পরিবেশ কন্ঠ

এনসিপির বড় চাল: উত্তর ও দক্ষিণে এলাকা বদল করলেন আসিফ-নাসীরুদ্দীন


প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

এনসিপির বড় চাল: উত্তর ও দক্ষিণে এলাকা বদল করলেন আসিফ-নাসীরুদ্দীন
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ফাইল ছবি

আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে কৌশলগতভাবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই শীর্ষ নেতা।

আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাদের বর্তমান ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। মূলত আসন্ন সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ সুগম করতেই এই দুই নেতার এলাকা রদবদল করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি তার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাভুক্ত আফতাবনগর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভোটার থাকলেও এখন তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে থাকা ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

এনসিপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং সাংগঠনিক কৌশল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তুষারের ভাষ্যমতে, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এর আগেও ঢাকা থেকে নির্বাচন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এখান থেকেই সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটে থাকার গুঞ্জন থাকলেও এনসিপির এই স্বতন্ত্র অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এ বিষয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটের কোনো প্রভাব পড়বে না। তারা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে স্থানীয় নির্বাচনে যার যার মতো করে লড়াই করবেন। আর সেই নিজস্ব কৌশলগত অবস্থানের কারণেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীনকে ভিন্ন ভিন্ন দুই সিটি কর্পোরেশনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩ ব্যবহারের মাধ্যমে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এই আবেদন করেছিলেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষার পর নির্বাচন কমিশন তার আবেদনটি মঞ্জুর করেছে। নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ভোটার নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করতে হয়, যা এই দুই নেতা অনুসরণ করেছেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনেই এনসিপি তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি নিশ্চিত করল, যা আসন্ন নির্বাচনে দলটির জন্য বাড়তি সুবিধা বয়ে আনতে পারে।

পরি-কণ্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এনসিপির বড় চাল: উত্তর ও দক্ষিণে এলাকা বদল করলেন আসিফ-নাসীরুদ্দীন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে কৌশলগতভাবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই শীর্ষ নেতা।

আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাদের বর্তমান ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। মূলত আসন্ন সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ সুগম করতেই এই দুই নেতার এলাকা রদবদল করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি তার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাভুক্ত আফতাবনগর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভোটার থাকলেও এখন তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে থাকা ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

এনসিপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং সাংগঠনিক কৌশল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তুষারের ভাষ্যমতে, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এর আগেও ঢাকা থেকে নির্বাচন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এখান থেকেই সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটে থাকার গুঞ্জন থাকলেও এনসিপির এই স্বতন্ত্র অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এ বিষয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটের কোনো প্রভাব পড়বে না। তারা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে স্থানীয় নির্বাচনে যার যার মতো করে লড়াই করবেন। আর সেই নিজস্ব কৌশলগত অবস্থানের কারণেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীনকে ভিন্ন ভিন্ন দুই সিটি কর্পোরেশনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩ ব্যবহারের মাধ্যমে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এই আবেদন করেছিলেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষার পর নির্বাচন কমিশন তার আবেদনটি মঞ্জুর করেছে। নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ভোটার নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করতে হয়, যা এই দুই নেতা অনুসরণ করেছেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনেই এনসিপি তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি নিশ্চিত করল, যা আসন্ন নির্বাচনে দলটির জন্য বাড়তি সুবিধা বয়ে আনতে পারে।

পরি-কণ্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ