সীতাকুণ্ডের ফকিরহাটে প্রায় দুই দশক আগে গ্রামীণ সড়কের পাশে সরকারি অর্থায়নে বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ রোপণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ। সম্প্রতি ঈদের বন্ধের সুযোগে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের দুই পাশের অন্তত ২১টি বড় আকৃতির গাছ কেটে বিক্রি করেছে স্থানীয় একটি চক্র।
স্থানীয় বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোহাম্মদ জুনু মিয়া গাছ কাটার প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্থানীয় যুবদল নেতারা অবৈধভাবে গাছগুলো কাটছে। তিনি প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করা হয়।
আবু তৈয়্যব নামে অপর এক বাসিন্দা জানান, যারা গাছ কাটছে এলাকার সবাই তাদের নাম জানে; কিন্তু তাদের নাম বললে মবের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কেউই নাম বলবে না।
এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় একটি চক্র রাস্তা সংস্কারে টেন্ডার পাসের কথা বলে রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন প্রজাতির বড় গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির সময়েই বেশি গাছ কাটা হয়েছে। কেটে নেওয়া বড় গাছগুলোর বাজার মূল্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা।
মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ জাফর বলেন, সরকারিভাবে রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. কামালকে সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার গাছগুলো কাটার দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে ইউএনও ইউনিয়ন পরিষদ সচিবকে ফোন করে গাছ কাটা বন্ধ করতে বলেছেন। ইউপি সচিবের কাছ থেকে তিনি বিষয়টি জানার পর কামালকে গাছ কাটা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি কামাল সমকালকে বলেন, তিনি রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দে ইউনিয়নের প্রধান রাস্তাটি প্রশস্তকরণ করা হচ্ছে। টেন্ডারে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার এলাকাবাসীকে দিয়ে গাছগুলো কাটাচ্ছেন। সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার সঙ্গে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা নেই।
সরকারি অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা গাছ কাটছে, তা তিনি জানেন না। ইউপি সচিবকে তদন্ত করে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বিষয় : গাছ কাটা

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
সীতাকুণ্ডের ফকিরহাটে প্রায় দুই দশক আগে গ্রামীণ সড়কের পাশে সরকারি অর্থায়নে বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ রোপণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ। সম্প্রতি ঈদের বন্ধের সুযোগে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের দুই পাশের অন্তত ২১টি বড় আকৃতির গাছ কেটে বিক্রি করেছে স্থানীয় একটি চক্র।
স্থানীয় বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোহাম্মদ জুনু মিয়া গাছ কাটার প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্থানীয় যুবদল নেতারা অবৈধভাবে গাছগুলো কাটছে। তিনি প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করা হয়।
আবু তৈয়্যব নামে অপর এক বাসিন্দা জানান, যারা গাছ কাটছে এলাকার সবাই তাদের নাম জানে; কিন্তু তাদের নাম বললে মবের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কেউই নাম বলবে না।
এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় একটি চক্র রাস্তা সংস্কারে টেন্ডার পাসের কথা বলে রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন প্রজাতির বড় গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির সময়েই বেশি গাছ কাটা হয়েছে। কেটে নেওয়া বড় গাছগুলোর বাজার মূল্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা।
মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ জাফর বলেন, সরকারিভাবে রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. কামালকে সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার গাছগুলো কাটার দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে ইউএনও ইউনিয়ন পরিষদ সচিবকে ফোন করে গাছ কাটা বন্ধ করতে বলেছেন। ইউপি সচিবের কাছ থেকে তিনি বিষয়টি জানার পর কামালকে গাছ কাটা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি কামাল সমকালকে বলেন, তিনি রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দে ইউনিয়নের প্রধান রাস্তাটি প্রশস্তকরণ করা হচ্ছে। টেন্ডারে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার এলাকাবাসীকে দিয়ে গাছগুলো কাটাচ্ছেন। সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার সঙ্গে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা নেই।
সরকারি অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা গাছ কাটছে, তা তিনি জানেন না। ইউপি সচিবকে তদন্ত করে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন