পরিবেশ কণ্ঠ

ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ—হাজারো কর্মী আটকে, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে স্থবির বাংলাদেশের শ্রমবাজার, বিদেশযাত্রা প্রায় বন্ধ



মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে স্থবির বাংলাদেশের শ্রমবাজার, বিদেশযাত্রা প্রায় বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর পুরো অঞ্চলে আকাশপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রমিক যান সৌদি আরব-এ। এছাড়া কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান-এও বিপুলসংখ্যক কর্মী যান। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এসব দেশে কর্মী পাঠানো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, মার্চ মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী মোট ৭৯৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিদেশগামী শ্রমিকদের যাত্রা স্থগিত রয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ঢাকার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইট বাতিলের কারণে অন্তত ৬৫ হাজার কর্মী বিদেশে যেতে পারেননি। একই সঙ্গে নতুন করে ছাড়পত্র নেওয়ার সংখ্যাও কমে গেছে। চলতি মাসে প্রায় ৩৬ হাজার কর্মী ছাড়পত্র নিলেও তাদের বেশিরভাগই এখনো দেশ ছাড়তে পারেননি।

এদিকে ছুটিতে দেশে এসে আটকে পড়া প্রবাসীরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, ফলে তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বিকল্প শ্রমবাজার তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, জাপানসহ নতুন বাজারে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ জোরদার না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশের শ্রমবাজার।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে স্থবির বাংলাদেশের শ্রমবাজার, বিদেশযাত্রা প্রায় বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর পুরো অঞ্চলে আকাশপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রমিক যান সৌদি আরব-এ। এছাড়া কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান-এও বিপুলসংখ্যক কর্মী যান। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এসব দেশে কর্মী পাঠানো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, মার্চ মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী মোট ৭৯৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিদেশগামী শ্রমিকদের যাত্রা স্থগিত রয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ঢাকার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইট বাতিলের কারণে অন্তত ৬৫ হাজার কর্মী বিদেশে যেতে পারেননি। একই সঙ্গে নতুন করে ছাড়পত্র নেওয়ার সংখ্যাও কমে গেছে। চলতি মাসে প্রায় ৩৬ হাজার কর্মী ছাড়পত্র নিলেও তাদের বেশিরভাগই এখনো দেশ ছাড়তে পারেননি।

এদিকে ছুটিতে দেশে এসে আটকে পড়া প্রবাসীরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, ফলে তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বিকল্প শ্রমবাজার তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, জাপানসহ নতুন বাজারে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ জোরদার না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশের শ্রমবাজার।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ