পরিবেশ কন্ঠ

কেন জ্বলছে না চুলা?

তীব্র গ্যাস সংকট ও তিতাস গ্যাস গ্রাহকদের ভোগান্তি


প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

তীব্র গ্যাস সংকট ও তিতাস গ্যাস গ্রাহকদের ভোগান্তি
সংগৃহীত

এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি: চাহিদার তুলনায় সরবরাহ তলানিতে, স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও সময়

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে গ্যাস সংকট এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে নাভিশ্বাস উঠছে জনজীবনে। বিশেষ করে গৃহিণীদের জন্য এই সংকট দৈনন্দিন এক ‘যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। মিরপুর, রামপুরা, বাড্ডা থেকে শুরু করে ধানমন্ডি ও বনানী—সর্বত্রই চিত্রটা প্রায় একই রকম। দিনের বেলা চুলা জ্বলছেই না, আর জ্বললেও তা এতটাই ক্ষীণ যে রান্নার কাজ সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে বাধ্য হয়েই মধ্যরাতে বা শেষ রাতে যখন গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ে, তখন অ্যালার্ম দিয়ে ঘুম থেকে উঠে সারাদিনের রান্নার কাজ সেরে রাখছেন নগরবাসী।

মিরপুরের বাসিন্দা আমেনা বেগমের গল্পটি এখন ঢাকার অধিকাংশ পরিবারের প্রতিচ্ছবি। স্কুলগামী সন্তানদের টিফিন আর স্বামীর দুপুরের খাবারের জন্য তাকে প্রতিদিন ভোররাত থেকে উনুনের সামনে ধরণা দিতে হয়। আমেনা জানান, রাত তিনটার দিকে গ্যাসের চাপ কিছুটা আসলেও সূর্য ওঠার আগেই তা আবার উধাও হয়ে যায়। আধসেদ্ধ ডাল কিংবা ডিম নিয়েই তাকে হিমশিম খেতে হয় প্রতিদিন। উচ্চমূল্যের এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা বিদ্যুৎ বিলের ভয়ে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করাও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রামপুরার বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার ক্ষোভের সাথে জানান, মাসের পর মাস তিতাস গ্যাসের বিল দিলেও রান্নার জন্য তাদের বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে অথবা বিকল্প ব্যবস্থার পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটি। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যেখানে ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে তা ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। অথচ দেশে দৈনিক চাহিদার পরিমাণ প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এই বিশাল ঘাটতির প্রভাব শুধু বাসাবাড়িতেই নয়, বরং শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি সচল করতে কাজ শুরু করেছে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত রাজধানীর এই গ্যাস ভোগান্তি কমার কোনো লক্ষণ নেই। এই সংকট নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। গ্যাস নেই কিন্তু বিল ঠিকই গুনতে হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত এই কারিগরি সমস্যা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


তীব্র গ্যাস সংকট ও তিতাস গ্যাস গ্রাহকদের ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি: চাহিদার তুলনায় সরবরাহ তলানিতে, স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও সময়

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে গ্যাস সংকট এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে নাভিশ্বাস উঠছে জনজীবনে। বিশেষ করে গৃহিণীদের জন্য এই সংকট দৈনন্দিন এক ‘যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। মিরপুর, রামপুরা, বাড্ডা থেকে শুরু করে ধানমন্ডি ও বনানী—সর্বত্রই চিত্রটা প্রায় একই রকম। দিনের বেলা চুলা জ্বলছেই না, আর জ্বললেও তা এতটাই ক্ষীণ যে রান্নার কাজ সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে বাধ্য হয়েই মধ্যরাতে বা শেষ রাতে যখন গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ে, তখন অ্যালার্ম দিয়ে ঘুম থেকে উঠে সারাদিনের রান্নার কাজ সেরে রাখছেন নগরবাসী।

মিরপুরের বাসিন্দা আমেনা বেগমের গল্পটি এখন ঢাকার অধিকাংশ পরিবারের প্রতিচ্ছবি। স্কুলগামী সন্তানদের টিফিন আর স্বামীর দুপুরের খাবারের জন্য তাকে প্রতিদিন ভোররাত থেকে উনুনের সামনে ধরণা দিতে হয়। আমেনা জানান, রাত তিনটার দিকে গ্যাসের চাপ কিছুটা আসলেও সূর্য ওঠার আগেই তা আবার উধাও হয়ে যায়। আধসেদ্ধ ডাল কিংবা ডিম নিয়েই তাকে হিমশিম খেতে হয় প্রতিদিন। উচ্চমূল্যের এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা বিদ্যুৎ বিলের ভয়ে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করাও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রামপুরার বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার ক্ষোভের সাথে জানান, মাসের পর মাস তিতাস গ্যাসের বিল দিলেও রান্নার জন্য তাদের বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে অথবা বিকল্প ব্যবস্থার পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটি। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যেখানে ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে তা ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। অথচ দেশে দৈনিক চাহিদার পরিমাণ প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এই বিশাল ঘাটতির প্রভাব শুধু বাসাবাড়িতেই নয়, বরং শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি সচল করতে কাজ শুরু করেছে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত রাজধানীর এই গ্যাস ভোগান্তি কমার কোনো লক্ষণ নেই। এই সংকট নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। গ্যাস নেই কিন্তু বিল ঠিকই গুনতে হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত এই কারিগরি সমস্যা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ