“যেখানে যুদ্ধের গর্জন, সেখানে শান্তির মন্ত্র উচ্চারণই মানবসভ্যতার অনিবার্য দায়।” এমন দার্শনিক চেতনাকে ধারণ করে পাবনার ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘শান্তি ও অহিংসার লক্ষ্যে ৪র্থ বিশ্ব পরিভ্রমণ-২০২৬, আমার নগরী’ কর্মসূচি। মানবিক অস্তিত্বের সংকটকালে এই আয়োজন ছিল এক সচেতন প্রতিবাদ এবং সুন্দর আগামীর স্বপ্ন বুননের প্রক্রিয়া। অনুষ্ঠানটি শান্তি ও অহিংসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পূর্ণতা পায়।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে সমন্বয় করে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিত হয় এই বৈশ্বিক কর্মসূচি। ঈশ্বরদীর মাটিতে তার প্রতিফলন ঘটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মানবসৃষ্ট ‘পিস সিম্বল’ প্রদর্শন, সম্মাননা প্রদান, অহিংসা বিষয়ক প্রদর্শনী ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এসব আয়োজনে যেন প্রতিধ্বনিত হয়েছে আর্জেন্টিনার দার্শনিক, লেখক ও চিন্তাবিদ মারিও লুইস রদ্রিগেজ কোবোস—'সিলো'র সেই ঐতিহাসিক উচ্চারণ— “ব্যক্তিগত রূপান্তর এবং সামাজিক পরিবর্তনের সমন্বয়ে একটি সম্পূর্ণ অহিংস ও যুদ্ধমুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।”
দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসা শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ‘পিস অ্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ’ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এই সম্মাননা কেবল স্বীকৃতি নয়, বরং শান্তির পথে নিবেদিত প্রাণদের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। এছাড়া এস এম হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের মধ্যে নন-ভায়োলেন্স এক্সিবিশন ফুটবল ম্যাচ এবং এস এম হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রেলওয়ে নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার মাঠ যেন পরিণত হয় অহিংসার জীবন্ত দর্শনে— যেখানে প্রতিপক্ষ নয়, প্রতিদ্বন্দ্বীও নয়, কেবল সহঅস্তিত্বের সঙ্গী। পরে বিজয়ী ও বিজিত দলগুলোর খেলোয়াড়দের মধ্যে পদক বিতরণ করা হয়, যা স্মরণ করিয়ে দেয়— খেলার চূড়ান্ত জয় পরাজয়ে নয়, অংশগ্রহণে।
আনন্দমুখর পরিবেশে নানা আয়োজন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শান্তির বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠান উদযাপন
এছাড়া এস এম হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেলওয়ে নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ও ঈশ্বরদী ক্রিকেট একাডেমির শিক্ষার্থী ও সদস্যরা, হিউম্যানিস্ট মুভমেন্ট ঈশ্বরদীর গ্রুপ লিডার ও সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ— কারণ তারাই আগামী পৃথিবীর স্থপতি। তাদের মনে অহিংসার চেতনা রোপণ করা মানে ভবিষ্যতের যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়া।
অহিংসতা ও শান্তির বার্তা নিয়ে কর্মসূচি পালন
পরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়। ‘শান্তি, শক্তি এবং আনন্দ’ স্লোগানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এই স্লোগান কেবল তিনটি শব্দের সমাহার নয়; এটি এক দার্শনিক ঘোষণা— শান্তিই শক্তি, শান্তিই বিজয়।
মূলত এই আয়োজন প্রমাণ করে, ঈশ্বরদী কেবল একটি ভৌগোলিক নগরী নয়; এটি শান্তির একটি বিশ্বনাগরিক কেন্দ্র।
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
“যেখানে যুদ্ধের গর্জন, সেখানে শান্তির মন্ত্র উচ্চারণই মানবসভ্যতার অনিবার্য দায়।” এমন দার্শনিক চেতনাকে ধারণ করে পাবনার ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘শান্তি ও অহিংসার লক্ষ্যে ৪র্থ বিশ্ব পরিভ্রমণ-২০২৬, আমার নগরী’ কর্মসূচি। মানবিক অস্তিত্বের সংকটকালে এই আয়োজন ছিল এক সচেতন প্রতিবাদ এবং সুন্দর আগামীর স্বপ্ন বুননের প্রক্রিয়া। অনুষ্ঠানটি শান্তি ও অহিংসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পূর্ণতা পায়।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে সমন্বয় করে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিত হয় এই বৈশ্বিক কর্মসূচি। ঈশ্বরদীর মাটিতে তার প্রতিফলন ঘটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মানবসৃষ্ট ‘পিস সিম্বল’ প্রদর্শন, সম্মাননা প্রদান, অহিংসা বিষয়ক প্রদর্শনী ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এসব আয়োজনে যেন প্রতিধ্বনিত হয়েছে আর্জেন্টিনার দার্শনিক, লেখক ও চিন্তাবিদ মারিও লুইস রদ্রিগেজ কোবোস—'সিলো'র সেই ঐতিহাসিক উচ্চারণ— “ব্যক্তিগত রূপান্তর এবং সামাজিক পরিবর্তনের সমন্বয়ে একটি সম্পূর্ণ অহিংস ও যুদ্ধমুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।”
দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসা শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ‘পিস অ্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ’ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এই সম্মাননা কেবল স্বীকৃতি নয়, বরং শান্তির পথে নিবেদিত প্রাণদের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। এছাড়া এস এম হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের মধ্যে নন-ভায়োলেন্স এক্সিবিশন ফুটবল ম্যাচ এবং এস এম হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রেলওয়ে নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার মাঠ যেন পরিণত হয় অহিংসার জীবন্ত দর্শনে— যেখানে প্রতিপক্ষ নয়, প্রতিদ্বন্দ্বীও নয়, কেবল সহঅস্তিত্বের সঙ্গী। পরে বিজয়ী ও বিজিত দলগুলোর খেলোয়াড়দের মধ্যে পদক বিতরণ করা হয়, যা স্মরণ করিয়ে দেয়— খেলার চূড়ান্ত জয় পরাজয়ে নয়, অংশগ্রহণে।
আনন্দমুখর পরিবেশে নানা আয়োজন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শান্তির বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠান উদযাপন
এছাড়া এস এম হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেলওয়ে নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ও ঈশ্বরদী ক্রিকেট একাডেমির শিক্ষার্থী ও সদস্যরা, হিউম্যানিস্ট মুভমেন্ট ঈশ্বরদীর গ্রুপ লিডার ও সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ— কারণ তারাই আগামী পৃথিবীর স্থপতি। তাদের মনে অহিংসার চেতনা রোপণ করা মানে ভবিষ্যতের যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়া।
অহিংসতা ও শান্তির বার্তা নিয়ে কর্মসূচি পালন
পরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়। ‘শান্তি, শক্তি এবং আনন্দ’ স্লোগানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এই স্লোগান কেবল তিনটি শব্দের সমাহার নয়; এটি এক দার্শনিক ঘোষণা— শান্তিই শক্তি, শান্তিই বিজয়।
মূলত এই আয়োজন প্রমাণ করে, ঈশ্বরদী কেবল একটি ভৌগোলিক নগরী নয়; এটি শান্তির একটি বিশ্বনাগরিক কেন্দ্র।
আপনার মতামত লিখুন