পরিবেশ কন্ঠ

সুপারি: কেন একে উপকূলের ‘লাল সোনা’ বলা হয়?


প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সুপারি: কেন একে উপকূলের ‘লাল সোনা’ বলা হয়?
সংগৃহীত

মাটির গুণ আর লোনা বাতাসের ছোঁয়ায় অনন্য স্বাদের এই সুপারি স্থানীয় অর্থনীতিকে দিচ্ছে নতুন গতি; বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানির সম্ভাবনা।

কক্সবাজারের দক্ষিণ জনপদ এখন কেবল পর্যটনের জন্যই নয়, বরং এক বিশেষ কৃষিপণ্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নতুন পরিচিতি লাভ করছে। রামু, উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে উৎপাদিত এই সুপারি স্থানীয়ভাবে ‘লাল সোনা’ হিসেবে সমাদৃত। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং মৃত্তিকার অনন্য গুণাগুণের কারণে এই অঞ্চলের সুপারি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।

কৃষি বিশারদ ও স্থানীয় অভিজ্ঞ চাষীদের মতে, এই অঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটি এবং সমুদ্রের লোনা বাতাসের এক অপূর্ব মিথস্ক্রিয়া সুপারির গুণগত মান বৃদ্ধিতে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে টেকনাফের বাহারছড়া, উখিয়ার জালিয়াপালং এবং রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নে উৎপাদিত সুপারির আকার যেমন বড়, তেমনি এর ভেতরের অংশ বেশ শক্ত। রঙে লালচে সাদা এই সুপারি স্বাদে মিষ্টি এবং কষমুক্ত হওয়ার কারণে পান রসিকদের কাছে এর আকাশচুম্বী চাহিদা রয়েছে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই তিন উপজেলার হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুপারি চাষের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি মৌসুমে এই জনপদে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়। সোনারপাড়া, মরিচ্যা এবং বাহারছড়ার মতো স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতিদিন ভোরে সুপারির যে বিশাল কর্মযজ্ঞ বসে, তা চোখে পড়ার মতো। এখানকার প্রক্রিয়াজাত সুপারি—যা স্থানীয়ভাবে ভিজা ও শুকনা এই দুই পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়—তা চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বড় বড় পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ ইউরোপের বাজারেও এই সুপারির কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে এই অমিত সম্ভাবনার পথে কিছু অন্তরায়ও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং উপকূলীয় সাইক্লোনের আঘাতে সুপারির ফলন মাঝেমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিকূল এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় স্থানীয় চাষীরা এখন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ এবং সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই উপকূলীয় সুপারি একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে।

রামু থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত এই উপকূলীয় অঞ্চলে সুপারি কেবল একটি ফসল নয়, বরং এটি এই জনপদের মানুষের ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘লাল সোনা’ খ্যাত এই পণ্যটি জাতীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


সুপারি: কেন একে উপকূলের ‘লাল সোনা’ বলা হয়?

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মাটির গুণ আর লোনা বাতাসের ছোঁয়ায় অনন্য স্বাদের এই সুপারি স্থানীয় অর্থনীতিকে দিচ্ছে নতুন গতি; বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানির সম্ভাবনা।

কক্সবাজারের দক্ষিণ জনপদ এখন কেবল পর্যটনের জন্যই নয়, বরং এক বিশেষ কৃষিপণ্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নতুন পরিচিতি লাভ করছে। রামু, উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে উৎপাদিত এই সুপারি স্থানীয়ভাবে ‘লাল সোনা’ হিসেবে সমাদৃত। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং মৃত্তিকার অনন্য গুণাগুণের কারণে এই অঞ্চলের সুপারি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।

কৃষি বিশারদ ও স্থানীয় অভিজ্ঞ চাষীদের মতে, এই অঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটি এবং সমুদ্রের লোনা বাতাসের এক অপূর্ব মিথস্ক্রিয়া সুপারির গুণগত মান বৃদ্ধিতে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে টেকনাফের বাহারছড়া, উখিয়ার জালিয়াপালং এবং রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নে উৎপাদিত সুপারির আকার যেমন বড়, তেমনি এর ভেতরের অংশ বেশ শক্ত। রঙে লালচে সাদা এই সুপারি স্বাদে মিষ্টি এবং কষমুক্ত হওয়ার কারণে পান রসিকদের কাছে এর আকাশচুম্বী চাহিদা রয়েছে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই তিন উপজেলার হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুপারি চাষের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি মৌসুমে এই জনপদে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়। সোনারপাড়া, মরিচ্যা এবং বাহারছড়ার মতো স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতিদিন ভোরে সুপারির যে বিশাল কর্মযজ্ঞ বসে, তা চোখে পড়ার মতো। এখানকার প্রক্রিয়াজাত সুপারি—যা স্থানীয়ভাবে ভিজা ও শুকনা এই দুই পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়—তা চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বড় বড় পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ ইউরোপের বাজারেও এই সুপারির কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে এই অমিত সম্ভাবনার পথে কিছু অন্তরায়ও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং উপকূলীয় সাইক্লোনের আঘাতে সুপারির ফলন মাঝেমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিকূল এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় স্থানীয় চাষীরা এখন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ এবং সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই উপকূলীয় সুপারি একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে।

রামু থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত এই উপকূলীয় অঞ্চলে সুপারি কেবল একটি ফসল নয়, বরং এটি এই জনপদের মানুষের ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘লাল সোনা’ খ্যাত এই পণ্যটি জাতীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ