সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করলেন বিএনপির প্রভাবশালী এই নীতিনির্ধারক; বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্লোগানে বরণ করে নেন অনুসারীরা।
দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশের মাটিতে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে অবশেষে স্বদেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাস। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী যাত্রীবাহী বিমানটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় নেতার প্রত্যাবর্তনে রাজধানীসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। মির্জা আব্বাসের সাথে তার সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসও দেশে ফিরেছেন।
বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জমায়েত বাড়তে থাকে। মির্জা আব্বাসকে স্বাগত জানাতে ব্যানার, ফেস্টুন এবং দলীয় পতাকা হাতে মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে বিমানবন্দর এলাকা। বিমানবন্দরের বহির্গমন গেটে তাকে ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বরণ করে নেন ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা নেতার সুস্থতা এবং দলের গতিশীলতা কামনায় বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল এবং পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। গত ১১ মার্চ এক ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ করে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় চিকিৎসার পর প্রয়োজনীয় ফলোআপের জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
উপস্থিত নেতা-কর্মীরা জানান, মির্জা আব্বাসের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছিল। তার এই ফিরে আসা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। সাবেক এই মন্ত্রী ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্যের আগমনে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের সাংগঠনিক চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সুস্থ অবস্থায় নেতার প্রত্যাবর্তনকে তারা দলের ঐক্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য যে, মির্জা আব্বাস বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করছেন। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং পুনরায় দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়া তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আত্মবিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করলেন বিএনপির প্রভাবশালী এই নীতিনির্ধারক; বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্লোগানে বরণ করে নেন অনুসারীরা।
দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশের মাটিতে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে অবশেষে স্বদেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাস। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী যাত্রীবাহী বিমানটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় নেতার প্রত্যাবর্তনে রাজধানীসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। মির্জা আব্বাসের সাথে তার সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসও দেশে ফিরেছেন।
বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জমায়েত বাড়তে থাকে। মির্জা আব্বাসকে স্বাগত জানাতে ব্যানার, ফেস্টুন এবং দলীয় পতাকা হাতে মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে বিমানবন্দর এলাকা। বিমানবন্দরের বহির্গমন গেটে তাকে ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বরণ করে নেন ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা নেতার সুস্থতা এবং দলের গতিশীলতা কামনায় বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল এবং পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। গত ১১ মার্চ এক ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ করে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় চিকিৎসার পর প্রয়োজনীয় ফলোআপের জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
উপস্থিত নেতা-কর্মীরা জানান, মির্জা আব্বাসের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছিল। তার এই ফিরে আসা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। সাবেক এই মন্ত্রী ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্যের আগমনে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের সাংগঠনিক চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সুস্থ অবস্থায় নেতার প্রত্যাবর্তনকে তারা দলের ঐক্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য যে, মির্জা আব্বাস বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করছেন। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং পুনরায় দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়া তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আত্মবিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন