পরিবেশ কন্ঠ

১৪ লাখ কৃষকের সুদসহ ঋণ মওকুফ করল সরকার


প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

১৪ লাখ কৃষকের সুদসহ ঋণ মওকুফ করল সরকার
সংগৃহীত

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া প্রান্তিক চাষিদের ১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা পরিশোধের ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী।

দেশের কৃষি অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি দিতে একটি বড় ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান সরকার। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। 

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদকে জানান যে, যারা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ গ্রহণ করেছিলেন, কেবল তারাই এই বিশেষ সুবিধার আওতায় এসেছেন। কৃষকদের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পাওনা ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে পরিশোধ করে দিয়েছে। এর ফলে এই বিশাল সংখ্যক কৃষককে আর ঋণের কিস্তি বা সুদের ঘানি টানতে হবে না।

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঋণ মওকুফ কার্যক্রম কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং দেশের সকল উপজেলার কৃষকরাই তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে এই সুবিধা ভোগ করেছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং কৃষকদের পুনরায় চাষাবাদে উৎসাহিত করতেই সরকার এই সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংসদ অধিবেশনে চুয়াডাঙ্গা জেলার কর পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলায় বর্তমানে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। তবে এর মধ্যে গত ২০২৫-২৬ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন। 

সরকারের এই নতুন কৃষিঋণ মওকুফ নীতি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যারা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাননি বা ঋণের চাপে দিশেহারা ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় ধরনের আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

কৃষি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রান্তিক কৃষকরা নতুন করে ফসল উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে সুসংহত করবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : কৃষিঋণ মওকুফ ঋণ মওকুফ সুবিধা কৃষি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৪ লাখ কৃষকের সুদসহ ঋণ মওকুফ করল সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া প্রান্তিক চাষিদের ১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা পরিশোধের ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী।

দেশের কৃষি অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি দিতে একটি বড় ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান সরকার। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। 

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদকে জানান যে, যারা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ গ্রহণ করেছিলেন, কেবল তারাই এই বিশেষ সুবিধার আওতায় এসেছেন। কৃষকদের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পাওনা ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে পরিশোধ করে দিয়েছে। এর ফলে এই বিশাল সংখ্যক কৃষককে আর ঋণের কিস্তি বা সুদের ঘানি টানতে হবে না।

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঋণ মওকুফ কার্যক্রম কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং দেশের সকল উপজেলার কৃষকরাই তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে এই সুবিধা ভোগ করেছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং কৃষকদের পুনরায় চাষাবাদে উৎসাহিত করতেই সরকার এই সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংসদ অধিবেশনে চুয়াডাঙ্গা জেলার কর পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলায় বর্তমানে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। তবে এর মধ্যে গত ২০২৫-২৬ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন। 

সরকারের এই নতুন কৃষিঋণ মওকুফ নীতি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যারা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাননি বা ঋণের চাপে দিশেহারা ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় ধরনের আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

কৃষি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রান্তিক কৃষকরা নতুন করে ফসল উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে সুসংহত করবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ