পরিবেশ কন্ঠ

আন্তর্জাতিক

জেনজির কথা কি শুনতে ব্যর্থ আমরা, আন্দোলনের পর আত্মসমালোচনায় শশী থারুর

তরুণ প্রজন্মের মন বুঝতে রাজনৈতিক দলগুলো কি ব্যর্থ হচ্ছে। সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এমন প্রশ্নই তুললেন ভারতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও লোকসভা সদস্য শশী থারুর।  নিজের দলের কর্মকাণ্ড নিয়েও আত্মসমালোচনা করে তিনি বলেছেন, শুধু তরুণদের নিয়ে মিছিল করলেই হবে না, তাদের কথা শুনতে হবে এবং রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিতে হবে। শনিবার (৮ আগস্ট) মুম্বাইয়ে ভারতকে জাতিসংঘের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ করার আন্তর্জাতিক আন্দোলনের পঞ্চদশ বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে থারুর বলেন, তরুণ প্রজন্মের মন বুঝতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলো ভবিষ্যতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়তে পারে। সম্প্রতি রাজধানীর যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে থারুর বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা নিয়ে কংগ্রেসও আগে থেকেই সরব ছিল। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচি তরুণদের মধ্যে যে সাড়া তৈরি করতে পারেনি, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন তুলনামূলকভাবে তার চেয়ে অনেক বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।এখানেই নিজের দলের ব্যর্থতার জায়গাটি খুঁজে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন থারুর।  তিনি প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস কি তরুণদের কথা যথেষ্ট মন দিয়ে শুনতে ব্যর্থ হয়েছে। নাকি তরুণদের ভাবনা ও ভাষার সঙ্গে দলের বার্তার যথাযথ মিল ঘটানো যায়নি।থারুরের বক্তব্যে উঠে আসে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়েও সমালোচনা।  তার মতে, রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের প্রবেশের পথ এখনো কঠিন। দীর্ঘদিনের পদমর্যাদার কাঠামো, বংশানুক্রমিক রাজনীতি এবং পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে অনেক তরুণ মূলধারার রাজনৈতিক দলে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পারেন না। তার মতে, তরুণদের শুধু মিছিলের সামনের বা পেছনের সারিতে দাঁড় করিয়ে রাখা কিংবা দলীয় কর্মী হিসেবে ব্যবহার করা যথেষ্ট নয়। তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় আনতে হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, ভবিষ্যৎ অর্থনীতি এবং দেশের নীতি নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সেই আন্দোলনের অভিঘাত এখন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও পৌঁছেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। থারুরের বক্তব্যের তাৎপর্য আরও বেড়েছে শনিবারই উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ কর্মসূচির তৃতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ায়। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিষয় নিয়ে কথা বলেন রাহুল। তবে রাহুলের কর্মসূচির একই দিনে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা থারুরের আত্মসমালোচনামূলক বক্তব্য কংগ্রেসের ভেতরে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।থারুরের বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু তরুণদের সমস্যা নিয়ে কথা বললেই তাদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাদের কথা শোনা, তাদের রাজনৈতিক মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় অংশীদার করা জরুরি। তা না হলে নতুন প্রজন্ম প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে নিজেদের জন্য নতুন রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করতে পারে। ভারতের রাজনীতিতে তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে তাদের মন ও ভাষা বুঝতে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন থারুর।তার আত্মসমালোচনার মূল বার্তাটিও তাই স্পষ্ট। তরুণদের শুধু ভোটার হিসেবে নয়, রাজনীতির অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। তা না হলে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।

জেনজির কথা কি শুনতে ব্যর্থ আমরা, আন্দোলনের পর আত্মসমালোচনায় শশী থারুর