পরিবেশ কন্ঠ

১৩ দিনেই রেমিট্যান্সে ১৭ হাজার কোটি টাকা


প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

১৩ দিনেই রেমিট্যান্সে ১৭ হাজার কোটি টাকা
১৩ দিনে দেশে ১৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত

বিগত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৬.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি; দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বইছে স্বস্তির হাওয়া।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনেই প্রবাসীরা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ১৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকারও বেশি। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আসায় জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ১৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে একটি ইতিবাচক ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ১ জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৭২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অংকটি ছিল ৬২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে দেখা যাচ্ছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ১৬.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি এবং ডলারের প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার প্রবাসীদের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করছে। এছাড়া হুন্ডির মতো অবৈধ পথ পরিহার করে বৈধভাবে অর্থ পাঠানোর জন্য সরকারের প্রচারণাও ফলপ্রসূ হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়বে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর। গত কয়েক মাস ধরে রিজার্ভের সংকটে ভুগতে থাকা অর্থনীতির জন্য এই প্রবাহ একটি বড় ধরনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। আমদানি ব্যয় মেটানো এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত প্রবাসীদের এই অসামান্য অবদান দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে পুনরায় স্থিতিশীল করতে পথ দেখাচ্ছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৩ দিনেই রেমিট্যান্সে ১৭ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিগত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৬.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি; দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বইছে স্বস্তির হাওয়া।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনেই প্রবাসীরা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ১৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকারও বেশি। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আসায় জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ১৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে একটি ইতিবাচক ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ১ জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৭২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অংকটি ছিল ৬২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে দেখা যাচ্ছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ১৬.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি এবং ডলারের প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার প্রবাসীদের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করছে। এছাড়া হুন্ডির মতো অবৈধ পথ পরিহার করে বৈধভাবে অর্থ পাঠানোর জন্য সরকারের প্রচারণাও ফলপ্রসূ হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়বে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর। গত কয়েক মাস ধরে রিজার্ভের সংকটে ভুগতে থাকা অর্থনীতির জন্য এই প্রবাহ একটি বড় ধরনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। আমদানি ব্যয় মেটানো এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত প্রবাসীদের এই অসামান্য অবদান দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে পুনরায় স্থিতিশীল করতে পথ দেখাচ্ছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ