পরিবেশ কন্ঠ

৩৫ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প

পদ্মা ব্যারাজে বদলে যাবে ২৬ জেলার অর্থনীতি


প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পদ্মা ব্যারাজে বদলে যাবে ২৬ জেলার অর্থনীতি
সংগৃহীত

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৬টি জেলার অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে। পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এই মেগা প্রকল্পকে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘অর্থনৈতিক বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত প্রকল্পের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ কোনো সাধারণ অবকাঠামো নয়, বরং এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘মাস্টারমাইন্ড মেগা প্রজেক্ট’। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি, মৎস্য ও বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল এই পদ্মা ব্যারাজ। এর মাধ্যমে শুধু পানি ব্যবস্থাপনাই নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে এবং আগামী বছরের যেকোনো সময়ে প্রধানমন্ত্রী এর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হলে দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষ এর সরাসরি সুফল ভোগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের পানির অধিকার নিশ্চিত করার যে লড়াই শুরু করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। তিনি আরও যোগ করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা পদ্মা ব্যারাজ—যা-ই হোক না কেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে আলোচনায় মন্ত্রী জানান, এই ব্যারাজের ফলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। পাশাপাশি এখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে এবং বিশাল এলাকা জুড়ে নিয়ন্ত্রিত মৎস্য চাষের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা পূরণ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি সম্ভব হবে। 

উক্ত অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদসহ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদের তত্ত্বাবধানে মন্ত্রী প্রকল্পের কারিগরি দিকগুলো খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প সম্পন্ন হলে এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : পদ্মা ব্যারাজ তিস্তা মহাপরিকল্পনা

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পদ্মা ব্যারাজে বদলে যাবে ২৬ জেলার অর্থনীতি

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৬টি জেলার অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে। পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এই মেগা প্রকল্পকে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘অর্থনৈতিক বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত প্রকল্পের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ কোনো সাধারণ অবকাঠামো নয়, বরং এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘মাস্টারমাইন্ড মেগা প্রজেক্ট’। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি, মৎস্য ও বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল এই পদ্মা ব্যারাজ। এর মাধ্যমে শুধু পানি ব্যবস্থাপনাই নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে এবং আগামী বছরের যেকোনো সময়ে প্রধানমন্ত্রী এর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হলে দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষ এর সরাসরি সুফল ভোগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের পানির অধিকার নিশ্চিত করার যে লড়াই শুরু করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। তিনি আরও যোগ করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা পদ্মা ব্যারাজ—যা-ই হোক না কেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে আলোচনায় মন্ত্রী জানান, এই ব্যারাজের ফলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। পাশাপাশি এখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে এবং বিশাল এলাকা জুড়ে নিয়ন্ত্রিত মৎস্য চাষের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা পূরণ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি সম্ভব হবে। 

উক্ত অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদসহ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদের তত্ত্বাবধানে মন্ত্রী প্রকল্পের কারিগরি দিকগুলো খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প সম্পন্ন হলে এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ