পরিবেশ কন্ঠ

পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ

পলিথিন ও প্লাস্টিক বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা


প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পলিথিন ও প্লাস্টিক বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা
সংগৃহীত

সচিবালয়ে আয়োজিত পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সভায় সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে কঠোর হওয়ার কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণ রোধে এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের সর্বস্তরে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পরিবেশ সুরক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন। তিনি বলেন, পলিথিন ও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক কেবল মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে না, বরং শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। এই সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

পরিবেশ দূষণ কেবল প্লাস্টিকেই সীমাবদ্ধ নয়, সভায় বায়ু, পানি, মাটি এবং শব্দদূষণ নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নির্মাণকাজে পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশনা দেন, যাতে প্রচলিত ইটভাটা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ধোঁয়া ও কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়। তিনি মন্তব্য করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে হলে এখনই আমাদের কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

উচ্চপর্যায়ের এই সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ অন্যান্য মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. সাইমুম পারভেজ সভায় নিজ নিজ দপ্তরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। সভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও নদী দূষণ রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার ফলে আগামী দিনে দেশজুড়ে প্লাস্টিক ও পলিথিন বিরোধী অভিযান আরও জোরালো হবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পলিথিন ও প্লাস্টিক বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সচিবালয়ে আয়োজিত পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সভায় সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে কঠোর হওয়ার কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণ রোধে এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের সর্বস্তরে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পরিবেশ সুরক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন। তিনি বলেন, পলিথিন ও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক কেবল মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে না, বরং শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। এই সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

পরিবেশ দূষণ কেবল প্লাস্টিকেই সীমাবদ্ধ নয়, সভায় বায়ু, পানি, মাটি এবং শব্দদূষণ নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নির্মাণকাজে পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশনা দেন, যাতে প্রচলিত ইটভাটা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ধোঁয়া ও কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়। তিনি মন্তব্য করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে হলে এখনই আমাদের কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

উচ্চপর্যায়ের এই সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ অন্যান্য মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. সাইমুম পারভেজ সভায় নিজ নিজ দপ্তরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। সভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও নদী দূষণ রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার ফলে আগামী দিনে দেশজুড়ে প্লাস্টিক ও পলিথিন বিরোধী অভিযান আরও জোরালো হবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ