নির্ধারিত সময়ে রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি চালান পৌঁছায়নি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালানটি বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় এসে পৌঁছায়নি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রহণকারী দলসহ সকল প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও শেষ পর্যন্ত জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানটি অবতরণ করেনি। প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকাশপথের জটিলতা ও এয়ার স্পেস ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত সংকটের কারণে চালানটি ঢাকায় আসা সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
রুশ সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, রোসাটম কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এয়ার স্পেস ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার কারণটি এখনো অস্পষ্ট। গত বছর প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সফলভাবে পৌঁছানোর পর এটি ছিল প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। রূপপুর প্রকল্পের এই জ্বালানি সরবরাহ রাশিয়ার কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নতুন এই বিপত্তি কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি না মেলা পর্যন্ত এই বিলম্বের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই জ্বালানি অত্যন্ত অপরিহার্য। ইউরেনিয়ামের মতো স্পর্শকাতর পদার্থ পরিবহনে নিরাপত্তা বিধি মেনে দীর্ঘ গ্রিন করিডোর ব্যবহারের বিষয়টিও এখানে অতীব জরুরি। এদিকে রুশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সাড়া না মেলায় প্রকল্পের গতিধারা নিয়ে জনমনে বিভিন্ন মহলে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রযুক্তিগত বা ভূ-রাজনৈতিক যেকোনো জটিলতাই হোক না কেন, এই বিলম্ব পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সামগ্রিক সূচিকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা প্রবল। বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম চালানের এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দ্রুত জ্বালানি নিশ্চিত করা সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রেখে প্রকল্পটি দ্রুত সচল করার বিকল্প নেই। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই কেবল এই অচলাবস্থা নিরসন সম্ভব বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নির্ধারিত সময়ে রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি চালান পৌঁছায়নি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালানটি বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় এসে পৌঁছায়নি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রহণকারী দলসহ সকল প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও শেষ পর্যন্ত জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানটি অবতরণ করেনি। প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকাশপথের জটিলতা ও এয়ার স্পেস ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত সংকটের কারণে চালানটি ঢাকায় আসা সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
রুশ সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, রোসাটম কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এয়ার স্পেস ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার কারণটি এখনো অস্পষ্ট। গত বছর প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সফলভাবে পৌঁছানোর পর এটি ছিল প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। রূপপুর প্রকল্পের এই জ্বালানি সরবরাহ রাশিয়ার কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নতুন এই বিপত্তি কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি না মেলা পর্যন্ত এই বিলম্বের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই জ্বালানি অত্যন্ত অপরিহার্য। ইউরেনিয়ামের মতো স্পর্শকাতর পদার্থ পরিবহনে নিরাপত্তা বিধি মেনে দীর্ঘ গ্রিন করিডোর ব্যবহারের বিষয়টিও এখানে অতীব জরুরি। এদিকে রুশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সাড়া না মেলায় প্রকল্পের গতিধারা নিয়ে জনমনে বিভিন্ন মহলে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রযুক্তিগত বা ভূ-রাজনৈতিক যেকোনো জটিলতাই হোক না কেন, এই বিলম্ব পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সামগ্রিক সূচিকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা প্রবল। বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম চালানের এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দ্রুত জ্বালানি নিশ্চিত করা সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রেখে প্রকল্পটি দ্রুত সচল করার বিকল্প নেই। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই কেবল এই অচলাবস্থা নিরসন সম্ভব বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন