পরিবেশ কন্ঠ

দেবীদ্বারে বরাদ্দ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর নামে বানোয়াট বক্তব্য প্রচার


প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

দেবীদ্বারে বরাদ্দ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর নামে বানোয়াট বক্তব্য প্রচার
দেবীদ্বারে বরাদ্দ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর নামে প্রচারিত ফটোকার্ড। ছবি: স্ক্রিনশট

‘আমি হয়তো ১০ কোটি টাকা গোপনে নিয়েছি কিন্তু টাকাটা তো জনগণের উন্নয়নেই ব্যয় করেছি। এই টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ফ্যাসিস্টের মত আচরণ’—এমন একটি ‘বক্তব্যকে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।

এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে , এখানে এবং এখানে।

‘Bengali Steam’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৩১মে শেয়ার করা ফটোকার্ডটি আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশিবার ছড়িয়েছে। শেয়ার করা পোস্টটিতে আজ সোমবার (১ জুন) দুপুর ১টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত ৫ হাজার ৪০০ রিয়্যাকশন ও ১ হাজার কমেন্ট পড়েছে এবং ২০৬ বার শেয়ার রয়েছে।

‘Sanzana Choity Popy’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ফটোকার্ডটি শেয়ার করে ক্যাপশনে বলা হয়, ‘জুলাইয়ের ইমাম সাপ কি বলে? আমি হয়তো ১০ কোটি টাকা গোপনে নিয়েছি, কিন্তু জনগণের উন্নয়নেই ব্যায় করেছি, এই টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাকি ফ্যাসিষ্টদের মত আচরন বন্যার ১২ কোটিও এ ভাবেই মেরে দিছে, ইমাম সাপেরা, ইমাম সাপ আপনাদের সব টাকা কেন গোপনে আত্মসাত করতে হয়। ধরা খাওয়ার পরে এখন ইমাম সাপের, ইগু (ইগো) প্রবলেম হচ্ছে এই আর কি।’

শেয়ার করা এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী আলোচিত দাবিটিকে সত্য মনে করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

আলোচিত দাবিতে শেয়ার করা ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণে কোনো মূল উৎস কিংবা সময়ের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পরে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবির পক্ষে জাতীয় কোনো গণমাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধানে ‘রাজস্ব তহবিল থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাত ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন: কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ৩১ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একই সঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

গত শনিবার (৩০মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে মোস্তাক মিয়া এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা। তাঁরা চেয়েছিলেন যে, বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে সেটা ছিল না।’

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার রাতে মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘আমি বলছি না ওই টাকা তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। তাঁরা দুজনই নিজেদের উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ বা উন্নয়ন বরাদ্দের নামে বিপুল পরিমাণ ওই টাকা নিয়ে অন্যান্য উপজেলাগুলোকে বঞ্চিত করেছে; আমি সেটি বোঝাতে চেয়েছি। কারণ, আসিফ মাহমুদ আর হাসনাত আবদুল্লাহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু তাঁরাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে বাকি উপজেলাগুলোকে বঞ্চিত করেছে। এই কারণে অন্যান্য উপজেলাগুলো বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ওই অর্থবছরে জেলার বাকি উপজেলাগুলো সেই অর্থে কোনো বরাদ্দই পাইনি। আমি এই বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছিলাম।’

জেলা পরিষদ প্রশাসকের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জেলা পরিষদের প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তিনি সেটি দ্বারা উপজেলার জন্য বাজেট নেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার জন্য বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বাজেট তো কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে।’

এ ছাড়া জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘উনি এমনভাবে বলেছেন—মনে হচ্ছে যে, টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উনি বলেছেন, রাজস্ব খাত থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি তো রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ।’

এই বিষয়ে ডেইলি স্টার ‘২ উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে’: কুমিল্লা প্রশাসকের অভিযোগ, হাসনাত বললেন বিভ্রান্তিকর শিরোনামে এবং বিবিসি বাংলায় ‘জেলা পরিষদ থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাতের ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে কী ঘটেছে?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে এসব প্রতিবেদনের কোথাও আলোচিত ফটোকার্ডে প্রচারিত মন্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি হাসনাত আবদুল্লাহর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেবীদ্বার উপজেলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়ে একাধিক (১, ২) পোস্ট পাওয়া গেলেও আলোচিত ফটোকার্ডে প্রচারিত বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে পরে ‘Bengali Steam’ পেজটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেখানে শেয়ার করা বেশিরভাগ পোস্টই কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া, ৫৫ হাজার ফলোয়ারের ওই ফেসবুক পেজের বায়োতে স্পষ্ট অক্ষরে ‘Satire/Parody’ লেখা রয়েছে।

তথ্য-প্রমাণ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহর নামে প্রচারিত বক্তব্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। মূলত, এটি একটি স্যাটায়ার পেজ থেকে তৈরি ফটোকার্ড, যা ব্যবহারকারীরা সত্য মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সুতরাং, দেবীদ্বারে বরাদ্দ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর নামে প্রচারিত বক্তব্যটি বানোয়াট।

বিষয় : কুমিল্লা হাসনাত আবদুল্লাহ দেশ ফ্যাক্টচেক

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


দেবীদ্বারে বরাদ্দ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর নামে বানোয়াট বক্তব্য প্রচার

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

‘আমি হয়তো ১০ কোটি টাকা গোপনে নিয়েছি কিন্তু টাকাটা তো জনগণের উন্নয়নেই ব্যয় করেছি। এই টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ফ্যাসিস্টের মত আচরণ’—এমন একটি ‘বক্তব্যকে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।

এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে , এখানে এবং এখানে।

‘Bengali Steam’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৩১মে শেয়ার করা ফটোকার্ডটি আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশিবার ছড়িয়েছে। শেয়ার করা পোস্টটিতে আজ সোমবার (১ জুন) দুপুর ১টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত ৫ হাজার ৪০০ রিয়্যাকশন ও ১ হাজার কমেন্ট পড়েছে এবং ২০৬ বার শেয়ার রয়েছে।

‘Sanzana Choity Popy’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ফটোকার্ডটি শেয়ার করে ক্যাপশনে বলা হয়, ‘জুলাইয়ের ইমাম সাপ কি বলে? আমি হয়তো ১০ কোটি টাকা গোপনে নিয়েছি, কিন্তু জনগণের উন্নয়নেই ব্যায় করেছি, এই টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাকি ফ্যাসিষ্টদের মত আচরন বন্যার ১২ কোটিও এ ভাবেই মেরে দিছে, ইমাম সাপেরা, ইমাম সাপ আপনাদের সব টাকা কেন গোপনে আত্মসাত করতে হয়। ধরা খাওয়ার পরে এখন ইমাম সাপের, ইগু (ইগো) প্রবলেম হচ্ছে এই আর কি।’

শেয়ার করা এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী আলোচিত দাবিটিকে সত্য মনে করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

আলোচিত দাবিতে শেয়ার করা ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণে কোনো মূল উৎস কিংবা সময়ের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পরে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবির পক্ষে জাতীয় কোনো গণমাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধানে ‘রাজস্ব তহবিল থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাত ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন: কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ৩১ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একই সঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

গত শনিবার (৩০মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে মোস্তাক মিয়া এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা। তাঁরা চেয়েছিলেন যে, বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে সেটা ছিল না।’

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার রাতে মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘আমি বলছি না ওই টাকা তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। তাঁরা দুজনই নিজেদের উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ বা উন্নয়ন বরাদ্দের নামে বিপুল পরিমাণ ওই টাকা নিয়ে অন্যান্য উপজেলাগুলোকে বঞ্চিত করেছে; আমি সেটি বোঝাতে চেয়েছি। কারণ, আসিফ মাহমুদ আর হাসনাত আবদুল্লাহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু তাঁরাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে বাকি উপজেলাগুলোকে বঞ্চিত করেছে। এই কারণে অন্যান্য উপজেলাগুলো বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ওই অর্থবছরে জেলার বাকি উপজেলাগুলো সেই অর্থে কোনো বরাদ্দই পাইনি। আমি এই বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছিলাম।’

জেলা পরিষদ প্রশাসকের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জেলা পরিষদের প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তিনি সেটি দ্বারা উপজেলার জন্য বাজেট নেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার জন্য বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বাজেট তো কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে।’

এ ছাড়া জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘উনি এমনভাবে বলেছেন—মনে হচ্ছে যে, টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উনি বলেছেন, রাজস্ব খাত থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি তো রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ।’

এই বিষয়ে ডেইলি স্টার ‘২ উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে’: কুমিল্লা প্রশাসকের অভিযোগ, হাসনাত বললেন বিভ্রান্তিকর শিরোনামে এবং বিবিসি বাংলায় ‘জেলা পরিষদ থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাতের ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে কী ঘটেছে?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে এসব প্রতিবেদনের কোথাও আলোচিত ফটোকার্ডে প্রচারিত মন্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি হাসনাত আবদুল্লাহর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেবীদ্বার উপজেলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়ে একাধিক (১, ২) পোস্ট পাওয়া গেলেও আলোচিত ফটোকার্ডে প্রচারিত বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে পরে ‘Bengali Steam’ পেজটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেখানে শেয়ার করা বেশিরভাগ পোস্টই কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া, ৫৫ হাজার ফলোয়ারের ওই ফেসবুক পেজের বায়োতে স্পষ্ট অক্ষরে ‘Satire/Parody’ লেখা রয়েছে।

তথ্য-প্রমাণ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহর নামে প্রচারিত বক্তব্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। মূলত, এটি একটি স্যাটায়ার পেজ থেকে তৈরি ফটোকার্ড, যা ব্যবহারকারীরা সত্য মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সুতরাং, দেবীদ্বারে বরাদ্দ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর নামে প্রচারিত বক্তব্যটি বানোয়াট।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ