পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মাপাড়ের জনপদে আজ রচিত হলো এক অনন্য গৌরবের উপাখ্যান। মঙ্গলবার দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে বাংলাদেশ তার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করল। মূলত দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ।
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে অত্যন্ত আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল চুল্লিতে স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে ।
এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় ৪৫ দিন, যেখানে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পীভূত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে ।
কেন্দ্রটি টানা ৬০ বছর বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম, তবে বিশেষ সংস্কারের মাধ্যমে এর আয়ুষ্কাল আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
একবার জ্বালানি লোড করলে টানা ১৮ মাস কোনো ঝক্কি ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। যদিও প্রাথমিক খরচের প্রাক্কলন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ইউনিট ১২ টাকা ধরা হয়েছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সুরক্ষায় এটি এক বিশাল অর্জন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাংলাদেশের উন্নয়নের এক অবিনশ্বর মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
বিষয় : পারমাণবিক বিদ্যুৎ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মাপাড়ের জনপদে আজ রচিত হলো এক অনন্য গৌরবের উপাখ্যান। মঙ্গলবার দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে বাংলাদেশ তার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করল। মূলত দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ।
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে অত্যন্ত আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল চুল্লিতে স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে ।
এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় ৪৫ দিন, যেখানে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পীভূত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে ।
কেন্দ্রটি টানা ৬০ বছর বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম, তবে বিশেষ সংস্কারের মাধ্যমে এর আয়ুষ্কাল আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
একবার জ্বালানি লোড করলে টানা ১৮ মাস কোনো ঝক্কি ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। যদিও প্রাথমিক খরচের প্রাক্কলন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ইউনিট ১২ টাকা ধরা হয়েছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সুরক্ষায় এটি এক বিশাল অর্জন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাংলাদেশের উন্নয়নের এক অবিনশ্বর মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন