সাড়ে ২২ কেজি ওজনের মাছটির কেজি প্রতি দাম পড়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা; বহুমূল্য এই মাছটি নিয়ে চাঞ্চল্য মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে।
বাগেরহাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এক বিরল ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার অবতারণা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি থেকে ধরা পড়া একটি বিশালকায় 'দাঁতিনা ভোল' মাছ ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। বিরল প্রজাতির এই মাছটির ওজন সাড়ে ২২ কেজি এবং এটি রেকর্ড ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের কেবি বাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মিরাজ হাওলাদারের আড়তে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছটি বিক্রি করা হয়।
নিলামের তথ্যানুযায়ী, প্রতি মণ ৬ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা দরে মাছটি বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ১৫ হাজার ৭৭৭ টাকা, যা সাধারণ মাছের তুলনায় অবিশ্বাস্যভাবে চড়া। স্থানীয় প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ী হারুন মীর নিলামে সর্বোচ্চ ডাক দিয়ে এই মাছটি নিজের সংগ্রহে নেন। এর আগে গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের ইলিয়াছ হোসেনের মালিকানাধীন 'এফবি মায়ের দোয়া' ট্রলারে এই বিশাল আকারের মাছটি ধরা পড়েছিল।
ট্রলারের মাঝি ইলিয়াছ হোসেন তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "সাগরের আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল থাকায় জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ আসছিল না। আমাদের মন কিছুটা ভারাক্রান্ত ছিল। ফেরার ঠিক আগ মুহূর্তে শেষ চেষ্টা হিসেবে সাগরে জাল ফেলা হয়। রাতে যখন জাল টেনে তোলা হচ্ছিল, তখনই আমরা এই দাঁতিনা ভোল মাছটি পাই। এটি আমাদের জন্য অনেকটা লটারির মতো ভাগ্য বদলে দিয়েছে।"
কিন্তু কেন এই মাছের এত আকাশচুম্বী দাম? মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁতিনা ভোলের মূল আকর্ষণ এর মাংস নয়, বরং এর বায়ুথলি বা পটকা। চীন, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই পটকার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই বায়ুথলি থেকে উন্নতমানের সার্জিক্যাল থ্রেড বা অস্ত্রোপচারের সুতা এবং বিভিন্ন দামী প্রসাধনী তৈরি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর কাঁচামাল অত্যন্ত চড়া মূল্যে বিক্রি হয় বলেই স্থানীয় বাজারেও এর দাম এতটা বেশি।
উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী এ বিষয়ে বলেন, "অনেক বছর পর বাগেরহাটের ঘাটে এত বড় দাঁতিনা ভোল মাছের দেখা মিলল। তবে আমাদের সতর্ক হতে হবে যেন অসাধু উপায়ে ছোট মাছ শিকার করা না হয়। এই প্রাপ্তি উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়ের জন্য অনেক বড় আনন্দের সংবাদ।"
ক্রেতা হারুন মীর জানিয়েছেন, মাছটি বর্তমানে বরফ দিয়ে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি চট্টগ্রামের বড় মোকামে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্দেশ্যে রপ্তানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই এক মাছের প্রাপ্তি যেন এক রাতেই জেলের ভাগ্য প্রসন্ন করে দিল।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
সাড়ে ২২ কেজি ওজনের মাছটির কেজি প্রতি দাম পড়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা; বহুমূল্য এই মাছটি নিয়ে চাঞ্চল্য মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে।
বাগেরহাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এক বিরল ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার অবতারণা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি থেকে ধরা পড়া একটি বিশালকায় 'দাঁতিনা ভোল' মাছ ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। বিরল প্রজাতির এই মাছটির ওজন সাড়ে ২২ কেজি এবং এটি রেকর্ড ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের কেবি বাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মিরাজ হাওলাদারের আড়তে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছটি বিক্রি করা হয়।
নিলামের তথ্যানুযায়ী, প্রতি মণ ৬ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা দরে মাছটি বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ১৫ হাজার ৭৭৭ টাকা, যা সাধারণ মাছের তুলনায় অবিশ্বাস্যভাবে চড়া। স্থানীয় প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ী হারুন মীর নিলামে সর্বোচ্চ ডাক দিয়ে এই মাছটি নিজের সংগ্রহে নেন। এর আগে গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের ইলিয়াছ হোসেনের মালিকানাধীন 'এফবি মায়ের দোয়া' ট্রলারে এই বিশাল আকারের মাছটি ধরা পড়েছিল।
ট্রলারের মাঝি ইলিয়াছ হোসেন তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "সাগরের আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল থাকায় জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ আসছিল না। আমাদের মন কিছুটা ভারাক্রান্ত ছিল। ফেরার ঠিক আগ মুহূর্তে শেষ চেষ্টা হিসেবে সাগরে জাল ফেলা হয়। রাতে যখন জাল টেনে তোলা হচ্ছিল, তখনই আমরা এই দাঁতিনা ভোল মাছটি পাই। এটি আমাদের জন্য অনেকটা লটারির মতো ভাগ্য বদলে দিয়েছে।"
কিন্তু কেন এই মাছের এত আকাশচুম্বী দাম? মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁতিনা ভোলের মূল আকর্ষণ এর মাংস নয়, বরং এর বায়ুথলি বা পটকা। চীন, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই পটকার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই বায়ুথলি থেকে উন্নতমানের সার্জিক্যাল থ্রেড বা অস্ত্রোপচারের সুতা এবং বিভিন্ন দামী প্রসাধনী তৈরি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর কাঁচামাল অত্যন্ত চড়া মূল্যে বিক্রি হয় বলেই স্থানীয় বাজারেও এর দাম এতটা বেশি।
উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী এ বিষয়ে বলেন, "অনেক বছর পর বাগেরহাটের ঘাটে এত বড় দাঁতিনা ভোল মাছের দেখা মিলল। তবে আমাদের সতর্ক হতে হবে যেন অসাধু উপায়ে ছোট মাছ শিকার করা না হয়। এই প্রাপ্তি উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়ের জন্য অনেক বড় আনন্দের সংবাদ।"
ক্রেতা হারুন মীর জানিয়েছেন, মাছটি বর্তমানে বরফ দিয়ে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি চট্টগ্রামের বড় মোকামে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্দেশ্যে রপ্তানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই এক মাছের প্রাপ্তি যেন এক রাতেই জেলের ভাগ্য প্রসন্ন করে দিল।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন