পরিবেশ কণ্ঠ

চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন কমছে ৩ হাজার

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাতে বড় ঘাটতির শঙ্কা: দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস



জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাতে বড় ঘাটতির শঙ্কা: দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস
ফাইল ছবি

দেশের জ্বালানি খাতে ঘনীভূত হওয়া সংকটের জেরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আজ বৃহস্পতিবার জানানো হয়, সারাদেশে আজ প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি হতে পারে। যেখানে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট, সেখানে উৎপাদন হতে পারে মাত্র ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এই বিশাল ব্যবধান ঘোচাতে দেশজুড়ে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের পথে হাঁটছে সরকার।

কিন্তু কেন এই আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়? বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানান, প্রধানত গ্যাস ও জ্বালানির তীব্র স্বল্পতাই এর মূল কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের সক্ষমতার অর্ধেকও উৎপাদন করতে পারছে না। গতকালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১২ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে গ্যাস দিয়ে মাত্র ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতের আদানির একটি ইউনিট এবং বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

বিরাজমান এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে? বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, গ্রামীণ জনপদে সেচ কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য শহর ও গ্রামে লোডশেডিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানী ঢাকাকে আপাতত লোডশেডিংমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন, আগামী ২৬ এবং ২৮ এপ্রিল বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু হলে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন সরবরাহ যুক্ত হলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে। তীব্র গরম আর ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের এই সময়ে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : বিদ্যুৎকেন্দ্র

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাতে বড় ঘাটতির শঙ্কা: দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের জ্বালানি খাতে ঘনীভূত হওয়া সংকটের জেরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আজ বৃহস্পতিবার জানানো হয়, সারাদেশে আজ প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি হতে পারে। যেখানে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট, সেখানে উৎপাদন হতে পারে মাত্র ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এই বিশাল ব্যবধান ঘোচাতে দেশজুড়ে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের পথে হাঁটছে সরকার।


কিন্তু কেন এই আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়? বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানান, প্রধানত গ্যাস ও জ্বালানির তীব্র স্বল্পতাই এর মূল কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের সক্ষমতার অর্ধেকও উৎপাদন করতে পারছে না। গতকালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১২ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে গ্যাস দিয়ে মাত্র ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতের আদানির একটি ইউনিট এবং বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।


বিরাজমান এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে? বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, গ্রামীণ জনপদে সেচ কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য শহর ও গ্রামে লোডশেডিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানী ঢাকাকে আপাতত লোডশেডিংমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন, আগামী ২৬ এবং ২৮ এপ্রিল বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু হলে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন সরবরাহ যুক্ত হলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে। তীব্র গরম আর ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের এই সময়ে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।


পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ