিনে নগর ও গ্রামের ব্যবধান কমিয়ে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছে প্রশাসন। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে সৃষ্ট যানজট, দূষণ ও আবাসন সংকট মোকাবিলায় এই মাস্টারপ্ল্যান একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করবে। সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এই কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর দেশের আগামী প্রজন্মের জীবনযাত্রার মান অনেকাংশেই নির্ভর করছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ