পরিবেশ কন্ঠ

বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার তুলনায় মানবিক বিভাগের ফলাফলে বড় ধস


প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার তুলনায় মানবিক বিভাগের ফলাফলে বড় ধস
সংগৃহীত

বিজ্ঞান বিভাগে সাফল্যের বিপরীতে মানবিকে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য; দুশ্চিন্তায় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদগণ

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষা অঙ্গনে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের তুলনায় মানবিক বিভাগের ফলাফল রীতিমতো আশঙ্কাজনক। সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে এবার মানবিকে পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৪৮.৭৪ শতাংশে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। সামগ্রিক পাসের হারকে টেনে নিচে নামিয়েছে মানবিক বিভাগের এই অস্বাভাবিক বিপর্যয়। বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বিজ্ঞানে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮০.৬৪ শতাংশ, যেখানে ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৬৪.২৯ শতাংশ। বিজ্ঞানে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন পাস করেছে, যা শিক্ষার গুণগত মানে বিজ্ঞান বিভাগের প্রাধান্যকে পুনরায় স্পষ্ট করে।

বিভাগীয় এই পার্থক্যের পাশাপাশি বোর্ডভিত্তিক বৈষম্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। মানবিক বিভাগে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে দিনাজপুর বোর্ডে, যেখানে পাসের হার মাত্র ৩৮.৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই বোর্ডে প্রতি ১০ জনে ৬ জন শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে, মানবিকে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে ঢাকা বোর্ড, যদিও সেখানকার পাসের হারও সন্তোষজনক নয় (৫৫.৬২ শতাংশ)।

বিজ্ঞান বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে যশোর বোর্ড, যাদের সাফল্যের হার ৮৬.৯০ শতাংশ। ঢাকা বোর্ড বিজ্ঞানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ৮৫.৯০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন। মানবিকে কেন এই গণফেলের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে নানা মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মফস্বল এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা এবং পাঠ্যসূচির জটিলতাকে এই পতনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ফলাফল উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় ধরণের শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের এই বিশাল সংখ্যক অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষা জীবনে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, তা এখন বড় প্রশ্ন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : এসএসসি পরীক্ষা

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার তুলনায় মানবিক বিভাগের ফলাফলে বড় ধস

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিজ্ঞান বিভাগে সাফল্যের বিপরীতে মানবিকে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য; দুশ্চিন্তায় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদগণ

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষা অঙ্গনে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের তুলনায় মানবিক বিভাগের ফলাফল রীতিমতো আশঙ্কাজনক। সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে এবার মানবিকে পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৪৮.৭৪ শতাংশে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। সামগ্রিক পাসের হারকে টেনে নিচে নামিয়েছে মানবিক বিভাগের এই অস্বাভাবিক বিপর্যয়। বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বিজ্ঞানে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮০.৬৪ শতাংশ, যেখানে ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৬৪.২৯ শতাংশ। বিজ্ঞানে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন পাস করেছে, যা শিক্ষার গুণগত মানে বিজ্ঞান বিভাগের প্রাধান্যকে পুনরায় স্পষ্ট করে।

বিভাগীয় এই পার্থক্যের পাশাপাশি বোর্ডভিত্তিক বৈষম্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। মানবিক বিভাগে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে দিনাজপুর বোর্ডে, যেখানে পাসের হার মাত্র ৩৮.৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই বোর্ডে প্রতি ১০ জনে ৬ জন শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে, মানবিকে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে ঢাকা বোর্ড, যদিও সেখানকার পাসের হারও সন্তোষজনক নয় (৫৫.৬২ শতাংশ)।

বিজ্ঞান বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে যশোর বোর্ড, যাদের সাফল্যের হার ৮৬.৯০ শতাংশ। ঢাকা বোর্ড বিজ্ঞানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ৮৫.৯০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন। মানবিকে কেন এই গণফেলের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে নানা মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মফস্বল এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা এবং পাঠ্যসূচির জটিলতাকে এই পতনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ফলাফল উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় ধরণের শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের এই বিশাল সংখ্যক অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষা জীবনে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, তা এখন বড় প্রশ্ন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ