পরিবেশ কন্ঠ

প্রতি ফর্মায় ৩০ পয়সা দর বৃদ্ধি

সিন্ডিকেটের কবলে নতুন পাঠ্যবই: ৩০০ কোটি টাকার গচ্চা


প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সিন্ডিকেটের কবলে নতুন পাঠ্যবই: ৩০০ কোটি টাকার গচ্চা
সংগৃহীত

বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণ ঘিরে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বরাবরের মতো এবারও নানা অনিয়ম আর কারসাজিতে জিম্মি হয়ে পড়েছে আগামীর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নতুন বই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি ফর্মায় মুদ্রণ ব্যয় ৩০ পয়সা বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে সরকারের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে মানহীন কাগজ ব্যবহারের পাঁয়তারা এবং গুটিকতক প্রতিষ্ঠানের একাধিপত্যের কারণে পুরো মুদ্রণ প্রক্রিয়া এখন গভীর সংকটে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি ৯২ লাখ বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। তবে মুদ্রণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত বছরের তুলনায় কাগজের দাম স্থিতিশীল থাকলেও রহস্যজনকভাবে প্রতিটি ফর্মার মুদ্রণ ব্যয় ৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। এই বর্ধিত দরের কারণে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোপাটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের এখানেই শেষ নয়; দরপত্রের কঠোর নির্দেশ ছিল বই ছাপাতে হবে শতভাগ 'ভার্জিন পাল্প' কাগজ দিয়ে। কিন্তু মুদ্রণখানাগুলো স্থানীয় বাজার থেকে অনেক কম দামে নিম্নমানের রিসাইকেল কাগজ সংগ্রহের তোড়জোড় শুরু করেছে। ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা টন মূল্যের কাগজের বদলে মাত্র ৮০-৯০ হাজার টাকার নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের মাধ্যমে বড় অংকের অবৈধ মুনাফা হাতিয়ে নেওয়াই এই সিন্ডিকেটের মূল লক্ষ্য। এর ফলে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিবর্ণ ও ক্ষণভঙ্গুর বই পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও একক দরদাতার আধিপত্যের কারণে প্রায় ১ কোটি বইয়ের পুনঃদরপত্র বা রি-টেন্ডার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি। এতে মুদ্রণ কাজ শেষ করতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সরবরাহ করতে না পারলে মান নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় সময় মিলবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য প্রস্তাবিত নতুন চারটি বইয়ের মুদ্রণ প্রক্রিয়া এখনো শুরু না হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক আবু নাসের টুকু দাবি করেছেন যে, মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কিছুটা দর বাড়ানো হয়েছে এবং কঠোর তদারকির মাধ্যমে গুণগত মান বজায় রাখা হবে। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মুদ্রণ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে শতভাগ মান নিশ্চিতের নির্দেশ দিলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের প্রভাবে নির্ধারিত মানের পরিবর্তে প্রায় ৪৫ লাখ টন নিম্নমানের কাগজ কেনার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা রুখতে না পারলে সরকারের মহতী এই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে। সঠিক সময়ে মানসম্মত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


সিন্ডিকেটের কবলে নতুন পাঠ্যবই: ৩০০ কোটি টাকার গচ্চা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণ ঘিরে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বরাবরের মতো এবারও নানা অনিয়ম আর কারসাজিতে জিম্মি হয়ে পড়েছে আগামীর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নতুন বই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি ফর্মায় মুদ্রণ ব্যয় ৩০ পয়সা বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে সরকারের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে মানহীন কাগজ ব্যবহারের পাঁয়তারা এবং গুটিকতক প্রতিষ্ঠানের একাধিপত্যের কারণে পুরো মুদ্রণ প্রক্রিয়া এখন গভীর সংকটে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি ৯২ লাখ বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। তবে মুদ্রণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত বছরের তুলনায় কাগজের দাম স্থিতিশীল থাকলেও রহস্যজনকভাবে প্রতিটি ফর্মার মুদ্রণ ব্যয় ৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। এই বর্ধিত দরের কারণে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোপাটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের এখানেই শেষ নয়; দরপত্রের কঠোর নির্দেশ ছিল বই ছাপাতে হবে শতভাগ 'ভার্জিন পাল্প' কাগজ দিয়ে। কিন্তু মুদ্রণখানাগুলো স্থানীয় বাজার থেকে অনেক কম দামে নিম্নমানের রিসাইকেল কাগজ সংগ্রহের তোড়জোড় শুরু করেছে। ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা টন মূল্যের কাগজের বদলে মাত্র ৮০-৯০ হাজার টাকার নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের মাধ্যমে বড় অংকের অবৈধ মুনাফা হাতিয়ে নেওয়াই এই সিন্ডিকেটের মূল লক্ষ্য। এর ফলে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিবর্ণ ও ক্ষণভঙ্গুর বই পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও একক দরদাতার আধিপত্যের কারণে প্রায় ১ কোটি বইয়ের পুনঃদরপত্র বা রি-টেন্ডার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি। এতে মুদ্রণ কাজ শেষ করতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সরবরাহ করতে না পারলে মান নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় সময় মিলবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য প্রস্তাবিত নতুন চারটি বইয়ের মুদ্রণ প্রক্রিয়া এখনো শুরু না হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক আবু নাসের টুকু দাবি করেছেন যে, মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কিছুটা দর বাড়ানো হয়েছে এবং কঠোর তদারকির মাধ্যমে গুণগত মান বজায় রাখা হবে। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মুদ্রণ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে শতভাগ মান নিশ্চিতের নির্দেশ দিলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের প্রভাবে নির্ধারিত মানের পরিবর্তে প্রায় ৪৫ লাখ টন নিম্নমানের কাগজ কেনার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা রুখতে না পারলে সরকারের মহতী এই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে। সঠিক সময়ে মানসম্মত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ