১৯৭১ থেকে ২০২৬; দীর্ঘ পাঁচ দশকের পথচলায় ১৮ জন রাষ্ট্রপ্রধানের শাসনকাল ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের চিত্রপট।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ জুড়ে রয়েছে বঙ্গভবন এবং এর শীর্ষ পদাধিকারী রাষ্ট্রপতিগণ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা দিনগুলো থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হয়েছেন ১৮ জন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। সময়ের প্রয়োজনে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতিতেও এসেছে বৈচিত্র্য। ১৯৯১ সালের পূর্বে রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে সংসদ সদস্যদের পরোক্ষ ভোটে তিনি নির্বাচিত হন।
জাতীয় ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় সূচিত হয় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে। সেই সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তবে তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির গুরুদায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদউল্লাহ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকাল দেশটির রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং পরবর্তীতে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সামলান।
এরপর শুরু হয় সামরিক শাসন ও ক্রান্তিকালের এক দীর্ঘ অধ্যায়। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তার শাহাদাতের পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতির আসীন হন। আশির দশকে জেনারেল এইচ এম এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের শাসনকাল এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে দেশের স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখে।
নব্বইয়ের দশকের পর থেকে আবদুর রহমান বিশ্বাস, অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এবং ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের মতো ব্যক্তিত্বরা বঙ্গভবনের অলংকৃত করেন। ২০০৯ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে জিল্লুর রহমান এবং মো. আবদুল হামিদের দীর্ঘ শাসনামল দেশে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। সর্বশেষ মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই তিনি পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশের এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রায় রাষ্ট্রপতির পদটি কেবল একটি আলঙ্কারিক পদ নয়, বরং তা বারবার জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
১৯৭১ থেকে ২০২৬; দীর্ঘ পাঁচ দশকের পথচলায় ১৮ জন রাষ্ট্রপ্রধানের শাসনকাল ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের চিত্রপট।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ জুড়ে রয়েছে বঙ্গভবন এবং এর শীর্ষ পদাধিকারী রাষ্ট্রপতিগণ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা দিনগুলো থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হয়েছেন ১৮ জন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। সময়ের প্রয়োজনে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতিতেও এসেছে বৈচিত্র্য। ১৯৯১ সালের পূর্বে রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে সংসদ সদস্যদের পরোক্ষ ভোটে তিনি নির্বাচিত হন।
জাতীয় ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় সূচিত হয় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে। সেই সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তবে তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির গুরুদায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদউল্লাহ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকাল দেশটির রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং পরবর্তীতে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সামলান।
এরপর শুরু হয় সামরিক শাসন ও ক্রান্তিকালের এক দীর্ঘ অধ্যায়। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তার শাহাদাতের পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতির আসীন হন। আশির দশকে জেনারেল এইচ এম এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের শাসনকাল এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে দেশের স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখে।
নব্বইয়ের দশকের পর থেকে আবদুর রহমান বিশ্বাস, অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এবং ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের মতো ব্যক্তিত্বরা বঙ্গভবনের অলংকৃত করেন। ২০০৯ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে জিল্লুর রহমান এবং মো. আবদুল হামিদের দীর্ঘ শাসনামল দেশে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। সর্বশেষ মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই তিনি পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশের এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রায় রাষ্ট্রপতির পদটি কেবল একটি আলঙ্কারিক পদ নয়, বরং তা বারবার জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন