মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় টেন্ডার বাতিলে বড় আর্থিক লোকসানে পেট্রোবাংলা, গ্যাস সংকট কাটার আভাস ১০ সেপ্টেম্বরের পর
দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। তবে কম দামে কেনার প্রত্যাশায় পূর্বের দরপত্র বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করতে গিয়ে রাষ্ট্রকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ১২৩ কোটি টাকা। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার এই আমদানির প্রস্তাব পাস হয়।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম নিম্নমুখী হওয়ার আশায় গত সোমবারের একটি টেন্ডার বাতিল করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আকস্মিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নতুন দরপত্রে উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। আগের দরপত্রে প্রতি ইউনিটের দাম যেখানে ২৫ দশমিক ৫০ থেকে ২৫ দশমিক ৬২ ডলারের মধ্যে ছিল, সেখানে নতুন দরপত্রে তা ২৭ দশমিক ৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুটি কার্গোতেই সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় এক কোটি ডলার বা ১২৩ কোটি টাকা।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ২৩ দশমিক ৯৮ ডলার দরে এক কার্গো এলএনজি আসবে। এছাড়া স্পট মার্কেট থেকে কেনা আরও ৩টি কার্গো সেপ্টেম্বরের শেষ এবং অক্টোবরের শুরুতে দেশে পৌঁছাবে। এর মধ্যে বিপি সিঙ্গাপুর ও ভিটল এশিয়া থেকে কেনা কার্গোগুলোর আমদানি ব্যয় হবে ৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারের সঠিক পূর্বাভাস এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের অভাবে এই বিশাল অঙ্কের গচ্চা সরকারের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
তবে এই দুঃসংবাদের মাঝেও গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, আমদানিকৃত এই এলএনজি দেশে পৌঁছালে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের পর গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, বর্তমানে সারা দেশে দৈনিক ২৩৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা আমদানিকৃত গ্যাস যুক্ত হওয়ার পর ২৪৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত গত জুলাই মাসে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল, যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, জনস্বার্থেই কম দামে গ্যাস কেনার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বাজারের পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তনই এই লোকসানের মূল কারণ। আপাতত আবাসিক ও শিল্প খাতে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মধ্য সেপ্টেম্বর নাগাদ লোডশেডিং এবং গ্যাস সংকটের তীব্রতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় টেন্ডার বাতিলে বড় আর্থিক লোকসানে পেট্রোবাংলা, গ্যাস সংকট কাটার আভাস ১০ সেপ্টেম্বরের পর
দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। তবে কম দামে কেনার প্রত্যাশায় পূর্বের দরপত্র বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করতে গিয়ে রাষ্ট্রকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ১২৩ কোটি টাকা। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার এই আমদানির প্রস্তাব পাস হয়।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম নিম্নমুখী হওয়ার আশায় গত সোমবারের একটি টেন্ডার বাতিল করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আকস্মিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নতুন দরপত্রে উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। আগের দরপত্রে প্রতি ইউনিটের দাম যেখানে ২৫ দশমিক ৫০ থেকে ২৫ দশমিক ৬২ ডলারের মধ্যে ছিল, সেখানে নতুন দরপত্রে তা ২৭ দশমিক ৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুটি কার্গোতেই সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় এক কোটি ডলার বা ১২৩ কোটি টাকা।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ২৩ দশমিক ৯৮ ডলার দরে এক কার্গো এলএনজি আসবে। এছাড়া স্পট মার্কেট থেকে কেনা আরও ৩টি কার্গো সেপ্টেম্বরের শেষ এবং অক্টোবরের শুরুতে দেশে পৌঁছাবে। এর মধ্যে বিপি সিঙ্গাপুর ও ভিটল এশিয়া থেকে কেনা কার্গোগুলোর আমদানি ব্যয় হবে ৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারের সঠিক পূর্বাভাস এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের অভাবে এই বিশাল অঙ্কের গচ্চা সরকারের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
তবে এই দুঃসংবাদের মাঝেও গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, আমদানিকৃত এই এলএনজি দেশে পৌঁছালে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের পর গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, বর্তমানে সারা দেশে দৈনিক ২৩৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা আমদানিকৃত গ্যাস যুক্ত হওয়ার পর ২৪৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত গত জুলাই মাসে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল, যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, জনস্বার্থেই কম দামে গ্যাস কেনার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বাজারের পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তনই এই লোকসানের মূল কারণ। আপাতত আবাসিক ও শিল্প খাতে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মধ্য সেপ্টেম্বর নাগাদ লোডশেডিং এবং গ্যাস সংকটের তীব্রতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন