পরিবেশ কন্ঠ

ঢাকায় সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে দিল না পুলিশ


প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ঢাকায় সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে দিল না পুলিশ
সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ধানমন্ডিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। এ সময় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও নাট্যকর্মী দীপক শীলকে আটক করে পুলিশ। তাকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান অন্য সংস্কৃতিকর্মীরাও।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাউলগানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা এবং শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানোর কথা ছিল। আয়োজকদের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘তৌহিদি জনতা’র নামে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে হামলা ও বাধার প্রতিবাদে তারা মানববন্ধনের আয়োজন করেছিলেন।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকেই ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় শতাধিক পুলিশ সদস্যকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। বিকেল চারটার দিকে মীনা বাজারের সামনে কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী জড়ো হলে তাদের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়।

এ সময় নাট্যকর্মী সুমনা ইসলাম পুলিশের কাছে জানতে চান, সেখানে মানববন্ধন করা যাবে কি না। তার সঙ্গে থাকা দীপক শীলের সঙ্গেও পুলিশের কথা হয়। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। মানববন্ধনে যেন কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগান দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তারা।

পুলিশ কর্মকর্তারা এ সময় বলেন, এর আগে ওই স্থানে একটি মানববন্ধনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। জবাবে দীপক শীল বলেন, ‘কেন, জয় বাংলা স্লোগান কি নষ্ট হয়ে গেছে নাকি। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ও তো এই স্লোগান দিয়েছি।’

এরপর পুলিশ তার পরিচয় জানতে চায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে দীপক শীলকে আটক করে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।

দীপককে আটকানোর চেষ্টা করেন সুমনা ইসলাম। তার অভিযোগ, এ সময় পুলিশ তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে এবং টানাহেঁচড়া করে। কোনো কারণ ছাড়াই দীপককে আটক করা হয়েছে দাবি করে তিনি অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করে

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, পুলিশ তাদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও স্লোগান দিতে নিষেধ করেছিল। এর জবাবে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন। পরে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে একজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়।

পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও দীপক শীলকে আটকের পর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে সেখানে উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিল, ‘মৌলবাদীদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘সংস্কৃতির ওপর হামলা, ঘুরে দাঁড়াও বাংলা’ এবং ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’।

কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক ফারুক এইচ খান বলেন, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিও যদি সহ্য করা না হয়, তাহলে সংস্কৃতিকর্মীদের সামনে আর কী করার থাকে। তার অভিযোগ, সারা দেশেই বাউল ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ চলছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

পুলিশের বাধা ও দীপক শীলকে আটকের ঘটনার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সংস্কৃতিকর্মীরা ওই এলাকা ছেড়ে যান।

বিষয় : নারী সারাদেশ সুনামগঞ্জ বাউল

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


ঢাকায় সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে দিল না পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ধানমন্ডিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। এ সময় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও নাট্যকর্মী দীপক শীলকে আটক করে পুলিশ। তাকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান অন্য সংস্কৃতিকর্মীরাও।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাউলগানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা এবং শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানোর কথা ছিল। আয়োজকদের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘তৌহিদি জনতা’র নামে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে হামলা ও বাধার প্রতিবাদে তারা মানববন্ধনের আয়োজন করেছিলেন।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকেই ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় শতাধিক পুলিশ সদস্যকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। বিকেল চারটার দিকে মীনা বাজারের সামনে কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী জড়ো হলে তাদের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়।

এ সময় নাট্যকর্মী সুমনা ইসলাম পুলিশের কাছে জানতে চান, সেখানে মানববন্ধন করা যাবে কি না। তার সঙ্গে থাকা দীপক শীলের সঙ্গেও পুলিশের কথা হয়। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। মানববন্ধনে যেন কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগান দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তারা।

পুলিশ কর্মকর্তারা এ সময় বলেন, এর আগে ওই স্থানে একটি মানববন্ধনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। জবাবে দীপক শীল বলেন, ‘কেন, জয় বাংলা স্লোগান কি নষ্ট হয়ে গেছে নাকি। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ও তো এই স্লোগান দিয়েছি।’

এরপর পুলিশ তার পরিচয় জানতে চায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে দীপক শীলকে আটক করে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।

দীপককে আটকানোর চেষ্টা করেন সুমনা ইসলাম। তার অভিযোগ, এ সময় পুলিশ তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে এবং টানাহেঁচড়া করে। কোনো কারণ ছাড়াই দীপককে আটক করা হয়েছে দাবি করে তিনি অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করে

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, পুলিশ তাদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও স্লোগান দিতে নিষেধ করেছিল। এর জবাবে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন। পরে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে একজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়।

পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও দীপক শীলকে আটকের পর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে সেখানে উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিল, ‘মৌলবাদীদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘সংস্কৃতির ওপর হামলা, ঘুরে দাঁড়াও বাংলা’ এবং ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’।

কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক ফারুক এইচ খান বলেন, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিও যদি সহ্য করা না হয়, তাহলে সংস্কৃতিকর্মীদের সামনে আর কী করার থাকে। তার অভিযোগ, সারা দেশেই বাউল ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ চলছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

পুলিশের বাধা ও দীপক শীলকে আটকের ঘটনার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সংস্কৃতিকর্মীরা ওই এলাকা ছেড়ে যান।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ