পরিবেশ কন্ঠ

কঠিন শর্তে ৩৩০ কোটি ডলারবিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার


প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কঠিন শর্তে ৩৩০ কোটি ডলারবিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার
সংগৃহীত

দেশের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখতে ৩৩০ কোটি ডলারের কঠিন শর্তের বৈদেশিক ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। দেশীয় মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনমনীয় ঋণ–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (এসসিএনসিএল) ৪৬তম সভায় এসব ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। মোট ৩৩০ কোটি ডলারের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের একটি নতুন প্রকল্পের জন্য ২০ কোটি ডলার এবং জ্বালানি খাতের জরুরি আমদানির জন্য আগের অনুমোদনের ৩১০ কোটি ডলার আছে।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) বাস্তবায়নাধীন ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এডিবির এই ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে। ২৫ বছর মেয়াদি এ ঋণে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড আছে। এ ছাড়া শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম ও শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ আছে।

ঋণের গ্র্যান্ট এলিমেন্ট মাত্র ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। গ্র্যান্ট এলিমেন্ট ২৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় অর্থ হলো, এটি কঠিন শর্তের বা অনমনীয় ঋণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ঋণটি বাজারদরের তুলনায় কতটা সুবিধাজনক শর্তে দেওয়া হচ্ছে, তার পরিমাপ হলো গ্র্যান্ট এলিমেন্ট।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই ২০ কোটি ডলার ঋণের প্রধান লক্ষ্য হলো, ঢাকা শহরের পার্শ্ববর্তী ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পিবিএস) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করা।

২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, মাটির নিচে ও ওপরে লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন, ডিজিটাল তদারকি ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। ফলে কারিগরি লোকসান বা সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত মানের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য আছে এই প্রকল্পের।

অন্যদিকে দেশের জ্বালানিনিরাপত্তা সুসংহত ও নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখতে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩১০ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদি অনমনীয় ঋণের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে এসসিএনসিএল।

এই ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৫০ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এলএনজি আমদানির জন্য ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে।

ইআরডির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার ধরা হয়েছে ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে। এটি আগের বছরের বার্ষিক হারের তুলনায় কিছুটা কম।

আইটিএফসি তাদের নিজস্ব উৎস থেকে ৬০ কোটি ডলার সংস্থান করবে। অবশিষ্ট ২৫০ কোটি ডলারের সংস্থান হবে দুই বা ততোধিক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যৌথ অর্থায়নের মাধ্যমে। জরুরি ভিত্তিতে দেশের জ্বালানির সরবরাহশৃঙ্খল অটুট রাখতে কমিটি ঋণ প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছে।

ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনমনীয় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণের বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বৈদেশিক অনমনীয় ঋণের দায় পরিশোধের ব্যয় কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিবেচনা করে এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।

বিষয় : অর্থনীতি জ্বালানি ঋণ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


কঠিন শর্তে ৩৩০ কোটি ডলারবিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখতে ৩৩০ কোটি ডলারের কঠিন শর্তের বৈদেশিক ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। দেশীয় মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনমনীয় ঋণ–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (এসসিএনসিএল) ৪৬তম সভায় এসব ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। মোট ৩৩০ কোটি ডলারের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের একটি নতুন প্রকল্পের জন্য ২০ কোটি ডলার এবং জ্বালানি খাতের জরুরি আমদানির জন্য আগের অনুমোদনের ৩১০ কোটি ডলার আছে।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) বাস্তবায়নাধীন ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এডিবির এই ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে। ২৫ বছর মেয়াদি এ ঋণে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড আছে। এ ছাড়া শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম ও শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ আছে।

ঋণের গ্র্যান্ট এলিমেন্ট মাত্র ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। গ্র্যান্ট এলিমেন্ট ২৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় অর্থ হলো, এটি কঠিন শর্তের বা অনমনীয় ঋণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ঋণটি বাজারদরের তুলনায় কতটা সুবিধাজনক শর্তে দেওয়া হচ্ছে, তার পরিমাপ হলো গ্র্যান্ট এলিমেন্ট।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই ২০ কোটি ডলার ঋণের প্রধান লক্ষ্য হলো, ঢাকা শহরের পার্শ্ববর্তী ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পিবিএস) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করা।

২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, মাটির নিচে ও ওপরে লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন, ডিজিটাল তদারকি ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। ফলে কারিগরি লোকসান বা সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত মানের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য আছে এই প্রকল্পের।

অন্যদিকে দেশের জ্বালানিনিরাপত্তা সুসংহত ও নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখতে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩১০ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদি অনমনীয় ঋণের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে এসসিএনসিএল।

এই ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৫০ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এলএনজি আমদানির জন্য ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে।

ইআরডির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার ধরা হয়েছে ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে। এটি আগের বছরের বার্ষিক হারের তুলনায় কিছুটা কম।

আইটিএফসি তাদের নিজস্ব উৎস থেকে ৬০ কোটি ডলার সংস্থান করবে। অবশিষ্ট ২৫০ কোটি ডলারের সংস্থান হবে দুই বা ততোধিক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যৌথ অর্থায়নের মাধ্যমে। জরুরি ভিত্তিতে দেশের জ্বালানির সরবরাহশৃঙ্খল অটুট রাখতে কমিটি ঋণ প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছে।

ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনমনীয় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণের বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বৈদেশিক অনমনীয় ঋণের দায় পরিশোধের ব্যয় কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিবেচনা করে এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ