সকালে মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন গৌরব, সন্ধ্যায় পৌরসভার পূর্ব চকপাড়ায় তার বাসায় চালানো হয় ব্যাপক তাণ্ডব ও লুটতরাজ।
নেত্রকোণা জেলা শহরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্য দিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার বাসভবনে বর্বরোচিত হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের পূর্ব চকপাড়া এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গৌরব আহমেদ খানের বাসভবনে এই ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার সকালে, যখন নেত্রকোণা শহরের সাতপাই এলাকায় ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। নিষিদ্ধ এই সংগঠনের মিছিলের খবর এবং এর একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। ওই মিছিলে সম্মুখভাগ থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় সাবেক ছাত্রনেতা গৌরব আহমেদ খানকে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সন্ধ্যায় একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গৌরবের বাড়িতে হামলা চালায়।
গৌরবের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসতেই একদল দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র, শোকেস, ফ্রিজ এমনকি রান্নাঘরের হাঁড়ি-পাতিল পর্যন্ত ভাঙচুর করে। গৌরবের মা শাহানাজ পারভিনের অভিযোগ, হামলাকারীরা আলমারি ভেঙে প্রায় সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে। এমনকি ফ্রিজে থাকা খাদ্যসামগ্রীও তারা নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে ওই বাড়িটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গৌরবের বাবা ফরহাদ আহমেদ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, তার ছেলে রাজনীতি করলেও কখনো জনস্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত ছিল না। তিনি বলেন, 'আমি ছেলেকে বারবার রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বলেছি। সে সব সময় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াত, গরিবদের চাল-কাপড় বিতরণ করত। অথচ আজ আমাদের ঘরবাড়ি তছনছ করে দেওয়া হলো।' হামলার সময় বাড়িতে থাকা সদস্যরা প্রাণের ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। যদিও এই হামলায় কারা সরাসরি জড়িত, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারেননি।
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকালে অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, মিছিলের ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে বাড়িতে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে ঘরবাড়িতে হামলার এই ঘটনাটি স্থানীয় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একপক্ষের দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, অন্যপক্ষ একে ব্যক্তি প্রতিহিংসা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সকালে মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন গৌরব, সন্ধ্যায় পৌরসভার পূর্ব চকপাড়ায় তার বাসায় চালানো হয় ব্যাপক তাণ্ডব ও লুটতরাজ।
নেত্রকোণা জেলা শহরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্য দিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার বাসভবনে বর্বরোচিত হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের পূর্ব চকপাড়া এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গৌরব আহমেদ খানের বাসভবনে এই ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার সকালে, যখন নেত্রকোণা শহরের সাতপাই এলাকায় ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। নিষিদ্ধ এই সংগঠনের মিছিলের খবর এবং এর একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। ওই মিছিলে সম্মুখভাগ থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় সাবেক ছাত্রনেতা গৌরব আহমেদ খানকে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সন্ধ্যায় একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গৌরবের বাড়িতে হামলা চালায়।
গৌরবের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসতেই একদল দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র, শোকেস, ফ্রিজ এমনকি রান্নাঘরের হাঁড়ি-পাতিল পর্যন্ত ভাঙচুর করে। গৌরবের মা শাহানাজ পারভিনের অভিযোগ, হামলাকারীরা আলমারি ভেঙে প্রায় সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে। এমনকি ফ্রিজে থাকা খাদ্যসামগ্রীও তারা নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে ওই বাড়িটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গৌরবের বাবা ফরহাদ আহমেদ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, তার ছেলে রাজনীতি করলেও কখনো জনস্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত ছিল না। তিনি বলেন, 'আমি ছেলেকে বারবার রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বলেছি। সে সব সময় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াত, গরিবদের চাল-কাপড় বিতরণ করত। অথচ আজ আমাদের ঘরবাড়ি তছনছ করে দেওয়া হলো।' হামলার সময় বাড়িতে থাকা সদস্যরা প্রাণের ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। যদিও এই হামলায় কারা সরাসরি জড়িত, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারেননি।
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকালে অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, মিছিলের ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে বাড়িতে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে ঘরবাড়িতে হামলার এই ঘটনাটি স্থানীয় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একপক্ষের দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, অন্যপক্ষ একে ব্যক্তি প্রতিহিংসা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন