পরিবেশ কন্ঠ

সোনারগাঁওয়ে বিদ্যুতের চাপ কমাতে মনির মিয়ার সোলার অটোরিকশা


প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সোনারগাঁওয়ে বিদ্যুতের চাপ কমাতে মনির মিয়ার সোলার অটোরিকশা
পরিবেশ কন্ঠ

জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে সফলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন নারায়ণগঞ্জের এক সাধারণ নাগরিক।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের একটি নিভৃত গ্রাম ঈমানের কান্দী। এই গ্রামেরই বাসিন্দা মোঃ মনির মিয়া বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে এক নীরব বিপ্লবের সূচনা করেছেন। দেশের চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে তিনি নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করেছেন এক ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। নিজের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম অটোরিকশাটি চার্জ দিতে তিনি এখন আর পুরোপুরি জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল নন; বরং সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করছেন প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে গিয়ে মনির মিয়া নিজ বাড়ির ছাদে স্থাপন করেছেন সোলার প্যানেল। এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি কেবল তার বাড়ির দৈনন্দিন আলোকসজ্জা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক চাহিদাই মেটাচ্ছেন না, বরং তার অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের একটি বড় অংশ এখান থেকেই সংগ্রহ করছেন। মনির মিয়া জানান, আগে যেখানে চার্জ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো, এখন তিনি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। এতে তার মাসিক খরচ যেমন কমেছে, তেমনি জাতীয় গ্রিডের ওপর থেকেও চাপ কমছে।

মনির মিয়ার এই উদ্যোগের বিষয়ে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইন অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, 'বর্তমানে সারাদেশে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশা চার্জ দিতে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। যদি মনির মিয়ার মতো অন্যান্য চালক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যক্তিগতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপনে এগিয়ে আসেন, তবে দেশের বিদ্যুৎ সংকট অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব হবে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। মনির মিয়ার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের সদিচ্ছা থাকলে সীমাবদ্ধ সম্পদের মধ্যেও উদ্ভাবনী সমাধান বের করা সম্ভব। স্থানীয় এলাকাবাসীও এখন মনিরের এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। গ্রামের অনেকেই এখন নিজেদের বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানোর চিন্তা করছেন।

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। সোনারগাঁওয়ের এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার গল্পটি দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লে এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার এই পথচলায় মনির মিয়ার মতো মানুষেরাই আমাদের প্রকৃত পথপ্রদর্শক।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : সৌরবিদ্যুৎ সোলার প্যানেল গ্রিন এনার্জি সোনারগাঁও অটোরিকশা বিদ্যুৎ সংকট নবায়নযোগ্য জ্বালানি

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সোনারগাঁওয়ে বিদ্যুতের চাপ কমাতে মনির মিয়ার সোলার অটোরিকশা

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে সফলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন নারায়ণগঞ্জের এক সাধারণ নাগরিক।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের একটি নিভৃত গ্রাম ঈমানের কান্দী। এই গ্রামেরই বাসিন্দা মোঃ মনির মিয়া বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে এক নীরব বিপ্লবের সূচনা করেছেন। দেশের চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে তিনি নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করেছেন এক ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। নিজের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম অটোরিকশাটি চার্জ দিতে তিনি এখন আর পুরোপুরি জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল নন; বরং সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করছেন প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে গিয়ে মনির মিয়া নিজ বাড়ির ছাদে স্থাপন করেছেন সোলার প্যানেল। এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি কেবল তার বাড়ির দৈনন্দিন আলোকসজ্জা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক চাহিদাই মেটাচ্ছেন না, বরং তার অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের একটি বড় অংশ এখান থেকেই সংগ্রহ করছেন। মনির মিয়া জানান, আগে যেখানে চার্জ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো, এখন তিনি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। এতে তার মাসিক খরচ যেমন কমেছে, তেমনি জাতীয় গ্রিডের ওপর থেকেও চাপ কমছে।

মনির মিয়ার এই উদ্যোগের বিষয়ে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইন অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, 'বর্তমানে সারাদেশে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশা চার্জ দিতে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। যদি মনির মিয়ার মতো অন্যান্য চালক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যক্তিগতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপনে এগিয়ে আসেন, তবে দেশের বিদ্যুৎ সংকট অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব হবে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। মনির মিয়ার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের সদিচ্ছা থাকলে সীমাবদ্ধ সম্পদের মধ্যেও উদ্ভাবনী সমাধান বের করা সম্ভব। স্থানীয় এলাকাবাসীও এখন মনিরের এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। গ্রামের অনেকেই এখন নিজেদের বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানোর চিন্তা করছেন।

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। সোনারগাঁওয়ের এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার গল্পটি দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লে এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার এই পথচলায় মনির মিয়ার মতো মানুষেরাই আমাদের প্রকৃত পথপ্রদর্শক।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ