পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থী বাড়লেও সেবামানের চরম ঘাটতি ও বাড়তি খরচে ক্ষুব্ধ ভ্রমণকারীরা।
বিশ্ব পর্যটন দিবসে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আশাব্যঞ্জক পরিসংখ্যান মিললেও মাঠপর্যায়ের চিত্র চরম হতাশাজনক। কক্সবাজার ও সিলেটের মতো শীর্ষ গন্তব্যগুলোতে প্রতিবছর ভ্রমণপিপাসুদের সংখ্যা রেকর্ড গড়ছে। তবে বিপুল এই দর্শনার্থীর তুলনায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিকল্পিত বিনোদন ব্যবস্থার ঘাটতি প্রকট। উপরন্তু অনিয়ন্ত্রিত ব্যয়ভার, দুর্বল তদারকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শিথিলতায় সামগ্রিক পর্যটন খাতের টেকসই বিকাশ বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে।
হোটেল মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজারে ২০২৩ সালে ৬০ লাখ পর্যটক সমাগম হলেও ২০২৫ সালে তা ছাড়িয়েছে ৮০ লাখ। অথচ বাড়তি পর্যটকের জন্য কোনো টেকসই বিনোদন সুবিধা সৃষ্টি হয়নি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, থাইল্যান্ড কিংবা মালয়েশিয়ার তুলনায় পরিবহন ও আবাসন খরচ কয়েক গুণ বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে সিলেটে সাদাপাথরসহ ৩৩টি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট রয়েছে, যার মাত্র দুটি সরকারি গেজেটভুক্ত। বাকি স্থানগুলো কার্যকর নীতিমালার বাইরে থাকায় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণে ক্রমাগত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, অবকাঠামোগত ঘাটতির ফলে দেশীয় পর্যটকরা ধীরে ধীরে বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ জানান, দর্শনীয় স্থানে ন্যূনতম নাগরিক স্বস্তি ও পর্যাপ্ত ছায়ার ব্যবস্থা না থাকায় জনভোগান্তি বাড়ছে। সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত তদারকি না থাকায় সাধারণ পর্যটকরা স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে প্রত্যাশিত জাতীয় রাজস্ব অর্জন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে।
অবশ্য সংকট নিরসনে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সেনাবাহিনীর সিএসসি বিভাগের সহযোগিতায় ২০ বছর মেয়াদি নতুন সংশোধিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চূড়ান্ত রূপ পেলে আধুনিক নগর ও পর্যটন সুবিধা মিলবে বলে প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নয়, সিলেটের মতো সংবেদনশীল প্রাকৃতিক অঞ্চল সংরক্ষণ ও নৈরাজ্য ঠেকাতে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থী বাড়লেও সেবামানের চরম ঘাটতি ও বাড়তি খরচে ক্ষুব্ধ ভ্রমণকারীরা।
বিশ্ব পর্যটন দিবসে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আশাব্যঞ্জক পরিসংখ্যান মিললেও মাঠপর্যায়ের চিত্র চরম হতাশাজনক। কক্সবাজার ও সিলেটের মতো শীর্ষ গন্তব্যগুলোতে প্রতিবছর ভ্রমণপিপাসুদের সংখ্যা রেকর্ড গড়ছে। তবে বিপুল এই দর্শনার্থীর তুলনায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিকল্পিত বিনোদন ব্যবস্থার ঘাটতি প্রকট। উপরন্তু অনিয়ন্ত্রিত ব্যয়ভার, দুর্বল তদারকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শিথিলতায় সামগ্রিক পর্যটন খাতের টেকসই বিকাশ বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে।
হোটেল মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজারে ২০২৩ সালে ৬০ লাখ পর্যটক সমাগম হলেও ২০২৫ সালে তা ছাড়িয়েছে ৮০ লাখ। অথচ বাড়তি পর্যটকের জন্য কোনো টেকসই বিনোদন সুবিধা সৃষ্টি হয়নি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, থাইল্যান্ড কিংবা মালয়েশিয়ার তুলনায় পরিবহন ও আবাসন খরচ কয়েক গুণ বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে সিলেটে সাদাপাথরসহ ৩৩টি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট রয়েছে, যার মাত্র দুটি সরকারি গেজেটভুক্ত। বাকি স্থানগুলো কার্যকর নীতিমালার বাইরে থাকায় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণে ক্রমাগত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, অবকাঠামোগত ঘাটতির ফলে দেশীয় পর্যটকরা ধীরে ধীরে বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ জানান, দর্শনীয় স্থানে ন্যূনতম নাগরিক স্বস্তি ও পর্যাপ্ত ছায়ার ব্যবস্থা না থাকায় জনভোগান্তি বাড়ছে। সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত তদারকি না থাকায় সাধারণ পর্যটকরা স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে প্রত্যাশিত জাতীয় রাজস্ব অর্জন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে।
অবশ্য সংকট নিরসনে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সেনাবাহিনীর সিএসসি বিভাগের সহযোগিতায় ২০ বছর মেয়াদি নতুন সংশোধিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চূড়ান্ত রূপ পেলে আধুনিক নগর ও পর্যটন সুবিধা মিলবে বলে প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নয়, সিলেটের মতো সংবেদনশীল প্রাকৃতিক অঞ্চল সংরক্ষণ ও নৈরাজ্য ঠেকাতে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন