পরিবেশ কন্ঠ

সিলেটে বন বিভাগের বিরুদ্ধেই গাছ কাটার অভিযোগ


প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সিলেটে বন বিভাগের বিরুদ্ধেই গাছ কাটার অভিযোগ
চার লেনের কাজের অজুহাতে কাটা হচ্ছে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের টিলাগড়-সুরমা গেট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের শত শত গাছ

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের টিলাগড়-সুরমা গেট অংশে চার লেনের প্রকল্পের দোহাই দিয়ে কাটা হচ্ছে সহস্রাধিক গাছ, দায় নিতে নারাজ সড়ক বিভাগ

সিলেটের প্রাণপ্রকৃতি আর সবুজের সমারোহের ওপর যেন থাবা বসিয়েছে বন বিভাগ। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সৌন্দর্য বর্ধনকারী সারি সারি বৃক্ষ এখন ধ্বংসের মুখে। মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার সরকারি প্রকল্পের দোহাই দিয়ে টিলাগড় থেকে সুরমা গেট পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকার অন্তত এক হাজারেরও বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অথচ এই গাছ কাটার যৌক্তিকতা নিয়ে এখন বড় ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, মহাসড়কের দুই পাশে পড়ে আছে কাটা গাছের গুড়ি আর ডালপালা, যা দেখে স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী এই গাছগুলো নিধনের পেছনে বন বিভাগের রহস্যময় ভূমিকা স্থানীয়দের হতবাক করেছে। প্রকল্পের নাম করে বন বিভাগের এই গাছ কাটার মহোৎসব রীতিমতো একটি পরিবেশগত বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, যেখানে উন্নয়নের স্বার্থে গাছ রক্ষা করার কথা, সেখানে উন্নয়নের অজুহাতে নির্বিচারে বন উজাড় করা হচ্ছে। ঠিকাদার আয়নাল হক জানিয়েছেন, বন বিভাগের নির্দেশেই তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং ইতোমধ্যে সাত শতের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে বন কর্মকর্তাদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের গুঞ্জনও বেশ জোরালো। পরিবেশকর্মী আবদুল করিম কিম এটিকে উন্নয়ন নয়, বরং পরিবেশের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বন বিভাগ গাছ রক্ষার পরিবর্তে ধ্বংসের উৎসবে মেতে উঠেছে। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মো. সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, টিলাগড় থেকে সুরমা গেট পর্যন্ত অংশটি বর্তমান চার লেন প্রকল্পের আওতায়ই নেই। এমনকি এই অংশের গাছ কাটার জন্য সওজের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন বা অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তাহলে বন বিভাগ কার স্বার্থে, কোন শক্তিতে এই গাছগুলো কাটছে, সেটি এখন বড় রহস্য। কর্তৃপক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : বন বিভাগ গাছ নিধন সিলেট নিউজ বৃক্ষ নিধন সড়ক উন্নয়ন

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিলেটে বন বিভাগের বিরুদ্ধেই গাছ কাটার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের টিলাগড়-সুরমা গেট অংশে চার লেনের প্রকল্পের দোহাই দিয়ে কাটা হচ্ছে সহস্রাধিক গাছ, দায় নিতে নারাজ সড়ক বিভাগ

সিলেটের প্রাণপ্রকৃতি আর সবুজের সমারোহের ওপর যেন থাবা বসিয়েছে বন বিভাগ। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সৌন্দর্য বর্ধনকারী সারি সারি বৃক্ষ এখন ধ্বংসের মুখে। মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার সরকারি প্রকল্পের দোহাই দিয়ে টিলাগড় থেকে সুরমা গেট পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকার অন্তত এক হাজারেরও বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অথচ এই গাছ কাটার যৌক্তিকতা নিয়ে এখন বড় ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, মহাসড়কের দুই পাশে পড়ে আছে কাটা গাছের গুড়ি আর ডালপালা, যা দেখে স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী এই গাছগুলো নিধনের পেছনে বন বিভাগের রহস্যময় ভূমিকা স্থানীয়দের হতবাক করেছে। প্রকল্পের নাম করে বন বিভাগের এই গাছ কাটার মহোৎসব রীতিমতো একটি পরিবেশগত বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, যেখানে উন্নয়নের স্বার্থে গাছ রক্ষা করার কথা, সেখানে উন্নয়নের অজুহাতে নির্বিচারে বন উজাড় করা হচ্ছে। ঠিকাদার আয়নাল হক জানিয়েছেন, বন বিভাগের নির্দেশেই তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং ইতোমধ্যে সাত শতের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে বন কর্মকর্তাদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের গুঞ্জনও বেশ জোরালো। পরিবেশকর্মী আবদুল করিম কিম এটিকে উন্নয়ন নয়, বরং পরিবেশের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বন বিভাগ গাছ রক্ষার পরিবর্তে ধ্বংসের উৎসবে মেতে উঠেছে। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মো. সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, টিলাগড় থেকে সুরমা গেট পর্যন্ত অংশটি বর্তমান চার লেন প্রকল্পের আওতায়ই নেই। এমনকি এই অংশের গাছ কাটার জন্য সওজের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন বা অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তাহলে বন বিভাগ কার স্বার্থে, কোন শক্তিতে এই গাছগুলো কাটছে, সেটি এখন বড় রহস্য। কর্তৃপক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ