চলতি বছর পাসের হার নেমেছে ৬২.২৫ শতাংশে; সাফল্যের শিখরে ছাত্রীরা, কাল থেকে শুরু পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন।
দেশের মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ইতিহাসে গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নেতিবাচক ফলাফল দেখা গেল এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায়। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। এর আগে ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত দেড় যুগেরও বেশি সময়ের মধ্যে এ বছরই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাসের গণ্ডি পার হতে পেরেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। কেবল পাসের হারই নয়, মেধার সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অবনমন লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার ৩৫৬ জন কম। ২০২১ সালে যখন দেশে রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, সেখান থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ফলাফলের এই নিম্নমুখী প্রবণতা ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্টদের।
ফলাফলের লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বরাবরের মতো এবারও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। ছাত্রীদের পাসের হার যেখানে ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, সেখানে ছাত্রদের পাসের হার মাত্র ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে; ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জনই ছাত্রী। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও পাসের হার এবার তুলনামূলক কম। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে তাদের ফলাফল জানতে পারছে। তবে যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, তাদের জন্য মঙ্গলবার থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে শিক্ষা বোর্ড। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিয়ে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এই আবেদন করতে পারবে। এদিকে ফলাফল পরবর্তী ধাপে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রমও শুরু হতে যাচ্ছে। যদিও এবার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, তবুও একাদশে প্রায় ২৬ লাখ আসনের বিপরীতে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় প্রায় পৌনে আট লাখ আসন শূন্য থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
চলতি বছর পাসের হার নেমেছে ৬২.২৫ শতাংশে; সাফল্যের শিখরে ছাত্রীরা, কাল থেকে শুরু পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন।
দেশের মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ইতিহাসে গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নেতিবাচক ফলাফল দেখা গেল এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায়। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। এর আগে ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত দেড় যুগেরও বেশি সময়ের মধ্যে এ বছরই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাসের গণ্ডি পার হতে পেরেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। কেবল পাসের হারই নয়, মেধার সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অবনমন লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার ৩৫৬ জন কম। ২০২১ সালে যখন দেশে রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, সেখান থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ফলাফলের এই নিম্নমুখী প্রবণতা ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্টদের।
ফলাফলের লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বরাবরের মতো এবারও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। ছাত্রীদের পাসের হার যেখানে ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, সেখানে ছাত্রদের পাসের হার মাত্র ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে; ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জনই ছাত্রী। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও পাসের হার এবার তুলনামূলক কম। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে তাদের ফলাফল জানতে পারছে। তবে যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, তাদের জন্য মঙ্গলবার থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে শিক্ষা বোর্ড। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিয়ে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এই আবেদন করতে পারবে। এদিকে ফলাফল পরবর্তী ধাপে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রমও শুরু হতে যাচ্ছে। যদিও এবার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, তবুও একাদশে প্রায় ২৬ লাখ আসনের বিপরীতে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় প্রায় পৌনে আট লাখ আসন শূন্য থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন