পরিবেশ কন্ঠ

সুন্দরবন রক্ষায় শিল্পকারখানা উচ্ছেদের নির্দেশ


প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সুন্দরবন রক্ষায় শিল্পকারখানা উচ্ছেদের নির্দেশ
সংগৃহীত

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন রক্ষায় কঠোর অবস্থানে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সুন্দরবনকে পরিবেশগত বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বন সংলগ্ন সকল অবৈধ শিল্পকারখানা ও ক্ষতিকর অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। গত শনিবার খুলনায় সিটি করপোরেশন ও বিকাশ আয়োজিত এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বনের বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং বনের সীমানায় কোনো প্রকার অননুমোদিত স্থাপনা সহ্য করা হবে না।

বর্তমানে সুন্দরবনের আশপাশে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত শিল্পকারখানাগুলো থেকে নির্গত বর্জ্য ও ধোঁয়া বনের পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, গত কয়েক দশকে বন সংলগ্ন এলাকায় শিল্পায়নের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও জলজ প্রাণী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় এই বনায়ন উদ্যোগটি কেবল বন পুনরুদ্ধার নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি কৌশলগত সুরক্ষা স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশন ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী স্কুল-কলেজগুলোতে পলিথিন ও প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য দেশব্যাপী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবলমাত্র উচ্ছেদ নয়, বরং কঠোর আইনি কাঠামো ও স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের টেকসই বিকল্প নিশ্চিত করতে পারলে এই উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে। শিল্পবর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট বা ইটিপি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কোনো কারখানাকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন পরিবেশবিদরা।

সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, সুন্দরবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা আশার আলো দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে বনাঞ্চল ঘেঁষে ভারী শিল্পের পরিবর্তে ইকো-টুরিজম ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের প্রসারে নীতিগত পরিবর্তন আনা জরুরি। সরকার ও জনগণের যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা কেবল একটি সরকারি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি জাতীয় অঙ্গীকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। যথাযথ তদারকির মাধ্যমে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষা মডেল প্রশংসিত হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : সুন্দরবন পরিবেশ দূষণ পরিবেশ সুরক্ষা ম্যানগ্রোভ বন শিল্পকারখানা উচ্ছেদ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুন্দরবন রক্ষায় শিল্পকারখানা উচ্ছেদের নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন রক্ষায় কঠোর অবস্থানে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সুন্দরবনকে পরিবেশগত বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বন সংলগ্ন সকল অবৈধ শিল্পকারখানা ও ক্ষতিকর অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। গত শনিবার খুলনায় সিটি করপোরেশন ও বিকাশ আয়োজিত এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বনের বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং বনের সীমানায় কোনো প্রকার অননুমোদিত স্থাপনা সহ্য করা হবে না।

বর্তমানে সুন্দরবনের আশপাশে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত শিল্পকারখানাগুলো থেকে নির্গত বর্জ্য ও ধোঁয়া বনের পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, গত কয়েক দশকে বন সংলগ্ন এলাকায় শিল্পায়নের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও জলজ প্রাণী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় এই বনায়ন উদ্যোগটি কেবল বন পুনরুদ্ধার নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি কৌশলগত সুরক্ষা স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশন ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী স্কুল-কলেজগুলোতে পলিথিন ও প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য দেশব্যাপী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবলমাত্র উচ্ছেদ নয়, বরং কঠোর আইনি কাঠামো ও স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের টেকসই বিকল্প নিশ্চিত করতে পারলে এই উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে। শিল্পবর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট বা ইটিপি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কোনো কারখানাকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন পরিবেশবিদরা।

সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, সুন্দরবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা আশার আলো দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে বনাঞ্চল ঘেঁষে ভারী শিল্পের পরিবর্তে ইকো-টুরিজম ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের প্রসারে নীতিগত পরিবর্তন আনা জরুরি। সরকার ও জনগণের যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা কেবল একটি সরকারি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি জাতীয় অঙ্গীকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। যথাযথ তদারকির মাধ্যমে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষা মডেল প্রশংসিত হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ