পরিবেশ কন্ঠ

হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৭২৩

ডেঙ্গুর ভয়াল থাবা: একদিনে আরও ২ জনের মৃত্যু


প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ডেঙ্গুর ভয়াল থাবা: একদিনে আরও ২ জনের মৃত্যু
সংগৃহীত

সারা দেশে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত জ্বরের প্রকোপ; চলতি বছরে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমঅবনতি জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই ঘাতক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭২৩ জন ডেঙ্গু রোগী। 

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ সকাল আটটা পর্যন্ত আগের চব্বিশ ঘণ্টায় এই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে। 

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীরা। এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২১ হাজার ৫৫০ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে অনেক রোগীই বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন যাদের হিসাব এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে আশার দিক হলো, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮৯৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭১২ জন। বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে সর্বোচ্চ ৩২০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১০১ জন, চট্টগ্রামে ৮৩ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলেও ডেঙ্গু থাবা বাড়িয়েছে; রাজশাহীতে ৬৩ জন এবং ময়মনসিংহে ৪৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। 

বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে প্রাণহানি ঘটলেও মে মাসে ১ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জুলাই মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং এক মাসেই ৩৬ জনের মৃত্যু ঘটে। চলতি আগস্ট মাসের মাত্র ১২ দিনেই ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর বৃষ্টির অসময় এবং জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার বেশি হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে মশা নিধনে আরও তৎপর হতে হবে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব বা যেকোনো পাত্রে পাঁচ দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


ডেঙ্গুর ভয়াল থাবা: একদিনে আরও ২ জনের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সারা দেশে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত জ্বরের প্রকোপ; চলতি বছরে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমঅবনতি জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই ঘাতক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭২৩ জন ডেঙ্গু রোগী। 

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ সকাল আটটা পর্যন্ত আগের চব্বিশ ঘণ্টায় এই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে। 

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীরা। এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২১ হাজার ৫৫০ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে অনেক রোগীই বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন যাদের হিসাব এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে আশার দিক হলো, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮৯৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭১২ জন। বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে সর্বোচ্চ ৩২০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১০১ জন, চট্টগ্রামে ৮৩ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলেও ডেঙ্গু থাবা বাড়িয়েছে; রাজশাহীতে ৬৩ জন এবং ময়মনসিংহে ৪৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। 

বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে প্রাণহানি ঘটলেও মে মাসে ১ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জুলাই মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং এক মাসেই ৩৬ জনের মৃত্যু ঘটে। চলতি আগস্ট মাসের মাত্র ১২ দিনেই ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর বৃষ্টির অসময় এবং জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার বেশি হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে মশা নিধনে আরও তৎপর হতে হবে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব বা যেকোনো পাত্রে পাঁচ দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ