পরিবেশ কন্ঠ

শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য প্রতিকারে করণীয়


প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য প্রতিকারে করণীয়
শামসুল হুদা

শিক্ষাঙ্গনে অবহেলা, বৈষম্য, নীতি-নৈতিকতাহীনতা, শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিয়ে প্রায় সর্বগ্রাসী হতাশা বিদ্যমান। এই দুরবস্থা শুধু আওয়ামী লীগ আমলের ১৬ বছরের দলবাজি ও দুর্নীতির কারণে নয়। বরং স্বাধীনতার পর থেকেই সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ব্যতিক্রমহীনভাবে যে অবহেলা, নৈরাজ্য, ক্ষমতাসীনদের আধিপত্য, দুর্নীতির চর্চা চলেছে, তারই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি আজকের পরিস্থিতি। এই নৈরাজ্য শুধু পাবলিক বা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নেই; বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তা সম্প্রসারিত হয়েছে।

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করলেও শিক্ষা বিষয়ে কমিশন গঠন করেনি। তবে শিক্ষা উপদেষ্টা নিজ উদ্যোগে শিক্ষাঙ্গনে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনতে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন বলে শুনেছি। তবে কমিটির সুপারিশ বা মতামত কী কাজে লাগানো হয়েছে, জানা নেই।

অবশ্য স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে। আমার জিজ্ঞাসা, কোনো সরকার কি বিভিন্ন শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ একসঙ্গে পর্যালোচনা করে সমন্বিতভাবে কোনো শিক্ষা সংস্কার প্রস্তাব প্রকাশ অথবা সংসদে উপস্থাপন করেছে? আমার জানামতে করেনি।

বর্তমান বিএনপি সরকারও রেওয়াজ মেনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে। তারা কিছু উদ্যোগ ইতোমধ্যে নিয়েছেন। পাশাপাশি আরও কয়েকটি জরুরি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

১. স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আলো আজও পৌঁছায়নি জনসাধারণের ২২-২৫ শতাংশের দরজায়। শিক্ষার অধিকারে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই গ্রামীণ দরিদ্র নারী, ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষক, সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসী, বেদে, দলিত, হরিজন, প্রতিবন্ধী, চা শ্রমিকসহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠী। তাদের অশিক্ষার অভিশাপে নিমজ্জিত রেখে সমাজ ও রাষ্ট্র সত্যিকারভাবে এগিয়ে যেতে পারবে না। তাই তাদের জন্য লাগবে বিশেষায়িত কর্মসূচি, যার সূচনা করতে ও নেতৃত্ব দিতে হবে সরকারকেই।

২. শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষা কারিকুলামের পরিবর্তন, উন্নয়ন যেমন জরুরি, তেমনি শিক্ষকদের শিক্ষকতার মান, দক্ষতা ও তাদের মর্যাদার স্বীকৃতি, প্রয়োজনীয় বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধির নিশ্চয়তা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বলা নিষ্প্রয়োজন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়– যেখানেই হোক, শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নৈতিক মান ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষার মান কখনও নিশ্চিত হবে না। 

৩. কয়েক দশকজুড়ে বিপুল সংখ্যায় বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান, পরিবেশ, শিক্ষকদের মান, বেতন কাঠামো, সুযোগ-সুবিধা, সক্ষমতার উন্নয়ন ইত্যাদি দেখভাল করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এগুলোর অধিকাংশেরই পরিচালনা কাঠামো দুর্বল বা নিয়মিতভাবে সক্রিয় নয়। কোনো কোনো স্কুল-কলেজের গভর্নিং কমিটি নিয়ন্ত্রণ করেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও তাঁর আত্মীয়স্বজন। ফলে অনিয়ম, দুর্নীতি সেখানে চলতে থাকে অবাধে। ফলে শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকতার মান-মর্যাদা বিপর্যস্ত হতে থাকে। 

৪. অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে আত্মপ্রকাশ করলেও কার্যত শিক্ষা বাণিজ্যই প্রধান লক্ষ্য। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আচরণ ও কার্যকলাপ দেখলে বিগত শতাব্দীর ল্যান্ড লর্ডদের মতো ‘শিক্ষা লর্ড’ মনে হবে। তারা শুধু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ আদায় করেই ক্ষান্ত হন না; সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সমাজকেও কর্মচারীর বেশি কিছু বলে গণ্য করেন না। বেতনের একটি অংশ নানা অছিলায় কেটে রাখা হয় অলিখিত নিয়মে। 

৫. প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চতর স্তর অবধি শিক্ষার মান, পরিবেশ এবং সুস্থ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের সঙ্গে অপরিহার্যভাবে সম্পৃক্ত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা, সম্মান ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা শিক্ষক অবমাননা, নারী শিক্ষকদের লাঞ্ছনার অনেক ঘটনা জানি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে।

৬. স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে নারী শিক্ষার্থী এবং নারী শিক্ষকদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, তাদের পোশাক-আশাক, চলাফেরা ও বাকস্বাধীনতার প্রশ্নটি অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্ব পায় না। 

৭. আরও অনেক সমস্যা রয়েছে। আপাতত সরকারের কাছে সবিনয় অনুরোধ, সরকারি-বেসরকারি নির্বশেষে সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুশাসন, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক– বিশেষত নারী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকবান্ধব পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ গভর্ন্যান্স অডিট, আর্থিক অনিয়মের যথার্থ ও নিয়মিত অডিট এবং নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেন্ডার অডিটের বিকল্প নেই।

সরকার উপরিউক্ত বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিলে আমাদের শিক্ষাঙ্গন রাতারাতি নৈরাজ্য, অবহেলা ও বৈষম্যমুক্ত হয়ে যাবে, তা নয়। তবে সেই পথে দৃঢ় পায়ে অগ্রসর হতে অনেক শক্তির জোগান বাড়বে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষায় আত্মবিশ্বাস আমরা ফিরে পাব।

সবশেষে একটি কথা বলতেই হবে, শিক্ষাঙ্গনকে যত দ্রুত সম্ভব দলবাজির রাজনীতির কলুষমুক্ত রাখতে সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো অজুহাতেই এই ক্ষেত্রটি যেমন ছিল তেমন আমরা দেখতে চাই না। 

শামসুল হুদা: মানবাধিকার কর্মী; নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি

বিষয় : সংস্কার মতামত

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য প্রতিকারে করণীয়

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

শিক্ষাঙ্গনে অবহেলা, বৈষম্য, নীতি-নৈতিকতাহীনতা, শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিয়ে প্রায় সর্বগ্রাসী হতাশা বিদ্যমান। এই দুরবস্থা শুধু আওয়ামী লীগ আমলের ১৬ বছরের দলবাজি ও দুর্নীতির কারণে নয়। বরং স্বাধীনতার পর থেকেই সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ব্যতিক্রমহীনভাবে যে অবহেলা, নৈরাজ্য, ক্ষমতাসীনদের আধিপত্য, দুর্নীতির চর্চা চলেছে, তারই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি আজকের পরিস্থিতি। এই নৈরাজ্য শুধু পাবলিক বা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নেই; বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তা সম্প্রসারিত হয়েছে।

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করলেও শিক্ষা বিষয়ে কমিশন গঠন করেনি। তবে শিক্ষা উপদেষ্টা নিজ উদ্যোগে শিক্ষাঙ্গনে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনতে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন বলে শুনেছি। তবে কমিটির সুপারিশ বা মতামত কী কাজে লাগানো হয়েছে, জানা নেই।

অবশ্য স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে। আমার জিজ্ঞাসা, কোনো সরকার কি বিভিন্ন শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ একসঙ্গে পর্যালোচনা করে সমন্বিতভাবে কোনো শিক্ষা সংস্কার প্রস্তাব প্রকাশ অথবা সংসদে উপস্থাপন করেছে? আমার জানামতে করেনি।

বর্তমান বিএনপি সরকারও রেওয়াজ মেনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে। তারা কিছু উদ্যোগ ইতোমধ্যে নিয়েছেন। পাশাপাশি আরও কয়েকটি জরুরি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

১. স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আলো আজও পৌঁছায়নি জনসাধারণের ২২-২৫ শতাংশের দরজায়। শিক্ষার অধিকারে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই গ্রামীণ দরিদ্র নারী, ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষক, সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসী, বেদে, দলিত, হরিজন, প্রতিবন্ধী, চা শ্রমিকসহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠী। তাদের অশিক্ষার অভিশাপে নিমজ্জিত রেখে সমাজ ও রাষ্ট্র সত্যিকারভাবে এগিয়ে যেতে পারবে না। তাই তাদের জন্য লাগবে বিশেষায়িত কর্মসূচি, যার সূচনা করতে ও নেতৃত্ব দিতে হবে সরকারকেই।

২. শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষা কারিকুলামের পরিবর্তন, উন্নয়ন যেমন জরুরি, তেমনি শিক্ষকদের শিক্ষকতার মান, দক্ষতা ও তাদের মর্যাদার স্বীকৃতি, প্রয়োজনীয় বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধির নিশ্চয়তা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বলা নিষ্প্রয়োজন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়– যেখানেই হোক, শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নৈতিক মান ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষার মান কখনও নিশ্চিত হবে না। 

৩. কয়েক দশকজুড়ে বিপুল সংখ্যায় বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান, পরিবেশ, শিক্ষকদের মান, বেতন কাঠামো, সুযোগ-সুবিধা, সক্ষমতার উন্নয়ন ইত্যাদি দেখভাল করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এগুলোর অধিকাংশেরই পরিচালনা কাঠামো দুর্বল বা নিয়মিতভাবে সক্রিয় নয়। কোনো কোনো স্কুল-কলেজের গভর্নিং কমিটি নিয়ন্ত্রণ করেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও তাঁর আত্মীয়স্বজন। ফলে অনিয়ম, দুর্নীতি সেখানে চলতে থাকে অবাধে। ফলে শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকতার মান-মর্যাদা বিপর্যস্ত হতে থাকে। 

৪. অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে আত্মপ্রকাশ করলেও কার্যত শিক্ষা বাণিজ্যই প্রধান লক্ষ্য। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আচরণ ও কার্যকলাপ দেখলে বিগত শতাব্দীর ল্যান্ড লর্ডদের মতো ‘শিক্ষা লর্ড’ মনে হবে। তারা শুধু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ আদায় করেই ক্ষান্ত হন না; সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সমাজকেও কর্মচারীর বেশি কিছু বলে গণ্য করেন না। বেতনের একটি অংশ নানা অছিলায় কেটে রাখা হয় অলিখিত নিয়মে। 

৫. প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চতর স্তর অবধি শিক্ষার মান, পরিবেশ এবং সুস্থ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের সঙ্গে অপরিহার্যভাবে সম্পৃক্ত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা, সম্মান ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা শিক্ষক অবমাননা, নারী শিক্ষকদের লাঞ্ছনার অনেক ঘটনা জানি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে।

৬. স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে নারী শিক্ষার্থী এবং নারী শিক্ষকদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, তাদের পোশাক-আশাক, চলাফেরা ও বাকস্বাধীনতার প্রশ্নটি অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্ব পায় না। 

৭. আরও অনেক সমস্যা রয়েছে। আপাতত সরকারের কাছে সবিনয় অনুরোধ, সরকারি-বেসরকারি নির্বশেষে সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুশাসন, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক– বিশেষত নারী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকবান্ধব পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ গভর্ন্যান্স অডিট, আর্থিক অনিয়মের যথার্থ ও নিয়মিত অডিট এবং নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেন্ডার অডিটের বিকল্প নেই।

সরকার উপরিউক্ত বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিলে আমাদের শিক্ষাঙ্গন রাতারাতি নৈরাজ্য, অবহেলা ও বৈষম্যমুক্ত হয়ে যাবে, তা নয়। তবে সেই পথে দৃঢ় পায়ে অগ্রসর হতে অনেক শক্তির জোগান বাড়বে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষায় আত্মবিশ্বাস আমরা ফিরে পাব।

সবশেষে একটি কথা বলতেই হবে, শিক্ষাঙ্গনকে যত দ্রুত সম্ভব দলবাজির রাজনীতির কলুষমুক্ত রাখতে সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো অজুহাতেই এই ক্ষেত্রটি যেমন ছিল তেমন আমরা দেখতে চাই না। 

শামসুল হুদা: মানবাধিকার কর্মী; নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ