মাত্র ছাপান্ন দিনে উপাচার্য অপসারণের ঘটনায় স্থবির চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য নিযুক্ত উপাচার্যকে আকস্মিক অপসারণের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও প্রশাসনিক ভবন এলাকা বর্তমানে আন্দোলনকারীদের দখলে থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। অন্তত ছয়টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং ক্লাস বর্জন অব্যাহত থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই অব্যাহতি দেওয়া হয়। অথচ তাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এরই মধ্যে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে তিনি এখনো ক্যাম্পাসে সরাসরি যোগ দিতে পারেননি। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষই।
চুয়েটের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যথাযথ কারণ দর্শানো ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনদের মধ্যেও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, নতুন উপাচার্যের অতীত দায়িত্বকাল নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা তথ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। সরকার এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন ও প্রশ্নযাত্রার মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। যদিও কিছু ছাত্র সংগঠন এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক ইন্ধন হিসেবে চিহ্নিত করছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি কেবল প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা। নতুন ও সাবেক উপাচার্য নিয়ে সৃষ্ট এই জটিলতা নিরসনে দ্রুত কোনো সুরাহা না হলে চুয়েটের ভবিষ্যৎ গবেষণাধর্মী কর্মকাণ্ড বড় ধরনের স্থবিরতার মুখে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাত্র ছাপান্ন দিনে উপাচার্য অপসারণের ঘটনায় স্থবির চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য নিযুক্ত উপাচার্যকে আকস্মিক অপসারণের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও প্রশাসনিক ভবন এলাকা বর্তমানে আন্দোলনকারীদের দখলে থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। অন্তত ছয়টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং ক্লাস বর্জন অব্যাহত থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই অব্যাহতি দেওয়া হয়। অথচ তাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এরই মধ্যে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে তিনি এখনো ক্যাম্পাসে সরাসরি যোগ দিতে পারেননি। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষই।
চুয়েটের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যথাযথ কারণ দর্শানো ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনদের মধ্যেও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, নতুন উপাচার্যের অতীত দায়িত্বকাল নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা তথ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। সরকার এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন ও প্রশ্নযাত্রার মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। যদিও কিছু ছাত্র সংগঠন এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক ইন্ধন হিসেবে চিহ্নিত করছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি কেবল প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা। নতুন ও সাবেক উপাচার্য নিয়ে সৃষ্ট এই জটিলতা নিরসনে দ্রুত কোনো সুরাহা না হলে চুয়েটের ভবিষ্যৎ গবেষণাধর্মী কর্মকাণ্ড বড় ধরনের স্থবিরতার মুখে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন