পরিবেশ কন্ঠ

নবীগঞ্জে হাজতে ছাত্রলীগ নেতার স্লোগানের ভিডিও, এসআই ও কনস্টেবল প্রত্যাহার


প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নবীগঞ্জে হাজতে ছাত্রলীগ নেতার স্লোগানের ভিডিও, এসআই ও কনস্টেবল প্রত্যাহার
গ্রেপ্তারকৃত তপু ও জুয়েল। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানা হাজতে থাকা অবস্থায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা শাহ তপুর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক নারী কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন থানার ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও নারী কনস্টেবল আফসানা মিমি।

আজ শনিবার দুপুরে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে শাহ তপুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের শাহ ফিরোজ মিয়ার ছেলে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে নবীগঞ্জ থানায় নিয়ে হাজতে রাখা হয়।

পরে হাজতে থাকা শাহ তপুকে পানি দিতে যান একই গ্রামের শাহ শুকুর আলীর ছেলে শাহ জুয়েল। এ সময় তিনি নিজের মোবাইল ফোনে কৌশলে শাহ তপুর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিওতে শাহ তপুকে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

গতকাল ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থানা হাজতের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। হাজতের মতো একটি নিয়ন্ত্রিত স্থানে কীভাবে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও ধারণ করা সম্ভব হলো এবং সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের নজরদারিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণকারী শাহ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও নারী কনস্টেবল আফসানা মিমিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় শাহ তপু নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। এ সময় জুয়েল তাঁকে পানি দিতে যান। একপর্যায়ে তিনি কৌশলে শাহ তপুর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে তা বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় জুয়েলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও নারী কনস্টেবল আফসানা মিমিকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার অন্যান্য দিক নিয়ে তদন্ত চলছে।

বিষয় : ছাত্রলীগ সিলেট বিভাগ নবীগঞ্জ এসআই কনস্টেবল হবিগঞ্জ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


নবীগঞ্জে হাজতে ছাত্রলীগ নেতার স্লোগানের ভিডিও, এসআই ও কনস্টেবল প্রত্যাহার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানা হাজতে থাকা অবস্থায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা শাহ তপুর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক নারী কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন থানার ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও নারী কনস্টেবল আফসানা মিমি।

আজ শনিবার দুপুরে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে শাহ তপুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের শাহ ফিরোজ মিয়ার ছেলে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে নবীগঞ্জ থানায় নিয়ে হাজতে রাখা হয়।

পরে হাজতে থাকা শাহ তপুকে পানি দিতে যান একই গ্রামের শাহ শুকুর আলীর ছেলে শাহ জুয়েল। এ সময় তিনি নিজের মোবাইল ফোনে কৌশলে শাহ তপুর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিওতে শাহ তপুকে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

গতকাল ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থানা হাজতের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। হাজতের মতো একটি নিয়ন্ত্রিত স্থানে কীভাবে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও ধারণ করা সম্ভব হলো এবং সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের নজরদারিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণকারী শাহ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও নারী কনস্টেবল আফসানা মিমিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় শাহ তপু নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। এ সময় জুয়েল তাঁকে পানি দিতে যান। একপর্যায়ে তিনি কৌশলে শাহ তপুর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে তা বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় জুয়েলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও নারী কনস্টেবল আফসানা মিমিকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার অন্যান্য দিক নিয়ে তদন্ত চলছে।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ