পরিবেশ কন্ঠ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী অলি আহমদ: ১১ দলীয় জোটের মনোনয়নপত্র দাখিল


প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী অলি আহমদ: ১১ দলীয় জোটের মনোনয়নপত্র দাখিল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব ও এনসিপির সমর্থনে লড়ছেন এলডিপি চেয়ারম্যান; চূড়ান্ত লড়াই ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে।

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিয়েছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটের দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে গিয়ে এই মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেন জোটের শীর্ষ নেতারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের হাতে জোটের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নথিটি তুলে দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঘটনাকে দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অলি আহমদের মনোনয়নপত্র ফরমে প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আর এই প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। এই গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার প্রস্তাব ও সমর্থন অলি আহমদের প্রার্থিতাকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্য এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিক অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যোগ্যতম মনে করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল অনুসারে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত ছিল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ আগস্ট জমাকৃত মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থীরা চাইলে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। যদি একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকেন, তবে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। মুক্তিযুদ্ধের বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা রাজনীতিতে আসার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতি পদে তার প্রার্থিতা বিরোধী শিবিরের ঐক্য ও সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন জোটের সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার দৃষ্টি আগামী ২০ আগস্টের ভোটের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে কে বসছেন বঙ্গভবনের সর্বোচ্চ আসনে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী অলি আহমদ: ১১ দলীয় জোটের মনোনয়নপত্র দাখিল

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব ও এনসিপির সমর্থনে লড়ছেন এলডিপি চেয়ারম্যান; চূড়ান্ত লড়াই ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে।

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিয়েছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটের দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে গিয়ে এই মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেন জোটের শীর্ষ নেতারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের হাতে জোটের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নথিটি তুলে দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঘটনাকে দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অলি আহমদের মনোনয়নপত্র ফরমে প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আর এই প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। এই গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার প্রস্তাব ও সমর্থন অলি আহমদের প্রার্থিতাকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্য এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিক অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যোগ্যতম মনে করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল অনুসারে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত ছিল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ আগস্ট জমাকৃত মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থীরা চাইলে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। যদি একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকেন, তবে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। মুক্তিযুদ্ধের বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা রাজনীতিতে আসার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতি পদে তার প্রার্থিতা বিরোধী শিবিরের ঐক্য ও সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন জোটের সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার দৃষ্টি আগামী ২০ আগস্টের ভোটের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে কে বসছেন বঙ্গভবনের সর্বোচ্চ আসনে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ