পরিবেশ কন্ঠ

টেল প্লাস্টিক

সোনারগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতামূলক রচনা প্রতিযোগিতা



সোনারগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতামূলক রচনা প্রতিযোগিতা
পরিবেশ কন্ঠ

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশবান্ধব চিন্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিনব প্রয়াস

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক রচনা প্রতিযোগিতা। পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে এবং দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘টেল প্লাস্টিক’-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই আয়োজনে অংশ নেয় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের কয়েকশ শিক্ষার্থী। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং তথ্যনির্ভর দায়িত্বশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা শুধু লিখতেই বসেনি, বরং তাদের কলমে উঠে এসেছে এক আগামীর নীল নকশা। বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা মোকাবিলা, নদ-নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং বিশেষ করে বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম অভিশাপ ‘প্লাস্টিক দূষণ’ রোধে তাদের সৃজনশীল মতামত বিচারকদের মুগ্ধ করে। প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের রচনায় পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে করণীয় নিয়ে সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরে। আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের এই ভাবনাগুলোই ভবিষ্যতে একটি টেকসই ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পরিবেশের সংকটাপন্ন অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই যদি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে পরিবেশ রক্ষার বীজ বপন করা যায়, তবে তারাই ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করবে। নদীমাতৃক এই বাংলাদেশে জলাশয় সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অপরিসীম। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং হাতে-কলমে এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তারা পরিবেশের প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠবে।

টেল প্লাস্টিকের ব্র্যান্ড অফিসার কামরুল হাসান তার বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতার প্রশংসা করে বলেন, “আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মূল কারিগর। তারা যদি পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হয় এবং নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে উদ্যোগী হয়, তবেই আমাদের লক্ষ্য সফল হবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, পরিবেশ রক্ষা কেবল একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্লাস্টিক ব্যবহারের পর তা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার সংস্কৃতি এবং এর পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই রচনা প্রতিযোগিতার বার্তা প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তাদের পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে পড়বে। পরিবেশ সচেতনতাকে একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে ভবিষ্যতেও এমন নানামুখী কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। একটি সবুজ, সুন্দর ও দূষণমুক্ত সোনারগাঁও তথা বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণই এখন সময়ের দাবি।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : টেল প্লাস্টিক প্লাস্টিক দূষণ পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সোনারগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতামূলক রচনা প্রতিযোগিতা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশবান্ধব চিন্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিনব প্রয়াস

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক রচনা প্রতিযোগিতা। পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে এবং দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘টেল প্লাস্টিক’-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই আয়োজনে অংশ নেয় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের কয়েকশ শিক্ষার্থী। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং তথ্যনির্ভর দায়িত্বশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা শুধু লিখতেই বসেনি, বরং তাদের কলমে উঠে এসেছে এক আগামীর নীল নকশা। বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা মোকাবিলা, নদ-নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং বিশেষ করে বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম অভিশাপ ‘প্লাস্টিক দূষণ’ রোধে তাদের সৃজনশীল মতামত বিচারকদের মুগ্ধ করে। প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের রচনায় পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে করণীয় নিয়ে সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরে। আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের এই ভাবনাগুলোই ভবিষ্যতে একটি টেকসই ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পরিবেশের সংকটাপন্ন অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই যদি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে পরিবেশ রক্ষার বীজ বপন করা যায়, তবে তারাই ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করবে। নদীমাতৃক এই বাংলাদেশে জলাশয় সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অপরিসীম। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং হাতে-কলমে এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তারা পরিবেশের প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠবে।

টেল প্লাস্টিকের ব্র্যান্ড অফিসার কামরুল হাসান তার বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতার প্রশংসা করে বলেন, “আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মূল কারিগর। তারা যদি পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হয় এবং নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে উদ্যোগী হয়, তবেই আমাদের লক্ষ্য সফল হবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, পরিবেশ রক্ষা কেবল একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্লাস্টিক ব্যবহারের পর তা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার সংস্কৃতি এবং এর পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই রচনা প্রতিযোগিতার বার্তা প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তাদের পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে পড়বে। পরিবেশ সচেতনতাকে একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে ভবিষ্যতেও এমন নানামুখী কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। একটি সবুজ, সুন্দর ও দূষণমুক্ত সোনারগাঁও তথা বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণই এখন সময়ের দাবি।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ