রাজধানীর উপকণ্ঠে বয়ে চলা বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর করুণ দশা মোচনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। শনিবার মোহাম্মদপুরের বসিলা লঞ্চঘাট থেকে জলপথে পরিদর্শন শেষে ২৩টি পরিবেশবাদী সংগঠন নদীর বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বেলাসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নদী বাঁচাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০ দফা দাবি পেশ করেছে, যা নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার সংগ্রামে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে নদীগুলোর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা এবং শিল্পকারখানার অপরিকল্পিত বর্জ্য নিঃসরণ নদী দুটির বাস্তুসংস্থান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে নদী দখলমুক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তথ্যমতে, নদীগুলোতে সরাসরি শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য মিশছে, যা জলজ প্রাণিকুলের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলছে। নিয়মিত জরিপ না থাকা এবং প্রভাবশালী মহল কর্তৃক নদী গ্রাসের প্রতিযোগিতায় বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী আজ মৃত্যুশয্যায় উপনীত হয়েছে বলে পরিবেশবিদরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন উপস্থিত থেকে নদী রক্ষার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেবল উচ্ছেদ অভিযান নয়, বরং শিল্পকারখানায় ইটিপি বা বর্জ্য পরিশোধনাগার শতভাগ কার্যকর রাখা এবং অনলাইন মনিটরিং নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, নদীদূষণ রোধ না করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে।
সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, নদীর প্রবাহ ও স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি টেকসই ব্যবস্থাপনা আবশ্যক। প্লাস্টিক বর্জ্য ও জাহাজের তেল নিঃসরণ বন্ধে কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করলে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী অচিরেই মরা খালে পরিণত হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর উপকণ্ঠে বয়ে চলা বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর করুণ দশা মোচনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। শনিবার মোহাম্মদপুরের বসিলা লঞ্চঘাট থেকে জলপথে পরিদর্শন শেষে ২৩টি পরিবেশবাদী সংগঠন নদীর বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বেলাসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নদী বাঁচাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০ দফা দাবি পেশ করেছে, যা নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার সংগ্রামে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে নদীগুলোর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা এবং শিল্পকারখানার অপরিকল্পিত বর্জ্য নিঃসরণ নদী দুটির বাস্তুসংস্থান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে নদী দখলমুক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তথ্যমতে, নদীগুলোতে সরাসরি শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য মিশছে, যা জলজ প্রাণিকুলের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলছে। নিয়মিত জরিপ না থাকা এবং প্রভাবশালী মহল কর্তৃক নদী গ্রাসের প্রতিযোগিতায় বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী আজ মৃত্যুশয্যায় উপনীত হয়েছে বলে পরিবেশবিদরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন উপস্থিত থেকে নদী রক্ষার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেবল উচ্ছেদ অভিযান নয়, বরং শিল্পকারখানায় ইটিপি বা বর্জ্য পরিশোধনাগার শতভাগ কার্যকর রাখা এবং অনলাইন মনিটরিং নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, নদীদূষণ রোধ না করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে।
সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, নদীর প্রবাহ ও স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি টেকসই ব্যবস্থাপনা আবশ্যক। প্লাস্টিক বর্জ্য ও জাহাজের তেল নিঃসরণ বন্ধে কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করলে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী অচিরেই মরা খালে পরিণত হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন