পরিবেশ কন্ঠ

সব খাবারেই প্রোটিন থাকতে হবে এমন ধারণা ভুল: আলিয়া ভাট



সব খাবারেই প্রোটিন থাকতে হবে এমন ধারণা ভুল: আলিয়া ভাট
ছবি: সংগৃহীত

বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট বর্তমানে অতিরিক্ত ‘প্রোটিন-প্রোটিন’ ট্রেন্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললে জানিয়ে দেন তার আসল পুষ্টি বাজারচলতি সাপ্লিমেন্টে নয়; বরং শৈশবের সাধারণ ঘরোয়া খাবারেই রয়েছে। সম্প্রতি বোন শাহীন ভাটের পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন— প্রোটিন ডায়েটের নামে অতিরিক্ত মাতামাতি শরীরের ক্ষতি করছে। ডাল-ভাত, রুটি, সবজি, মাছ কিংবা ডিমের মতো সাদামাটা খাবারই আপনার শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য যথেষ্ট।

আলিয়া ভাট বলেন, প্রোটিন খেয়ে ওজন কমানোর হিড়িক হালফিলের অভ্যাস। আগে বাড়ির তৈরি খাবার খেয়েই ভালো থাকতেন মানুষ। ভাতের সঙ্গে ডাল-সবজি, রুটি খেলেও তার সঙ্গে ডাল, তরকারি আর মাছ অথবা মাংসের কোনো একটি আমিষ পাতে থাকত। তা থেকেই আসত ভরপুর প্রোটিন, ভিটামিন ও ফাইবার। আলাদা করে ‘প্রোটিন ডায়েট’ করার প্রয়োজন হতো না।

কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রোটিন নিয়ে এত মাতামাতি দেখে ক্লান্ত বলে জানান আলিয়া ভাট। অভিনেত্রী বলেন, সব খাবারেই প্রোটিন থাকতে হবে এমন ধারণা ভুল। অতিরিক্ত প্রোটিনে আসক্তি শরীরের ক্ষতিই করছে। তার চেয়ে ঘরোয়া খাবার থেকেই ভরপুর পুষ্টি পাবে আপনার শরীর। 

আরও পড়ুনআরও পড়ুনব্লুটুথ হেডফোন কি মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর, যা বলছে বিজ্ঞান

তিনি বলেন, শুধু মাছ, মাংস খেয়ে ওজন কমানোর যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা ইউরোপ-আমেরিকায় বহু আগেই শুরু হয়েছে। এখন এ দেশেও হচ্ছে। এ ধরনের ডায়েটের নাম দেওয়া হয়েছে— ‘হাই-প্রোটিন ডায়েট’ বা ‘প্রোটিন ডায়েট’। সে জন্য যা যা খেতে হবে, সেসব পণ্যও চলে এসেছে বাজারে। তাদের গায়ে বড় বড় হরফে ‘প্রোটিন’ ট্যাগও লাগানো আছে। প্রোটিন শেক থেকে এনার্জি ড্রিংক— সর্বত্র প্রোটিন জাতীয় খাদ্যদ্রব্যের ছড়াছড়ি। 

এমনকি প্রোটিনসমৃদ্ধ পানিও পাওয়া যায় এখন বাজারে। আলিয়া বলেন, ছোটবেলায় প্রোটিন নিয়ে এত কথা শুনতে হয়নি। বাড়িতে যা রান্না হতো তা খেয়েই সুস্থ ও নীরোগ থাকতাম। এখনকার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও প্রোটিন ডায়েট করার প্রয়োজন অনুভব করিনি। বরং ঘরোয়া হালকা খাবার খেয়েই ডায়েট করি আমি।

শুধু সালাদ কিংবা চিয়া বীজের মতো খাবার খেয়ে ডায়েট করা আলিয়া ভাটের ধাতে নেই। ডাল-ভাত কিংবা রুটি খেতেই পছন্দ করেন তিনি। সকালের জলখাবারে ওটস, ঘরে তৈরি পোহা ও অঙ্কুরিত ছোলার সালাদ খান। নানা রকম বাদামও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খান তিনি। সকাল সকাল ৩০ গ্রাম প্রোটিন খেতেই হবে— এমন ধারণায় বিশ্বাসী নন অভিনেত্রী। ক্যালোরির হিসাবে নয়; বরং পরিমাণ মেপে খাওয়াই তার ডায়েটের মূল মন্ত্র বলে জানান আলিয়া ভাট।

বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি হয় প্রোটিন। ২২টি থাকে তাতে, এর মধ্যে ৯টির বিরাট গুরুত্ব। কারণ শরীরে তারা তৈরি হয় না; গ্রহণ করতে হয় খাবারের মাধ্যমে৷ এদের বলে এসেনসিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড৷ আর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে পিওয়াইওয়াই ও জিএলপি–১ নামে দুটি হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে৷ তাদের প্রভাবে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে৷ বারবার খিদে পায় না। তাই প্রোটিন খাওয়ার এত চল বেড়েছে। কিন্তু প্রোটিন যেমন মাছ, মাংস, ডিম কিংবা বাজারচলতি নানা শেক, সাপ্লিমেন্ট বেশি খেয়ে যদি ভাত-রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট কম খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে শক্তিই তৈরি হবে না। 

শরীরের কাজ হলো কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পুড়িয়েই শক্তি বা ‘এনার্জি’ তৈরি করা। এই শক্তিই আসলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সচল ও সক্রিয় রাখে। যখন সঞ্চিত কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ফুরিয়ে যাবে, তখন শরীর শূন্য কার্ব বা নো কার্ব দশায় চলে যাবে। এমন অবস্থায় ওজন কমে গেলেও শরীরকে চালানোর মতো শক্তি থাকবে না। তখন আচমকা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে অথবা কিডনি ফেইলিওর হবে। দেখা দেবে হরমোনের গোলমালও। নারীর ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে, ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে যাবে এবং সন্তানধারণেও সমস্যা আসতে পারে।

অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের তিনবেলা খাবারের রুটিনে দেখা যায়, দুপুরে খুবই সাধারণ খাবার খেয়ে থাকেন তিনি। সেই মেন্যুতে ডাল-ভাত ও প্রচুর সবজি থাকে। সঙ্গে দইয়ের রায়তা। চিকেন কিংবা মাছ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খান। আর  বিকালে ভাজাভুজির বদলে বাদাম ও নানা রকম ফল থেকে থাকেন অভিনেত্রী। পিনাট বাটার দিয়ে তৈরি হালকা স্ন্যাক্সও খান মাঝে মধ্যে। এ ছাড়া রাতে গ্রিলড চিকেন, সবজির স্যুপ কিংবা চাল-ডাল মিশিয়ে খিচুড়িই পছন্দ আলিয়া ভাটের। আলাদা করে বাজারচলতি প্রোটিন শেক খান না; বরং ঘরে তৈরি ডাল, ডিম ও পনির থেকেই ভরপুর প্রোটিন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

বিষয় : স্বাস্থ্য অভিনেত্রী আলিয়া ভাট

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


সব খাবারেই প্রোটিন থাকতে হবে এমন ধারণা ভুল: আলিয়া ভাট

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট বর্তমানে অতিরিক্ত ‘প্রোটিন-প্রোটিন’ ট্রেন্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললে জানিয়ে দেন তার আসল পুষ্টি বাজারচলতি সাপ্লিমেন্টে নয়; বরং শৈশবের সাধারণ ঘরোয়া খাবারেই রয়েছে। সম্প্রতি বোন শাহীন ভাটের পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন— প্রোটিন ডায়েটের নামে অতিরিক্ত মাতামাতি শরীরের ক্ষতি করছে। ডাল-ভাত, রুটি, সবজি, মাছ কিংবা ডিমের মতো সাদামাটা খাবারই আপনার শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য যথেষ্ট।

আলিয়া ভাট বলেন, প্রোটিন খেয়ে ওজন কমানোর হিড়িক হালফিলের অভ্যাস। আগে বাড়ির তৈরি খাবার খেয়েই ভালো থাকতেন মানুষ। ভাতের সঙ্গে ডাল-সবজি, রুটি খেলেও তার সঙ্গে ডাল, তরকারি আর মাছ অথবা মাংসের কোনো একটি আমিষ পাতে থাকত। তা থেকেই আসত ভরপুর প্রোটিন, ভিটামিন ও ফাইবার। আলাদা করে ‘প্রোটিন ডায়েট’ করার প্রয়োজন হতো না।

কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রোটিন নিয়ে এত মাতামাতি দেখে ক্লান্ত বলে জানান আলিয়া ভাট। অভিনেত্রী বলেন, সব খাবারেই প্রোটিন থাকতে হবে এমন ধারণা ভুল। অতিরিক্ত প্রোটিনে আসক্তি শরীরের ক্ষতিই করছে। তার চেয়ে ঘরোয়া খাবার থেকেই ভরপুর পুষ্টি পাবে আপনার শরীর। 

আরও পড়ুনআরও পড়ুনব্লুটুথ হেডফোন কি মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর, যা বলছে বিজ্ঞান

তিনি বলেন, শুধু মাছ, মাংস খেয়ে ওজন কমানোর যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা ইউরোপ-আমেরিকায় বহু আগেই শুরু হয়েছে। এখন এ দেশেও হচ্ছে। এ ধরনের ডায়েটের নাম দেওয়া হয়েছে— ‘হাই-প্রোটিন ডায়েট’ বা ‘প্রোটিন ডায়েট’। সে জন্য যা যা খেতে হবে, সেসব পণ্যও চলে এসেছে বাজারে। তাদের গায়ে বড় বড় হরফে ‘প্রোটিন’ ট্যাগও লাগানো আছে। প্রোটিন শেক থেকে এনার্জি ড্রিংক— সর্বত্র প্রোটিন জাতীয় খাদ্যদ্রব্যের ছড়াছড়ি। 

এমনকি প্রোটিনসমৃদ্ধ পানিও পাওয়া যায় এখন বাজারে। আলিয়া বলেন, ছোটবেলায় প্রোটিন নিয়ে এত কথা শুনতে হয়নি। বাড়িতে যা রান্না হতো তা খেয়েই সুস্থ ও নীরোগ থাকতাম। এখনকার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও প্রোটিন ডায়েট করার প্রয়োজন অনুভব করিনি। বরং ঘরোয়া হালকা খাবার খেয়েই ডায়েট করি আমি।

শুধু সালাদ কিংবা চিয়া বীজের মতো খাবার খেয়ে ডায়েট করা আলিয়া ভাটের ধাতে নেই। ডাল-ভাত কিংবা রুটি খেতেই পছন্দ করেন তিনি। সকালের জলখাবারে ওটস, ঘরে তৈরি পোহা ও অঙ্কুরিত ছোলার সালাদ খান। নানা রকম বাদামও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খান তিনি। সকাল সকাল ৩০ গ্রাম প্রোটিন খেতেই হবে— এমন ধারণায় বিশ্বাসী নন অভিনেত্রী। ক্যালোরির হিসাবে নয়; বরং পরিমাণ মেপে খাওয়াই তার ডায়েটের মূল মন্ত্র বলে জানান আলিয়া ভাট।

বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি হয় প্রোটিন। ২২টি থাকে তাতে, এর মধ্যে ৯টির বিরাট গুরুত্ব। কারণ শরীরে তারা তৈরি হয় না; গ্রহণ করতে হয় খাবারের মাধ্যমে৷ এদের বলে এসেনসিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড৷ আর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে পিওয়াইওয়াই ও জিএলপি–১ নামে দুটি হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে৷ তাদের প্রভাবে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে৷ বারবার খিদে পায় না। তাই প্রোটিন খাওয়ার এত চল বেড়েছে। কিন্তু প্রোটিন যেমন মাছ, মাংস, ডিম কিংবা বাজারচলতি নানা শেক, সাপ্লিমেন্ট বেশি খেয়ে যদি ভাত-রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট কম খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে শক্তিই তৈরি হবে না। 

শরীরের কাজ হলো কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পুড়িয়েই শক্তি বা ‘এনার্জি’ তৈরি করা। এই শক্তিই আসলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সচল ও সক্রিয় রাখে। যখন সঞ্চিত কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ফুরিয়ে যাবে, তখন শরীর শূন্য কার্ব বা নো কার্ব দশায় চলে যাবে। এমন অবস্থায় ওজন কমে গেলেও শরীরকে চালানোর মতো শক্তি থাকবে না। তখন আচমকা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে অথবা কিডনি ফেইলিওর হবে। দেখা দেবে হরমোনের গোলমালও। নারীর ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে, ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে যাবে এবং সন্তানধারণেও সমস্যা আসতে পারে।

অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের তিনবেলা খাবারের রুটিনে দেখা যায়, দুপুরে খুবই সাধারণ খাবার খেয়ে থাকেন তিনি। সেই মেন্যুতে ডাল-ভাত ও প্রচুর সবজি থাকে। সঙ্গে দইয়ের রায়তা। চিকেন কিংবা মাছ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খান। আর  বিকালে ভাজাভুজির বদলে বাদাম ও নানা রকম ফল থেকে থাকেন অভিনেত্রী। পিনাট বাটার দিয়ে তৈরি হালকা স্ন্যাক্সও খান মাঝে মধ্যে। এ ছাড়া রাতে গ্রিলড চিকেন, সবজির স্যুপ কিংবা চাল-ডাল মিশিয়ে খিচুড়িই পছন্দ আলিয়া ভাটের। আলাদা করে বাজারচলতি প্রোটিন শেক খান না; বরং ঘরে তৈরি ডাল, ডিম ও পনির থেকেই ভরপুর প্রোটিন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৬ পরিবেশ কন্ঠ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত