গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক বিক্ষোভ দমনে লাঠিচার্জের পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে পাঁচজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দাবিতে কদিন ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামের ওই কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলে তারা রাস্তায় নেমে আসেন। শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড বহেরারচালা এলাকায় ওই গার্মেন্ট অবস্থিত। সকালে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। এ সময় ফটকের বাইরে পুলিশের পাহারা ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। সকাল ৯টার দিকে তারা কারখানার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১ দিনের ছুটি, চলতি মে মাসের পূর্ণ বেতন, ওভারটাইম বিল পরিশোধ এবং কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণসহ বেশ কিছু দাবিতে তারা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন। গত
বুধবার কারখানা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা কাজে ফেরেন। গতকাল সকালে কাজে এসে কারখানা বন্ধ ঘোষণার নোটিশ এবং বাইরে পুলিশ দেখে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বিক্ষোভের খবর পেয়ে শিল্প ও থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পাঁচজন শ্রমিক আহত হন। আলমগীর হোসেন নামে এক শ্রমিক জানান, সকালে কাজে যোগ দিতে এসে কারখানার ফটকে ঝোলানো নোটিশ দেখে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পুলিশ এলে এক পর্যায় তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে শ্রমিকরা। পরে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। ২ ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
আব্দুল হক নামে এক শ্রমিক জানান, তারা মে মাসের পুরো বেতন ও ১১ দিনের ছুটিসহ বিভিন্ন দাবি পেশ করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ ১১ দিনের দাবি মেনে নেয়। তবে শুক্রবার কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করে। এতে শ্রমিকরা রাজিও হন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে কারখানার সামনে এসে দেখতে পান বন্ধের নোটিশ। একই সঙ্গে ছিল পুলিশের পাহারা। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, পুলিশের উপস্থিতি দেখেই শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এক সময় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৭টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৪টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
বিষয় : পুলিশ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক বিক্ষোভ দমনে লাঠিচার্জের পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে পাঁচজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দাবিতে কদিন ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামের ওই কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলে তারা রাস্তায় নেমে আসেন। শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড বহেরারচালা এলাকায় ওই গার্মেন্ট অবস্থিত। সকালে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। এ সময় ফটকের বাইরে পুলিশের পাহারা ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। সকাল ৯টার দিকে তারা কারখানার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১ দিনের ছুটি, চলতি মে মাসের পূর্ণ বেতন, ওভারটাইম বিল পরিশোধ এবং কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণসহ বেশ কিছু দাবিতে তারা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন। গত
বুধবার কারখানা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা কাজে ফেরেন। গতকাল সকালে কাজে এসে কারখানা বন্ধ ঘোষণার নোটিশ এবং বাইরে পুলিশ দেখে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বিক্ষোভের খবর পেয়ে শিল্প ও থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পাঁচজন শ্রমিক আহত হন। আলমগীর হোসেন নামে এক শ্রমিক জানান, সকালে কাজে যোগ দিতে এসে কারখানার ফটকে ঝোলানো নোটিশ দেখে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পুলিশ এলে এক পর্যায় তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে শ্রমিকরা। পরে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। ২ ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
আব্দুল হক নামে এক শ্রমিক জানান, তারা মে মাসের পুরো বেতন ও ১১ দিনের ছুটিসহ বিভিন্ন দাবি পেশ করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ ১১ দিনের দাবি মেনে নেয়। তবে শুক্রবার কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করে। এতে শ্রমিকরা রাজিও হন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে কারখানার সামনে এসে দেখতে পান বন্ধের নোটিশ। একই সঙ্গে ছিল পুলিশের পাহারা। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, পুলিশের উপস্থিতি দেখেই শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এক সময় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৭টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৪টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন