পরিবেশ কণ্ঠ

আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন সাবেক নেতাদের

গণভোটের প্রচারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোটি টাকা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তোলপাড়



গণভোটের প্রচারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোটি টাকা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তোলপাড়
সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা অনুদান গ্রহণকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন এবং এর ব্যয় নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরেই তীব্র মতবিরোধ ও অভিযোগের পাহাড় জমেছে। রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

কি ঘটেছিল? মূলত অভিযোগ উঠেছে যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুঈনুল ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত এক কোটি টাকার তথ্য গোপন করেছেন। সংগঠনের বিলুপ্ত কমিটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত খরচে প্রচার চালানোর কথা থাকলেও পরে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং এর কোনো স্বচ্ছ হিসাব অন্য নেতাদের দেওয়া হয়নি।

কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো? সিনথিয়া জাহীনের দাবি অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় নেতারা কোটি টাকা সংগ্রহের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। আন্দোলনের নৈতিকতা বজায় রাখতে এই অর্থের উৎস ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল বলে তারা মনে করেন। অন্যদিকে, আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে পাল্টা দাবি করেছেন অভিযুক্ত নেতারা।

কীভাবে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল? রিফাত রশিদ ফেসবুক লাইভে এসে ব্যাখ্যা দেন যে, নির্বাচনের আগে গণভোটের ‘ইয়েস ক্যাম্পেইন’ পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন ছিল। যেহেতু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নিবন্ধিত সংগঠন নয়, তাই ‘স্যাড’ (SAD) নামক একটি ফাউন্ডেশন তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে এই টাকা নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়াটি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সহায়তায় এবং আইনি শর্ত মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। ৫ কোটি টাকার চুক্তি থাকলেও তারা মাত্র ১ কোটি টাকা পেয়েছিলেন এবং সেই অর্থের নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদন ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রিফাত ও হাসিব জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করে নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছেন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


গণভোটের প্রচারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোটি টাকা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা অনুদান গ্রহণকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন এবং এর ব্যয় নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরেই তীব্র মতবিরোধ ও অভিযোগের পাহাড় জমেছে। রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

কি ঘটেছিল? মূলত অভিযোগ উঠেছে যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুঈনুল ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত এক কোটি টাকার তথ্য গোপন করেছেন। সংগঠনের বিলুপ্ত কমিটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত খরচে প্রচার চালানোর কথা থাকলেও পরে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং এর কোনো স্বচ্ছ হিসাব অন্য নেতাদের দেওয়া হয়নি।

কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো? সিনথিয়া জাহীনের দাবি অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় নেতারা কোটি টাকা সংগ্রহের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। আন্দোলনের নৈতিকতা বজায় রাখতে এই অর্থের উৎস ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল বলে তারা মনে করেন। অন্যদিকে, আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে পাল্টা দাবি করেছেন অভিযুক্ত নেতারা।

কীভাবে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল? রিফাত রশিদ ফেসবুক লাইভে এসে ব্যাখ্যা দেন যে, নির্বাচনের আগে গণভোটের ‘ইয়েস ক্যাম্পেইন’ পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন ছিল। যেহেতু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নিবন্ধিত সংগঠন নয়, তাই ‘স্যাড’ (SAD) নামক একটি ফাউন্ডেশন তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে এই টাকা নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়াটি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সহায়তায় এবং আইনি শর্ত মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। ৫ কোটি টাকার চুক্তি থাকলেও তারা মাত্র ১ কোটি টাকা পেয়েছিলেন এবং সেই অর্থের নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদন ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রিফাত ও হাসিব জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করে নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছেন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ