পরিবেশ কন্ঠ

বরিশালে শিক্ষার্থীশূন্য আট উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ


প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বরিশালে শিক্ষার্থীশূন্য আট উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ
সংগৃহীত

শিক্ষক সংকট ও অব্যবস্থাপনায় বরিশাল বোর্ডের আটটি কলেজে এই বছর একজনও শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আটটি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের আটটি কলেজ শিক্ষার্থী সংকটে তীব্র অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠদানের অনুমতি নিয়ে যাত্রা শুরু করা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সময়ের ব্যবধানে মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রশাসনিক অবহেলা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এই অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলোর অধিকাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল। এমপিওভুক্তি না হওয়া, দক্ষ শিক্ষকের অভাব এবং স্থানীয় দলাদলির মতো জটিলতায় অনেক কলেজ স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। দাতা সদস্যদের সটকে পড়া এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটের ফলে অনেক কলেজ আর শিক্ষার্থী ধরে রাখতে পারেনি। বোর্ডের সার্ভারে নাম থাকলেও বাস্তবে শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো অস্তিত্বই নেই বললেই চলে।

শিক্ষাবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও অনুমোদনের ফলে জাতীয় পর্যায়ে এমন করুণ দৃশ্য তৈরি হয়েছে। যেখানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেখানে শুধু নামকরণের মোহ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কলেজ শাখায় পাঠদান করতে গিয়ে উভয় সংকট তৈরি করেছেন, যা শিক্ষা পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। সঠিক নজরদারি ও নীতিমালা কঠোর না করলে ভবিষ্যতে এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীশূন্য ও অকার্যকর কলেজগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে। এই কলেজগুলোর পাঠদান অনুমতি বাতিল ও শিক্ষা কার্যক্রম সংস্কারের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে। পুরো বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বরিশালে শিক্ষার্থীশূন্য আট উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

শিক্ষক সংকট ও অব্যবস্থাপনায় বরিশাল বোর্ডের আটটি কলেজে এই বছর একজনও শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আটটি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের আটটি কলেজ শিক্ষার্থী সংকটে তীব্র অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠদানের অনুমতি নিয়ে যাত্রা শুরু করা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সময়ের ব্যবধানে মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রশাসনিক অবহেলা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এই অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলোর অধিকাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল। এমপিওভুক্তি না হওয়া, দক্ষ শিক্ষকের অভাব এবং স্থানীয় দলাদলির মতো জটিলতায় অনেক কলেজ স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। দাতা সদস্যদের সটকে পড়া এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটের ফলে অনেক কলেজ আর শিক্ষার্থী ধরে রাখতে পারেনি। বোর্ডের সার্ভারে নাম থাকলেও বাস্তবে শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো অস্তিত্বই নেই বললেই চলে।

শিক্ষাবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও অনুমোদনের ফলে জাতীয় পর্যায়ে এমন করুণ দৃশ্য তৈরি হয়েছে। যেখানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেখানে শুধু নামকরণের মোহ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কলেজ শাখায় পাঠদান করতে গিয়ে উভয় সংকট তৈরি করেছেন, যা শিক্ষা পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। সঠিক নজরদারি ও নীতিমালা কঠোর না করলে ভবিষ্যতে এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীশূন্য ও অকার্যকর কলেজগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে। এই কলেজগুলোর পাঠদান অনুমতি বাতিল ও শিক্ষা কার্যক্রম সংস্কারের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে। পুরো বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ