পরিবেশ কন্ঠ

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর


প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যবসায়ীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল চালুর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের শিল্প-কারখানাগুলোতে বিদ্যমান গ্যাস সংকট কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের আশার বাণী শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, মঙ্গলবারের মধ্যে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রায় তিন ঘণ্টার এই দীর্ঘ আলোচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং তা উত্তরণে সরকারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান জ্বালানি সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, এই ধরনের জটিল সমস্যা রাতারাতি কিংবা ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার বসে নেই; সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে তা সমাধানের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের স্তরে রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ যে বিঘ্নিত হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে সারিয়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এক-দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যেন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ নষ্ট না করে, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পথরেখা নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং সরকারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার সমস্যা আড়াল না করে বরং তা খোলামেলাভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরেছে যাতে সবাই সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশের প্রধান প্রধান ব্যবসায়িক চেম্বারের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যবসায়ীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল চালুর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের শিল্প-কারখানাগুলোতে বিদ্যমান গ্যাস সংকট কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের আশার বাণী শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, মঙ্গলবারের মধ্যে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রায় তিন ঘণ্টার এই দীর্ঘ আলোচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং তা উত্তরণে সরকারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান জ্বালানি সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, এই ধরনের জটিল সমস্যা রাতারাতি কিংবা ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার বসে নেই; সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে তা সমাধানের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের স্তরে রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ যে বিঘ্নিত হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে সারিয়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এক-দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যেন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ নষ্ট না করে, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পথরেখা নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং সরকারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার সমস্যা আড়াল না করে বরং তা খোলামেলাভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরেছে যাতে সবাই সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশের প্রধান প্রধান ব্যবসায়িক চেম্বারের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ