নদী রক্ষায় নোঙর ট্রাস্টের ২২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন ও জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনার গুরুত্বারোপ করে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য বাইসাইকেল র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও জাতীয় পর্যায়ে নদী রক্ষার সুনির্দিষ্ট স্বীকৃতি না থাকায় দেশের নদ-নদীগুলো দখল ও দূষণের কবলে পড়ে মৃতপ্রায়। এই প্রেক্ষাপটে, নদী, সমুদ্র ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিবেদিত সংগঠন ‘নোঙর ট্রাস্ট’ গত ২২ বছর ধরে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি—২৩ মে-কে ‘জাতীয় নদী দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে শনিবার সকালে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা তীরের সোয়ারিঘাট থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য বাইসাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় উঠে আসে নদী রক্ষার আবেগঘন এবং কারিগরি নানা দিক। নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস তার ব্যক্তিগত শোকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০৪ সালের ২৩ মে মেঘনা নদীতে এক মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় তিনি তার গর্ভধারিণী মাকে হারান। সেই ব্যক্তিগত বিয়োগব্যথাই তাকে নদী ও মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার নদী থাকলেও সরকারি উদাসীনতায় সেগুলোর বড় অংশ আজ মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার পথে। নদীগুলোর প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থা জানতে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় জরিপ পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, ‘প্রযুক্তি দিয়ে আমরা বিশটি পদ্মা সেতু বানাতে পারি, কিন্তু প্রকৃতি ছাড়া একটি পদ্মা নদী তৈরি করা অসম্ভব।’ তিনি নদী ও খালের মুখ দখলমুক্ত করতে বিশেষ ‘উদ্ধার কর্মসূচি’ গ্রহণের ওপর জোর দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বর্তমান জলবায়ু ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নদী রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী আজ মরুকরণের ঝুঁকির মুখে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নে সরকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। নদী রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার বিষয়টি বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।
পরিবেশবাদীদের মতে, নদী রক্ষা কেবল একটি দাপ্তরিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসযোগ্য দেশ নিশ্চিত করার একটি জাতীয় অঙ্গীকার। আলোচনায় রিভারাইন পিপল-এর মহাসচিব শেখ রোকনসহ দেশের বরেণ্য নদী গবেষক ও পরিবেশকর্মীরা অংশ নেন। তারা একমত হন যে, নদীর প্রাণস্পন্দন না ফিরলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষা অসম্ভব। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছার মেলবন্ধনেই সম্ভব আমাদের মৃতপ্রায় নদীগুলোকে আবার যৌবন ফিরিয়ে দেওয়া।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
নদী রক্ষায় নোঙর ট্রাস্টের ২২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন ও জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনার গুরুত্বারোপ করে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য বাইসাইকেল র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও জাতীয় পর্যায়ে নদী রক্ষার সুনির্দিষ্ট স্বীকৃতি না থাকায় দেশের নদ-নদীগুলো দখল ও দূষণের কবলে পড়ে মৃতপ্রায়। এই প্রেক্ষাপটে, নদী, সমুদ্র ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিবেদিত সংগঠন ‘নোঙর ট্রাস্ট’ গত ২২ বছর ধরে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি—২৩ মে-কে ‘জাতীয় নদী দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে শনিবার সকালে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা তীরের সোয়ারিঘাট থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য বাইসাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় উঠে আসে নদী রক্ষার আবেগঘন এবং কারিগরি নানা দিক। নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস তার ব্যক্তিগত শোকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০৪ সালের ২৩ মে মেঘনা নদীতে এক মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় তিনি তার গর্ভধারিণী মাকে হারান। সেই ব্যক্তিগত বিয়োগব্যথাই তাকে নদী ও মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার নদী থাকলেও সরকারি উদাসীনতায় সেগুলোর বড় অংশ আজ মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার পথে। নদীগুলোর প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থা জানতে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় জরিপ পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, ‘প্রযুক্তি দিয়ে আমরা বিশটি পদ্মা সেতু বানাতে পারি, কিন্তু প্রকৃতি ছাড়া একটি পদ্মা নদী তৈরি করা অসম্ভব।’ তিনি নদী ও খালের মুখ দখলমুক্ত করতে বিশেষ ‘উদ্ধার কর্মসূচি’ গ্রহণের ওপর জোর দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বর্তমান জলবায়ু ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নদী রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী আজ মরুকরণের ঝুঁকির মুখে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নে সরকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। নদী রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার বিষয়টি বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।
পরিবেশবাদীদের মতে, নদী রক্ষা কেবল একটি দাপ্তরিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসযোগ্য দেশ নিশ্চিত করার একটি জাতীয় অঙ্গীকার। আলোচনায় রিভারাইন পিপল-এর মহাসচিব শেখ রোকনসহ দেশের বরেণ্য নদী গবেষক ও পরিবেশকর্মীরা অংশ নেন। তারা একমত হন যে, নদীর প্রাণস্পন্দন না ফিরলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষা অসম্ভব। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছার মেলবন্ধনেই সম্ভব আমাদের মৃতপ্রায় নদীগুলোকে আবার যৌবন ফিরিয়ে দেওয়া।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন