পরিবেশ কন্ঠ

জ্বালানি সংকটের জন্য আওয়ামী লীগের ভুল নীতি দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জ্বালানি সংকটের জন্য আওয়ামী লীগের ভুল নীতি দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংগৃহীত

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলা ও মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষার মাশুল দিচ্ছে দেশ; সংকট উত্তরণে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

দেশের বর্তমান তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘আত্মঘাতী নীতি’, অদূরদর্শিতা এবং বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা ও তোষণকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের অনুগত কতিপয় টাইকুন বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে অন্যায্যভাবে লালন-পালন করতে গিয়ে পুরো জ্বালানি খাতকে বিদেশনির্ভর করে তুলেছিল। এর ফলে দেশীয় খনি থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে, যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে বর্তমান সাধারণ জনগণকে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে উত্থাপিত একটি জরুরি নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। অধিবেশনের ওই পর্যায়ে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দেশে বর্তমানে যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দৃশ্যমান, তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার একটি বিষময় ফল। তিনি উল্লেখ করেন, দেশীয় ভূগর্ভস্থ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের পরিবর্তে আওয়ামী লীগ সরকার আমদানিনির্ভর নীতি গ্রহণ করেছিল শুধুমাত্র তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী মহলের মুনাফা নিশ্চিত করার জন্য। এই অশুভ আঁতাতের ফলেই আজ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গালফ যুদ্ধের মতো বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। এই বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের কৃষকদের স্বার্থকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। বোরো মৌসুমে সেচকাজ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত আমরা জ্বালানি তেলের দাম এক পয়সাও বাড়াইনি।”

পরবর্তীতে কেন তেলের দাম সমন্বয় করতে হলো, তার ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার রোধ করার স্বার্থে তেলের দাম সহনীয় মাত্রায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি করের বোঝা না চাপিয়ে কীভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়, তা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনে একটি টেকসই জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জ্বালানি সংকটের জন্য আওয়ামী লীগের ভুল নীতি দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলা ও মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষার মাশুল দিচ্ছে দেশ; সংকট উত্তরণে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

দেশের বর্তমান তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘আত্মঘাতী নীতি’, অদূরদর্শিতা এবং বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা ও তোষণকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের অনুগত কতিপয় টাইকুন বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে অন্যায্যভাবে লালন-পালন করতে গিয়ে পুরো জ্বালানি খাতকে বিদেশনির্ভর করে তুলেছিল। এর ফলে দেশীয় খনি থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে, যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে বর্তমান সাধারণ জনগণকে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে উত্থাপিত একটি জরুরি নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। অধিবেশনের ওই পর্যায়ে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দেশে বর্তমানে যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দৃশ্যমান, তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার একটি বিষময় ফল। তিনি উল্লেখ করেন, দেশীয় ভূগর্ভস্থ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের পরিবর্তে আওয়ামী লীগ সরকার আমদানিনির্ভর নীতি গ্রহণ করেছিল শুধুমাত্র তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী মহলের মুনাফা নিশ্চিত করার জন্য। এই অশুভ আঁতাতের ফলেই আজ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গালফ যুদ্ধের মতো বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। এই বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের কৃষকদের স্বার্থকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। বোরো মৌসুমে সেচকাজ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত আমরা জ্বালানি তেলের দাম এক পয়সাও বাড়াইনি।”

পরবর্তীতে কেন তেলের দাম সমন্বয় করতে হলো, তার ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার রোধ করার স্বার্থে তেলের দাম সহনীয় মাত্রায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি করের বোঝা না চাপিয়ে কীভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়, তা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনে একটি টেকসই জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ