পরিবেশ কন্ঠ

উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা


প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষের তালা খুলে আলামত সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্যের তালাবদ্ধ কক্ষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইনগত প্রক্রিয়ায় খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তার উপশহরের বাসভবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। কক্ষটি খোলার পর পুলিশের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে একদল ব্যক্তি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। উপাচার্যের অভিযোগ, তাকে নথিটি পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ বুধবার রাতে আলী আকবর ও দেলোয়ার হোসেন নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেন জানান, বহিরাগতদের দ্বারা কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল এবং বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ায় সেটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি দাবি করেছেন, দলীয় নির্দেশে উপাচার্যকে সসম্মানে নিয়ে আসা হয়েছে এবং কোনো ধরনের দখলদারিত্বের সাথে তাদের দলের সম্পৃক্ততা নেই। কোনো নেতাকর্মী অপরাধের সাথে যুক্ত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ পুরো এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং সন্ধ্যায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর এখানে আসার কথা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত অন্যদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করতে প্রশাসন কাজ করছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষের তালা খুলে আলামত সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্যের তালাবদ্ধ কক্ষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইনগত প্রক্রিয়ায় খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তার উপশহরের বাসভবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। কক্ষটি খোলার পর পুলিশের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে একদল ব্যক্তি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। উপাচার্যের অভিযোগ, তাকে নথিটি পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ বুধবার রাতে আলী আকবর ও দেলোয়ার হোসেন নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেন জানান, বহিরাগতদের দ্বারা কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল এবং বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ায় সেটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি দাবি করেছেন, দলীয় নির্দেশে উপাচার্যকে সসম্মানে নিয়ে আসা হয়েছে এবং কোনো ধরনের দখলদারিত্বের সাথে তাদের দলের সম্পৃক্ততা নেই। কোনো নেতাকর্মী অপরাধের সাথে যুক্ত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ পুরো এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং সন্ধ্যায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর এখানে আসার কথা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত অন্যদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করতে প্রশাসন কাজ করছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ