পরিবেশ কন্ঠ

ঢাকায় বর্জ্য সংগ্রহের নামে চলছে অতিরিক্ত অর্থ আদায়


প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ঢাকায় বর্জ্য সংগ্রহের নামে চলছে অতিরিক্ত অর্থ আদায়
সংগৃহীত

সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে বাসাবাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাজধানীবাসী।

রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের নামে বাসিন্দাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ১৭ লাখ ৬৩ হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। অথচ বেসরকারি পরিচ্ছন্নতা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাসে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সিটি করপোরেশনের হিসাব মতে, সংস্থাটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিনিময়ে বছরে মাত্র ১২ কোটি টাকা আয় করে। অথচ এলাকাভিত্তিক ঠিকাদাররা প্রতিটি ফ্ল্যাট থেকে মাসে ১৫০ টাকা করে নিলে বছরে সম্ভাব্য আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩১৭ কোটি টাকা। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, হোল্ডিং ট্যাক্সের সঙ্গেই ভবনমালিকরা পরিচ্ছন্নতা কর প্রদান করেন। এরপরও সেবা নিশ্চিত করতে বাসিন্দাদের আলাদা করে ময়লার বিল গুনতে হচ্ছে, যা স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯-এর পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার জানান, নিজস্ব সক্ষমতার সীমাবদ্ধতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মাঠে নেমেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুদক ডিএসসিসি কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। সংস্থাটির দাবি, টাকা না দিলে ময়লা ফেলে না রাখার মতো জিম্মি করার নজিরও পাওয়া গেছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান জানান, নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু রয়েছে। সেখানে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়ার পরও আলাদা বিলের যৌক্তিকতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যার সঠিক সমাধানের অপেক্ষায় ভুক্তভোগী নগরবাসী।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


ঢাকায় বর্জ্য সংগ্রহের নামে চলছে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে বাসাবাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাজধানীবাসী।

রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের নামে বাসিন্দাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ১৭ লাখ ৬৩ হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। অথচ বেসরকারি পরিচ্ছন্নতা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাসে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সিটি করপোরেশনের হিসাব মতে, সংস্থাটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিনিময়ে বছরে মাত্র ১২ কোটি টাকা আয় করে। অথচ এলাকাভিত্তিক ঠিকাদাররা প্রতিটি ফ্ল্যাট থেকে মাসে ১৫০ টাকা করে নিলে বছরে সম্ভাব্য আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩১৭ কোটি টাকা। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, হোল্ডিং ট্যাক্সের সঙ্গেই ভবনমালিকরা পরিচ্ছন্নতা কর প্রদান করেন। এরপরও সেবা নিশ্চিত করতে বাসিন্দাদের আলাদা করে ময়লার বিল গুনতে হচ্ছে, যা স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯-এর পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার জানান, নিজস্ব সক্ষমতার সীমাবদ্ধতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মাঠে নেমেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুদক ডিএসসিসি কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। সংস্থাটির দাবি, টাকা না দিলে ময়লা ফেলে না রাখার মতো জিম্মি করার নজিরও পাওয়া গেছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান জানান, নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু রয়েছে। সেখানে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়ার পরও আলাদা বিলের যৌক্তিকতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যার সঠিক সমাধানের অপেক্ষায় ভুক্তভোগী নগরবাসী।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ