হিমালয় সংলগ্ন হ্রদে অস্বাভাবিক পানিবৃদ্ধি; লাল সতর্কতা জারি করেছে চীন, নিখোঁজ কয়েকশ বিদেশি তীর্থযাত্রী
প্রকৃতির রুদ্রমূর্তিতে বিপর্যস্ত নেপালের আকাশে নতুন করে ঘনিয়ে আসছে আরও বড় এক দুর্যোগের কালো মেঘ। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও প্রাণঘাতী বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হিমালয়সংলগ্ন একটি বিশাল প্রাকৃতিক হ্রদের বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক জরুরি সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা ওই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত সংকটময় হতে পারে। হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধটি যদি ভেঙে যায়, তবে নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী নিচু এলাকাগুলো মুহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে এক প্রবল জলোচ্ছ্বাস।
চীনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মোহনায় ভূমিধসের ফলে এই বিশাল হ্রদটি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার পানি জমে আছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার পানি এই হ্রদে যুক্ত হতে পারে। ফলে পানির প্রচণ্ড চাপে আলগা হয়ে আসা প্রাকৃতিক বাঁধটি যেকোনো মুহূর্তে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আঁচ করতে চীনা বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে রিয়েল-টাইম বন্যা সিমুলেশন শুরু করেছেন।
এই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বানের পানি কোন দিকে যাবে এবং কতটুকু জনপদ গ্রাস করবে, তার একটি আগাম ধারণা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এদিকে নেপালের চলমান দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। কেবল নারায়ণী নদী থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ১২১টি মরদেহ। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন প্রায় ৯০০ জন বিদেশি তীর্থযাত্রী ও পর্যটক, যাদের অবস্থান শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী।
অন্যদিকে চীনের সীমান্তবর্তী শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলেও ভূমিধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে গ্লোবাল টাইমস। দুর্গম পাহাড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার বা ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও অবিরাম বৃষ্টি ও নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা তাদের কার্যক্রমকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করছে। নদী পাড়ের মানুষের জন্য এখন প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়।
যদি এই বাঁধটি সত্যি ভেঙে পড়ে, তবে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অবকাঠামো ও জীবনযাত্রার ওপর তা এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
হিমালয় সংলগ্ন হ্রদে অস্বাভাবিক পানিবৃদ্ধি; লাল সতর্কতা জারি করেছে চীন, নিখোঁজ কয়েকশ বিদেশি তীর্থযাত্রী
প্রকৃতির রুদ্রমূর্তিতে বিপর্যস্ত নেপালের আকাশে নতুন করে ঘনিয়ে আসছে আরও বড় এক দুর্যোগের কালো মেঘ। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও প্রাণঘাতী বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হিমালয়সংলগ্ন একটি বিশাল প্রাকৃতিক হ্রদের বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক জরুরি সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা ওই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত সংকটময় হতে পারে। হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধটি যদি ভেঙে যায়, তবে নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী নিচু এলাকাগুলো মুহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে এক প্রবল জলোচ্ছ্বাস।
চীনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মোহনায় ভূমিধসের ফলে এই বিশাল হ্রদটি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার পানি জমে আছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার পানি এই হ্রদে যুক্ত হতে পারে। ফলে পানির প্রচণ্ড চাপে আলগা হয়ে আসা প্রাকৃতিক বাঁধটি যেকোনো মুহূর্তে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আঁচ করতে চীনা বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে রিয়েল-টাইম বন্যা সিমুলেশন শুরু করেছেন।
এই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বানের পানি কোন দিকে যাবে এবং কতটুকু জনপদ গ্রাস করবে, তার একটি আগাম ধারণা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এদিকে নেপালের চলমান দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। কেবল নারায়ণী নদী থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ১২১টি মরদেহ। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন প্রায় ৯০০ জন বিদেশি তীর্থযাত্রী ও পর্যটক, যাদের অবস্থান শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী।
অন্যদিকে চীনের সীমান্তবর্তী শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলেও ভূমিধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে গ্লোবাল টাইমস। দুর্গম পাহাড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার বা ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও অবিরাম বৃষ্টি ও নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা তাদের কার্যক্রমকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করছে। নদী পাড়ের মানুষের জন্য এখন প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়।
যদি এই বাঁধটি সত্যি ভেঙে পড়ে, তবে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অবকাঠামো ও জীবনযাত্রার ওপর তা এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন