পরিবেশ কন্ঠ

সোনারগাঁয়ে চাকদা ড্রেজিং প্রকল্প ঘিরে নানা অভিযোগ, মোমেন শিকদার ও সোহেলকে নিয়ে প্রশ্ন



সোনারগাঁয়ে চাকদা ড্রেজিং প্রকল্প ঘিরে নানা অভিযোগ, মোমেন শিকদার ও সোহেলকে নিয়ে প্রশ্ন
সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার গ্রামে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘চাকদা ড্রেজিং প্রকল্প’ নামে দুটি ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে মোমেন শিকদার ও হাড়িয়ার সোহেল নামের দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মেঘনা নদীর নাব্যতা রক্ষার কথা বলা হলেও প্রকল্পটির আড়ালে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগে নদীতীরবর্তী জনবসতি ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ড্রেজার সরিয়ে নেওয়া এবং বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধন করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে এসব কর্মসূচির পরও বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রকল্পটির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়েছে। অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি বালু উত্তোলন এবং রাতের বেলায় নদী থেকে বালু তোলার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে আনন্দবাজার এলাকাকে স্থানীয়রা একটি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, অতীতে ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখানে বড় ধরনের বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তারা।

ড্রেজিং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকায় একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চাকদা ড্রেজিং প্রকল্পের দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে কার্যক্রমটি কতদিন বন্ধ থাকবে এবং পরবর্তীতে আবার বালু উত্তোলন শুরু হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, মোমেন শিকদার ও সোহেল অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এসব রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় দলের ওপর বর্তানো উচিত নয়। তাদের দাবি, ড্রেজিং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ দ্রুত নিরসন করা না হলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ড্রেজিং প্রকল্পের নামে মেঘনা নদী থেকে কী পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়েছে, প্রকল্পটির অনুমোদন ও কার্যক্রমের বৈধতা কী এবং এর পেছনে কারা রয়েছেন—এসব বিষয় যথাযথভাবে তদন্ত করা হচ্ছে কি না।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকল্পটির অনুমোদন, বালু উত্তোলনের পরিমাণ ও কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে নদীর তীর ও জনবসতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


সোনারগাঁয়ে চাকদা ড্রেজিং প্রকল্প ঘিরে নানা অভিযোগ, মোমেন শিকদার ও সোহেলকে নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার গ্রামে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘চাকদা ড্রেজিং প্রকল্প’ নামে দুটি ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে মোমেন শিকদার ও হাড়িয়ার সোহেল নামের দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মেঘনা নদীর নাব্যতা রক্ষার কথা বলা হলেও প্রকল্পটির আড়ালে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগে নদীতীরবর্তী জনবসতি ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ড্রেজার সরিয়ে নেওয়া এবং বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধন করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে এসব কর্মসূচির পরও বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রকল্পটির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়েছে। অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি বালু উত্তোলন এবং রাতের বেলায় নদী থেকে বালু তোলার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে আনন্দবাজার এলাকাকে স্থানীয়রা একটি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, অতীতে ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখানে বড় ধরনের বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তারা।

ড্রেজিং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকায় একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চাকদা ড্রেজিং প্রকল্পের দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে কার্যক্রমটি কতদিন বন্ধ থাকবে এবং পরবর্তীতে আবার বালু উত্তোলন শুরু হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, মোমেন শিকদার ও সোহেল অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এসব রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় দলের ওপর বর্তানো উচিত নয়। তাদের দাবি, ড্রেজিং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ দ্রুত নিরসন করা না হলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ড্রেজিং প্রকল্পের নামে মেঘনা নদী থেকে কী পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়েছে, প্রকল্পটির অনুমোদন ও কার্যক্রমের বৈধতা কী এবং এর পেছনে কারা রয়েছেন—এসব বিষয় যথাযথভাবে তদন্ত করা হচ্ছে কি না।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকল্পটির অনুমোদন, বালু উত্তোলনের পরিমাণ ও কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে নদীর তীর ও জনবসতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ